
শেষ আপডেট: 20 November 2023 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যেন দুঃস্বপ্নের রাত কাটল। স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ভারতের। ২০০৩ সালের সেই স্মৃতি ফিরে এল। মাঠের ভেতরেই চোখের জল লুকনোর চেষ্টা করলেন অনেক খেলোয়াড়ই। ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা কোনওরকমে কান্না চেপে রাখেন। কেঁদে ফেলেন মহম্মদ সিরাজ। একে অপরকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন। জনসমক্ষে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ড্রেসিংরুমে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রায় সকলেই। বিধ্বস্ত হয়ে পড়া টিমের ছেলেদের দেখে কোনওরকমে আবেগ সামলে রাখেন কোচ রাহুল দ্রাবিড়ও। পরে মিডিয়াকে তিনি বলেন, “এইভাবে ছেলেদের ভেঙে পড়তে দেখা খুব কঠিন।”
গোটা টুর্নামেন্টে ভাল খেললেও ফাইনালের দিন স্বপ্নভঙ্গ হল ভারতীয় দলের। টানা ১০টি ম্যাচ জিতে ফাইনালে পা রেখেছিল ভারতীয় দল। দেশের মাটিতে আরও এক বার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পর্যুদস্ত হতে হয়েছে ভারতকে। হারের পরে আর ব্যর্থতা ও হতাশা চেপে রাখতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
এক দিকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারেরা যখন উল্লাস করছেন তখন ভেঙে পড়তে দেখা যায় ভারতীয় খেলোয়াড়দের। মাঠেই কেঁদে ফেলেন মহম্মদ সিরাজ। মাঠে হাঁটু মুড়ে বসে গ্লাভস দিয়ে মুখ ঢাকেন কেএল রাহুল। রবীন্দ্র জাডেজাকে সামলানো যাচ্ছিল না। বিরাট কোহলিকে দেখা যায় চোখের জল লুকোতে মুখ নামিয়ে টুপি দিয়ে যতটা সম্ভব মুখ ঢেকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
কোচ রাহুল দ্রাবিড় বলেছেন, মাঠে যতটা বিপর্যস্ত লেগেছিল টিমের ছেলেদের, ড্রেসিংরুমে তাদের অবস্থা ছিল আরও বেশি বিধ্বস্ত। কান্না চেপে রাখতে পারেননি অনেকেই। দ্রাবিড় বলেছেন, “ড্রেসিংরুমে আবেগপ্রবণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ মুখ ঢেকে বসেছিলেন। কোচ হিসেবে ছেলেদের এভাবে দেখাটা আমার জন্য কঠিন। কারণ, এই ছেলেগুলো কী পরিশ্রম করেছে, কতটা ত্যাগ করেছে, সেটা আমি জানি।“
২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেরে গিয়েছিল ভারত। তার পরেই কোচ রবি শাস্ত্রীর জায়গায় দায়িত্ব নেন রাহুল দ্রাবিড়। গত দু’বছর ধরে দলকে তৈরি করছিলেন ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের জন্য। মাঝে এশিয়া কাপ জিতলেও বিশ্বকাপের হারের বোঝা অনেক বেশি। তা ভোলা সম্ভব নয় এটা দ্রাবিড় নিজেও বুঝেছেন।
দ্রাবিড় বলছেন, “এই দলটার সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। ক্রিকেটার থেকে বাকি সাপোর্ট স্টাফ সকলে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। খুব ভাল লেগেছে সকলের সঙ্গে কাজ করে। আমি মনে করি আগামী দিনে নতুন সূর্য উঠবে। আরও একটা নতুন সকাল হবে। আমরা হারের থেকেই শিক্ষা নেব। এগিয়ে যেতে হবে সকলকে। থামলে চলবে না।”