
আইএফএ-র সঙ্গে শ্রাচী গ্রুপের মৌ চুক্তি। মধ্য কলকাতার হোটেলে।
শেষ আপডেট: 18 May 2024 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা ফুটবলে নবজোয়ার। আইএফএ-র (ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) সঙ্গে শ্রাচী স্পোর্টস অ্যান্ড গ্রুপের ঐতিহাসিক মৌ চুক্তি শনিবার স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিবছরে আইএফএ-কে তারা দেবে আড়াই কোটি টাকা। তিন বছরে যার পরিমাণ সাড়ে সাত কোটি টাকা।
শনিবার দুপুর মধ্য কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে দুই সংস্থার মধ্যে চুক্তি হয়েছে। বাংলা ফুটবলের উন্নতির লক্ষ্যে শ্রাচী গ্রুপ এবার থেকে পাশে থাকবে। তাদের হয়ে ছিলেন কর্ণধার রাহুল টোডি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর তমাল ঘোষাল, এ কে সিংয়ের মতো আধিকারিকরা।
আইএফএ-র পক্ষে সচিব অনির্বাণ দত্ত জানিয়েছেন, কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ড এবং আইএফএ-র ফুটসলের শ্রাচী গ্রুপ পৃষ্টপোষকতা করবেন। আইএফএ কর্তারা নানা পরিকল্পনা দেবেন, সেটিকে বাস্তবায়িত করবে ওই গ্রুপ অব কোম্পানিজ। এমনকী বাংলা ফুটবলের লক্ষ্যে ৩০০ জন খুদে ফুটবলার নিয়ে একটি আধুনিকমানের আবাসিক অ্যাকাডেমি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, আইএফএ এর আগে ১৯৯৫ সালে ইএসপিএন-র সঙ্গে দশ বছরের জন্য (১৯৯৫-২০০৪) চুক্তি করেছিল। সেবার প্রতি বছরে চুক্তি হয়েছে এক কোটির বেশি, দশ বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা।
বাংলা ফুটবলে সাপ্লাইলাইন তৈরি হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। সেটি মাথায় রয়েছে বাংলা ফুটবলের কর্তাদের। আগে ভারতীয় দলে বাংলা থেকে মোট সাত-আটজন প্রতিনিধি থাকত। বর্তমানে জাতীয় দলে বাংলার প্রতিনিধি দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয়। সেই নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির থাকা প্রাক্তন ফুটবলার নামী গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, এগুলি রূপায়ণের জন্যই শ্রাচী গ্রুপের হাত ধরেছে আইএফএ। আমাদের লক্ষ্যই হবে ভবিষ্যতে বাংলা ফুটবল থেকে তারকা তুলে আনা।
আইএফএ-র চেয়ারম্যান তথা ফেডারেশনের প্রাক্তন সিনিয়র সহ সভাপতি সুব্রত দত্ত জানান, এই চুক্তির জন্য কলকাতা লিগ, শিল্ড কিংবা ফুটসলের সামগ্রিক উন্নতি হবে তাই নয়, বরং বাংলা ফুটবলের উন্নতিতে ব্যাপক সাড়া পড়বে।
অনুষ্ঠানে এদিন আইএফএ-র হাতে প্রাথমিক অর্থ ১১ লক্ষ টাকা চেক দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে তারা অর্থ দেবে। শুধু তাই নয়, কোচদের উন্নতির লক্ষ্যে বিদেশ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোচদের নিয়ে এসে বিশেষ ট্রেনিং কর্মসূচীও নেওয়া হবে। শ্রাচী গ্রুপের কর্ণধার রাহুল টোডি জানিয়েছেন, বাংলা ফুটবলে আজ থেকে নবজাগরণ ঘটেছে। আইএফএ শতাব্দীপ্রাচীন একটি সংস্থা, তাদের পাশে থেকে বাংলা ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি আমরা।
কলকাতা লিগে তিন প্রধানের মধ্যে শুধু মহামেডান স্পোর্টিং সিনিয়র দল খেলায়। বাকি দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল জুনিয়র দল নিয়ে খেলে। তাতে লিগ ও শিল্ডের পুরনো জৌলুস ফিকে হয়েছে। সেই নিয়ে আইএফএ সচিব বলেন, আমাদের কাছে বড় দল কিংবা ছোট দল অগ্রাধিকার নয়, আমাদের কাছে ভাল খেলা, আর মাঠে দর্শক আসছে কীনা সেটাই প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
লিগ, শিল্ডের খেলা সম্প্রচার স্বত্ত্ব, সেই ম্যাচগুলির ব্র্যান্ডিং, স্পনসর যাবতীয় বিষয়গুলি দেখবে শ্রাচী গ্রুপ, আর আইএফএ সেইগুলি নিয়ে নানা পরিকল্পনা করবে। এমনকী এই গ্রুপ কাজ করবে টেনিস, ব্যাডমিন্টনের উন্নতির লক্ষ্যেও। টেনিসের এই গ্রুপকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকেন কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজও।
এই অনুষ্ঠানে এছাড়াও হাজির ছিলেন আইএফএ-র চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত, সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন ক্রিকেটার শরদিন্দু মুখোপাধ্যায় ও নামী কোচ আবদুল মুনায়েম প্রমুখ।