
শেষ আপডেট: 21 November 2023 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাতারের বিরুদ্ধে প্রি-ওয়ার্ল্ড কাপের ম্যাচে জিততে পারল না ভারতীয় দল। তাদের হার ০-৩ গোলে। গত ম্যাচে কুয়েতকে হারানোর পরে ভাবা গিয়েছিল, এই ম্যাচেও হয়তো অঘটন ঘটাবেন ভারতীয় দলের ফুটবলাররা। কিন্তু আবারও সাধারণ দল হিসেবে নিজেদের প্রকাশ ঘটাল ইগর স্টিম্যাশের প্রশিক্ষণাধীন দল।
মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করেছে ভারতীয় দল। ম্যাচের চার মিনিটের মাথায় বিজয়ী দলের গোল করেছেন মোস্তাফা তারেক মোশাল। ভারতের কমজোরি ডিফেন্সের কারণে গোলটা হয়েছে। আসিফ আক্রমের কর্ণার আগেই ক্লিয়ার করে দেওয়া উচিত ছিল। কাতারের হয়ে বাকি দুটি গোল করেছেন আলমোয়েজ আলি ও ইউসুফ।
ফিফা ক্রম তালিকায় কাতার রয়েছে ৬১তম স্থানে, আর ভারত রয়েছে ১০২তম স্থানে। সেদিক থেকে অসম লড়াই বলা চলে। কিন্তু এর আগে কাতারকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে ভারতীয় দলের। সেই কারণেই ভাবা গিয়েছিল এদিনও অন্য কিছু ঘটতেই পারে। কিন্তু ভারতের খেলায় সমর্থকরা হতাশ। কোনও দিশা চোখে পড়েনি।
গতকালই সোমবার ভারতে এসেছেন বিখ্যাত ফুটবল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। তিনি ভারতীয় ফুটবলকে সোনার খনি বলেছিলেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এরকম ফল হতে পারে, সেটি ভাবা যায়নি। ভুবনেশ্বরের মাঠে ভারতীয় দলের এই ম্যাচটি দেখতে হাজির ছিলেন ওয়েঙ্গার। এই প্রাক্তন আর্সেনাল কোচও হতাশ ভারতীয় দলের এমন খেলা দেখে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, ভুবনেশ্বরে ঘরের মাঠে ভারতীয় দলকে সমর্থনের জন্য এসেছিলেন মোট বারো হাজার দর্শক। কিন্তু তাঁদেরও হতাশ করলেন সুনীলরা। এদিন আবার সিনিয়র গোলরক্ষক গুরপ্রিৎ সিং সাঁধুকে খেলাননি কোচ। তাঁর পরিবর্তে খেলেন অমরিন্দর সিং। তিনি দুটি গোলের ক্ষেত্রে লাইনে ছিলেন না।
কোচ ম্যাচের শেষ আট মিনিট আগে দলের অধিনায়ক সুনীল ও ছাংতেকে তুলে নেন। তাঁর বদলে মাঠে নামান ঈশান পান্ডিতা ও রাহুল কেপিকে। তাতেও কাজ হয়নি। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপাকে তুলে আবদুল সাহাল সামাদকে নামান কোচ। তারপরে খেলায় প্রাণ আসে। সাহাল তার মধ্যে একটি সহজ সুযোগ মিস করেছেন। সেটি থেকে গোল হয়ে গেলে খেলায় ফিরতে পারত ভারতীয় দল। বরং কাতারের হয়ে ৮৬ মিনিটে ইউসুফ গোল করে দলের জয়কে নিশ্চিত করেছেন। সেইসময় ভারতীয় ডিফেন্ডাররা উপরে উঠে গিয়েছিলেন।
কাতারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল প্রথমার্ধের শেষ দশ মিনিট ভাল খেলেছে। সেইসময় কাতার দুর্গও কেঁপে গিয়েছিল। সেই চাপটা আর বিরতির পরে ধরে রাখতে পারেননি সুনীলরা। বরং কাতার কেন এশিয়ার বুকে শক্তিশালী ফুটবল খেলিয়ে দেশ হিসেবে উঠে আসছে, সেটি ফের প্রমাণ করেছে।