
সস্ত্রীক পূজারা
শেষ আপডেট: 30 April 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা হঠাৎ পড়ে গিয়ে আহত। হাসপাতালে ভর্তি। নিজেও হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করেও দল থেকে বাদ পড়েন চেতেশ্বর পূজারা। আর এই বাদ পড়ার কথাও তিনি জানতে পান তখন, যখন একজন সেই খবর ফোনে অন্য কাউকে জানাচ্ছিলেন।
সম্প্রতি চেতেশ্বর পূজারার স্ত্রী পূজা পূজারার আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়েছে। নাম: ‘দ্য ডায়রি অফ আ ক্রিকেটার্স ওয়াইফ’। সেখানেই ক্রিকেটারের জীবনের অজানা ও অকথিত বেশ কিছু কাহিনি তুলে ধরেছেন তিনি।
২০১৮ সালে বর্ডার-গাভাসকার সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যায় ভারতীয় দল। প্রথম টেস্ট অ্যাডিলেডে। সেখানে দুই ইনিংসে যথাক্রমে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করেন পূজারা। জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। চার টেস্টের সিরিজ। পরের ম্যাচ পার্থে। কিন্তু তার আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান পূজারা।
বিপদ এখানেই শেষ নয়। দুর্যোগ আসে পরিবারেও। বাবা অরবিন্দ পূজারা। তিনিও আচমকা পড়ে গিয়ে আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় তাঁকে। কিন্তু ওই অবস্থাতেও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা ও হতাশাকে দূরে সরিয়ে রাখেন পূজারা।
সমস্ত বাধাবিঘ্ন এড়িয়ে পার্থ টেস্ট খেলতে নামেন তিনি। কিন্তু দু’ইনিংস মিলিয়ে ২৮ রানের বেশি তুলতে পারেননি। ওই ম্যাচে হেরে যায় ভারত। বড় ব্যবধান—১৪৬ রানে! তারপরই আচমকা দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু সেই খবর টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে জানতে পারেননি তিনি। বদলে দলেরই এক সদস্য বাদ দেওয়ার খবর ফোনের উল্টোদিকে অন্য একজনকে দিচ্ছিলেন। আর সেটাই কানে আসে পূজারার।
গোটা ঘটনাটি যদিও সেই সময় জানতে পারেননি পূজা। অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেক মাস। সিরিজ শেষ। পূজারা তখন বাড়িতে। উপলক্ষ্য জন্মদিন।
ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? তারই বর্ণনা নিজের বইয়ে তুলে ধরেছেন ক্রিকেটারের স্ত্রী। মর্মস্পর্শী ভাষায় লিখেছেন, ‘সফর শেষে চেতেশ্বর তখন বাড়িতে। জন্মদিনের বিকেলে ঘরের সময় আলো নিভিয়ে আমরা বসে গল্প করছিলাম। মেয়ে অদিতি পাশের ঘরে শুয়েছিল। দুজনে মিলে ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের লেখা জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা পড়ছিলাম। এমন সময় একটি মেসেজ ভেসে ওঠে। ভীষণ আবেগপ্রবণ ও উচ্ছ্বাসময় ছিল ওই বার্তা। আমি পড়ে শোনাই। তারপর নিস্তব্ধতা। কোনও জবাব নেই।‘
‘অবাক হয়ে পূজারার দিকে তাকাই। দেখি, অদ্ভুত ভঙ্গিতে ও আমার দিকে তাকিয়ে। চোখমুখে একই সঙ্গে বিস্ময় ও রহস্য মিশে। আমার সেই প্রতিক্রিয়ার মানে বুঝতে এতটুকু বেগ পেতে হয়নি।‘
‘আমি ওকে জিজ্ঞেস করি, কী হয়েছে? উত্তর না দিলেও আমি গোঁ ধরে থাকি। জানতাম, চেতেশ্বর চুপ করেছে মানে ও কিছু না কিছু লুকোচ্ছে। এমনিতে বাকি ক্রিকেটারদের অনেক স্ত্রী আমায় মাঠের বাইরের অনেক গোপন খবর, কেচ্ছা শেয়ার করলেও চেতেশ্বর নিজে থেকে কিছু বলেনি। কেরিয়ারের যাবতীয় সফর নিয়ে সহজ, স্বাভাবিক জবাব দিত ও। বছরের পর বছর তাই হয়ে এসেছে।‘
‘অনেক জোরাজুরির পর সেদিন মুখ খুলেছিল চেতেশ্বর। বলেছিল, যে লোক আমার প্রশংসা করেছে বলে জানালে আমায়, সেই একই ব্যক্তি আমায় অস্ট্রেলিয়া সফরে বাদ দিয়ে চেয়েছিল।‘
‘আমি চেপে ধরি। জিজ্ঞেস করি—তাহলে তুমি আমায় বলোনি কেন? পূজারা স্মিত হেসে জানায়—সবকিছুর প্রতিক্রিয়া সব সময় জরুরি নয়। আমার কাজ ছিল খেলা। আমি সেই দায়িত্বটুকু পালন করেছি। ভাল খেলেছি, আর সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।‘
এরপরেও সেই সফরে সিরিজ-সেরা নির্বাচিত হন চেতেশ্বর পূজারা। ভারতও ট্রফি জিতে দেশে ফেরে।