এমন কৃতিত্ব আজ পর্যন্ত আর কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের নেই। ফলে অভিষেকের নাম উঠল বিশেষ রেকর্ডবুকে।

অভিষেক শর্মা
শেষ আপডেট: 22 September 2025 00:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান (Ind Vs Pak Asia Cup 2025) ম্যাচ মানেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু রবিবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫ সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ব্যাট হাতে লিখে দিলেন নতুন ইতিহাস। ইনিংসের প্রথম বলেই পাকিস্তানের স্পিডস্টার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ছক্কায় উড়িয়ে দিয়ে তিনি হয়ে গেলেন ভারতের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি দুই বার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকালেন।
রবিবার ১৭২ রানের টার্গেটে নামা ভারতকে শুরুটা দারুণ এনে দেন অভিষেক। আফ্রিদির করা প্রথম বলেই সোজা লং-অন বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠান তিনি। এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর একই টুর্নামেন্টে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতের ইনিংসের প্রথম বলকেও ছক্কা হেঁকে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছিলেন তিনি।
এমন কৃতিত্ব আজ পর্যন্ত আর কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের নেই। ফলে অভিষেকের নাম উঠল বিশেষ রেকর্ডবুকে। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যান মোট চারজন—
রোহিত শর্মা: ২০২১ সালে আহমেদাবাদে ইংল্যান্ডের আদিল রশিদকে।
যশস্বী জয়সওয়াল: ২০২৪ সালে হারারে-তে জিম্বাবোয়ের সিকান্দার রাজার প্রথম বলেই।
সঞ্জু স্যামসন: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুম্বইয়ে ইংল্যান্ডের জোফ্রা আর্চারকে।
অভিষেক শর্মা: ২০২৫ সালে ইউএই-এর হায়দর আলি এবং এবার পাকিস্তানের শাহিন আফ্রিদিকে।
কিন্তু এই তালিকায় একমাত্র দু’বার নাম তুললেন অভিষেক শর্মা। আর তাই ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন তিনি।
শাহিন শাহ আফ্রিদির বিরুদ্ধেও নজির গড়েছেন অভিষেক শর্মা। রবিবারের ছক্কার আরেকটি বিশেষত্ব আছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শাহিন আফ্রিদি ৭০ বার প্রথম ওভার করেছেন। কিন্তু তাঁর বোলিংয়ের একেবারে প্রথম বলকেই ছক্কায় চুরমার করার নজির আজ পর্যন্ত ছিল না। আভিষেকই প্রথম এই কীর্তি গড়লেন।
ইনিংসের প্রথম বলেই শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ছক্কায় উড়িয়ে দেওয়ার পর তর্কে জড়ান অভিষেক। তিনি সরাসরি বলে ওঠেন, “চল বল ফেলে যা”। জানা গেছে, আফ্রিদিই প্রথমে কিছু বলে শর্মাকে উস্কে দেন। এরপর দু’জনের মধ্যে চোখাচোখি ও কথার লড়াই শুরু হয়। আফ্রিদি একাধিকবার নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়ানো অভিষেকের খুব কাছাকাছি চলে আসেন, যা স্পষ্টতই মানসিক খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা।
শুধু আভিষেক নন, তৃতীয় ওভারেই আফ্রিদিকে পরপর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুভমন গিলও যোগ দেন এই মৌখিক লড়াইয়ে। ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী গিলকে আফ্রিদি থামাতে পারেননি। বরং ভারতীয় দুই ওপেনার পাকিস্তানের প্ররোচনাকে পাল্টা আক্রমণের অস্ত্র বানিয়ে নেন।
পঞ্চম ওভারে হ্যারিস রউফ আভিষেককে টার্গেট করে কিছু বলেন। জবাবে শর্মা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। একের পর এক শট খেলে পাকিস্তানি পেসারকে চাপে ফেলে দেন। ফলে মানসিক খেলা উল্টে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই কাজে আসে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ঝোড়ো সূচনা করে। ফখর জামান শুরু থেকেই বুমরাহকে চাপে ফেলেন। তবে বিতর্কিত তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তাঁর ইনিংস দ্রুত শেষ হয়। সাহেবজাদা ফারহান দুর্দান্ত অর্ধশতরান করে দলকে এগিয়ে নিলেও মাঝের ওভারে ভারতের বোলাররা ম্যাচে ফিরে আসে। ১০ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ৯১, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ১৭১ রানে।
তবে এদিনের ম্যাচে অভিষেক যেন সমস্ত আলো শুষে নেন। মাত্র ৩৯ বলে ৭৪ করেন অভিষেক। তার মধ্যে ৬টি বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারি ছিল ৫টি। স্ট্রাইক রেট প্রায় ১৯০।