
ক্রুণাল পান্ডিয়া
শেষ আপডেট: 8 April 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে (Wankhede Stadium) মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) সামনে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। যাকে ঘিরে দুই শিবিরের অনুরাগীদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। দানা বাঁধে একাধিক প্লট, সাব প্লট। একদিকে বিরাট (Virat Kohli), অন্যদিকে রোহিত (Rohit Sharma)। একদিকে বোল্ট, অন্যদিকে সল্ট। মারকাটারি দ্বৈরথের সমস্ত মালমশলা মজুত ছিল।
কিন্তু দিনের শেষে যে লড়াই আর সবকিছুকে ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এল তা হচ্ছে পান্ডিয়া বনাম পান্ডিয়া। একদিকে হার্দিক, অন্যদিকে ক্রুণাল। পান্ডিয়া ভ্রাতৃদ্বয়ের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন ক্রুণালই। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪৫ রান দিলেও তুলে নিলেন ৪ উইকেট। যার সুবাদে দীর্ঘ এক দশক বাদে আরব সাগরপার থেকে দু’পয়েন্ট নিয়ে ফিরল আরসিবি।
যদিও ম্যাচের নায়ক ক্রুণাল যুদ্ধ জিতেও পুরোপুরি খুশি নন। একদিকে দলকে জেতাতে পেরে আনন্দিত। অন্যদিকে ভাইকে পরাস্ত করার যন্ত্রণা বিঁধে চলেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে জানিয়ে দিলেন, ময়দানে ভাইকে হারালেও তার আঁচ কোনওদিন ব্যক্তিগত সম্পর্কে পড়েনি, আজও পড়বে না। ক্রুণাল বলেন, ‘আমাদের যোগাযোগ খুবই নিবিড়। দুজনেই জানতাম আজ দিনের শেষে একজন পান্ডিয়াই জিততে চলেছে। তা সত্ত্বেও আমাদের একে অন্যের প্রতি যে ভালবাসা ও স্নেহ রয়েছে তা আন্তরিক।‘
গতকাল ক্রুণাল যখন শেষ ওভারে বল করতে আসেন তখন জিততে গেলে মুম্বইকে তুলতে হত ১৯ রান। ততক্ষণে ঝোড় গতিতে রান উঠছে। ফলে অচেনা ময়দানে কাজটা কিছুটা কঠিনই ছিল। কিন্তু প্রথম বলেই ক্রুণাল আউট করেন মিচেল স্যান্টনারকে। তার পরের বলে ড্রেসিং রুমে ফেরান দীপক চাহারকে। বাউন্ডারির ধারে ফিল সল্টের অ্যাথলেটিক কসরতের সৌজন্যে ক্যাচ ধরেন টিম ডেভিড। শেষ দু’বলে দুটো ছক্কা মেরে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যেতে পারত মুম্বই। কিন্তু ক্রুণালের স্পিনের ফাঁসে সমস্ত পরিকল্পনা আটকে যায়।
ম্যাচ জিতিয়ে যদিও অন্য কিছু নয়, নিজের এক দশকের অভিজ্ঞতাকেই সামনে টানলেন ক্রুণাল। বললেন, ‘গত দশ বছর ধরে আমি যত ম্যাচ খেলেছি, যে পরিমাণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সে সবকিছু ঠিকঠাক কাজে লাগাতেই হত। কখনও কখনও আমাদের দায়িত্ব নিতে হয়। কিন্তু সেটা একশো শতাংশ হওয়া জরুরি। পরিকল্পনা কীভাবে, কোন উপায়ে ফলপ্রসূ হবে, সেটা নিজেদের বুঝে নিতে হবে। আজ কোথায়, কোন বল করতে হবে তাই নিয়ে আমি পুরোদস্তুর নিশ্চিত ছিলাম।‘ ক্রুণালের কথায় ফুটে ওঠে প্রবল আত্মবিশ্বাস।