সুব্রত ভট্টাচার্য
আমার গতকালের এটিকে-মোহনবাগানের (ATK Mohun bagan) খেলা দেখে খুব খারাপ লেগেছে। এত বাজে ফুটবল, আমি হাবাসের (Habas) কোচিংয়ে দেখিনি। কী খেলল, ফুটবলাররা নিজেরাই মনে হয় জানে না।
একটা ভারতসেরা দল, তাদের খেলা বিদেশের মাঠে হচ্ছে, এই সম্মানবোধ থাকা কি উচিত ছিল না ফুটবলারদের? একটা দল বিরতির আগেই পাঁচ গোল খেয়ে বসে রয়েছে। আমার মনে হয়, বিরতিতে বিপক্ষ দলকে বলে আসা হয়েছিল প্লিজ আর গোল দেবেন না, তা হলে কলকাতায় ঢুকতে পারব না।
মোহনবাগান এর আগেও ছয় গোল খেয়েছে, অন্তত বিদেশী দলের কাছে। কিন্তু খেলায় একটা মরিয়া ভাব থাকবে না, এটা কী করে হয়! আমরা ফুটবল নিয়ে যাঁরা একটু আধটু খোঁজখবর রাখি, তাঁরা জানি এটিকে-মোহনবাগানের ফুটবলাররা কে কত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছে, তাদের সঙ্গে কত টাকার চুক্তি হয়েছে, কিন্তু তাই বলে দলের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থাকবে না।
যদি ভাবতাম উজবেকিস্তানের নাসাফ এফসি দারুণ দল, বিদেশের ক্লাব ফুটবল খুব সুনাম রয়েছে, তা হলে নয় মানা যেত। কিন্তু একটা সাধারণ উচ্চমানের দলের কাছে ছয় গোল খাওয়া ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে খুব হতশ্রী বিজ্ঞাপন। তার মানে বুঝতে হবে বিপক্ষ দল সম্পর্কে এটিকে মোহনবাগান কোচ হাবাস কোনও হোমওয়ার্কই করেননি। তিনি মনে করেছিলেন স্টেজে মেরে দেবেন, ফুটবলারাও তাই ভেবেছে, সেই কারণেই এমন ফল হয়েছে।
আরও পড়ুন: মোহনবাগানের বিতর্ক থেকে পালাতে চাইছেন উৎসব পারেখ, শুধু বলছেন, আমাকে ছেড়ে দিন
সবচেয়ে খারাপ লাগল, রয় কৃষ্ণের মতো তারকা এত সাধারণ থাকা, একেকসময় গড়াগড়ি খাচ্ছে, এটা কি তাকে মানায়? একটা দলের প্রাণভোমরা তিনি, বিরতির পরে তার সঙ্গে পুরো দলের ঘুরে দাঁড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু পারেনি। ভাগ্যিস, বিপক্ষ দল একটা পেনাল্টি মিস করেছে, না হলে তো সাত গোল হয়ে যেত।
হাবাসের কোচিং আমি ঠিক মানতে পারেনি। আপনি যখন দেখছেন, শুরু থেকেই নাসাফ এফসি তেড়ে আক্রমণ করছে, সেইসময় আপনার ডিফেন্সিভ ব্লক করে দেওয়া উচিত ছিল। রক্ষণে তিরি, সন্দেশ না থাকা অবশ্যই একটা ফ্যাক্টর, তবু বলব, তিন ডিফেন্ডারে খেলা শুরু করা মানেই ঝুঁকি, কী হবে আক্রমণে লোক বাড়িয়ে। আগে তো বাঁচতে হবে, তারপর তো আক্রমণ।
এই বোধটা কেন হাবাসের মতো নামী কোচ দেখালেন না, ভাবতেই অবাক লাগছে। তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসে ভুগেছেন, যে পুরো দল তাতে সংক্রমিত হয়ে গিয়েছিল। না হলে সুন্দর মাঠ, মনোরম আবহাওয়ায় দলের ফুটবলারদের ফুল ফোটানোর কথা ছিল, তারা পুরো ব্যর্থ।
জানি না, এই হার আইএসএলে পুরো দলে প্রভাব ফেলবে কিনা। তবে এএফসি কাপের মতো একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটিকে-মোহনবাগানের হার, আমাদের কাছে লজ্জারই। এই ম্যাচ যত দ্রুত ভুলতে চাইবে ফুটবলাররা, ততই মঙ্গল।
(সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুলিখন)
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'