
শেষ আপডেট: 11 July 2018 20:37
অরুণাভ কর, মস্কো[/caption]
খেলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেও লন্ডনের রাস্তায় শোনা যাচ্ছিল ইংলিশ ফুটবলের জাতীয় সঙ্গীত। 'ইটস কামিং হোম' গাইতে গাইতে দল বেঁধে হেঁটে যাচ্ছিলেন তামাম ব্রিটিশ জনতা। কিন্তু ঘরে যাচ্ছে না বিশ্বকাপ। ঘরে ফিরে যেতে হচ্ছে স্টারলিং, ইয়ং, হেন্ডারসনদের। বড় জোর তৃতীয় হওয়ার সুযোগটুকু বেঁচে রয়েছে।
কাটল না ৫২ বছরের খরা। ৬৬ সাল ছোঁয়া হলো না ব্রিটিশদের। খেলার শুরুটা দুরন্ত করেও পারল না ইংল্যান্ড। চোয়াল চাপা লড়াই করে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ক্রোয়েশিয়া।
[caption id="attachment_18182" align="alignnone" width="702"]
ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকদের উল্লাস[/caption]
খেলার শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। টপ বক্সের কয়েক গজ বাইরে ডেলে আলিকে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ান মাঝমাঠের মেরুদণ্ড মড্রিচ। ফ্রিকিক পায় ইংরেজরা। ক্রোয়েশিয়ার মানব প্রাচীর পেরিয়ে তেকাঠির নীচে দাঁড়ানো সুবাসিচকে পরাস্ত করে ফ্রিকিক থেকে খেলার ৫ মিনিটের মাথায় অনবদ্য গোল করে যান ট্রিপিয়ার। এরপর গোটা প্রথমার্ধ জুড়েই দু’দল মাঝমাঠে খেলা সংগঠিত করলেও বিপক্ষ বক্সে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে। গোটা প্রথামার্ধ জুড়ে লিঙ্গার্ডের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড মাঝমাঠ যতটা গুছিয়ে খেলল ততটা নিজেদের গোছাতে পারছিল না ক্রোয়েশিয়া। মাঝ মাঠে র্যাকিটিচ, মড্রিচ, পেরিসিচরা চেষ্টা করলেও পরকল্পিত আক্রমণ ছিল না। কাউন্টার অ্যাটাকে বেশ কয়েকবার ব্রিটিশ বক্সে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই লকার রুমে যায় ইংল্যান্ড।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ক্রোয়েশিয়া যেন অন্য ধাতুতে গড়া একটা দল। মাঝ মাঠে ফুল ফোটানো ফুটবল। র্যাকিটিচ-মড্রিচ-পেরিসিচ-রেবিচ মিলে কার্যত স্তব্ধ করে দিল ইংল্যান্ড দলকে। ৬৫ মিনিটে পেরিসিচের গোলমুখী শট ব্রিটিশ ডিফেন্ডার ওয়াকারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ঠিক এর তিন মিনিটের মাথায় ভারসালকোর সেন্টার থেকে ৫০-৫০ বলকে জালে জড়িয়ে সমতায় ফেরান সেই পেরিসিচ। ৭২ মিনিটে পেরিসিচের নিখুঁত প্লেস ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ থাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই খেলা গড়ায় এক্সট্রা টাইমে।
এই নিয়ে টানা তিনটি ম্যাচ ১২০ মিনিট ফুটবল খেলল ক্রোয়েশিয়া। এক্সট্রা টাইমের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড বেশ কয়েকবার আক্রমণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এ দিন গোল মেশিন হ্যারি কেন ছিলেন নিভন্ত প্রদীপের মতো। বিপক্ষের জোনাল মার্কিং-এর চক্রব্যুহ থেকে বেরোতেই পারলেন না গোটা ম্যাচে। এর মধ্যেই ইংল্যান্ডের স্টোনসের হেড গোল লাইন সেভ করেন ভারসালকো। এক্সট্রা টাইমের প্রথমার্ধের একেবারে শেষে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মানজুকিচ। নাহলে তখনই ব্রিটিশ কফিনে পেরেক পড়ে যেত।
[caption id="attachment_18181" align="alignnone" width="702"]
গ্যালারিতে ক্ষুব্ধ, হতাশ ব্রিটিশ সমর্থক[/caption]
১০৯ মিনিট। মস্কোতে নেমে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইংল্যান্ডের ডিফেন্স লাইনকে স্তব্ধ করে বক্সের ভিতর ধুকে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে মাটি ধরিয়ে গোল করে যান মানজুকিচ।
৯৮-এ ফ্রান্স বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। এ বার সাউথ গেটের দলকে লন্ডনের বিমানের টিকিট ধরিয়ে ফাইনালের দরজা খুলে গিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার। প্রতিপক্ষ ৯৮-এর চ্যাম্পিয়নরা। কে জিতবে রাশিয়া বিশ্বকাপ? দ্বিতীয়বার ফ্রান্স? নাকি প্রথমবার ক্রোয়েশিয়া? এখন অপেক্ষা ১৫ জুলাইয়ের।