দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রুপ পর্বে দুই দলের খেলা দেখে বেশিরভাগ ফুটবল বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন ফাইনালের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু সবার আশার বিপরীতে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে দুই দল। তাই সেন্ট পিটার্সবার্গের মাটিতে কার্যত সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে নামছে ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম।
গ্রুপ পর্বে দুই দলই ছিল এক গ্রুপে। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচ জিতে প্রি কোয়ার্টারে জায়গা পাকা হয়ে যাওয়ায় একে অন্যের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিলেন। প্রথম এগারোর প্রায় কেউই খেলেননি। তাই কিছুটা ধীর গতির গা-ছাড়া মনোভাবের খেলায় জানুজাজের করা একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল বেলজিয়াম। কিন্তু আজ অন্য লড়াই।
১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তারপরে আর বিশ্বকাপ ওঠেনি ব্রিটিশদের হাতে। কিন্তু এ বার রাশিয়ায় তাদের পারফরম্যান্স আশা জুগিয়েছিল সমর্থকদের মনে। কিন্তু সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মড্রিচ, রাকিতিচ, মানজুকিচ, পেরিসিচ এই চারমুর্তির কাছে হার মানতে হয় হ্যারি কেনদের। হারলেও দেশের সমর্থকদের প্রশংসা মিলেছে।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের এই দলকে বলা হচ্ছিল ‘গোল্ডেন জেনারেশন অফ বেলজিয়াম’। লুকাকু, অ্যাজার, দি ব্রুইনা, ফেলাইনি, কুর্তোয়া, কোম্পানির মতো তারকা সমৃদ্ধ দল। ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের কাছে হারতে হয়। ফরাসী কোচ দেশঁ’র পরিকল্পনায় মাত হন তারা। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মারাদোনার কাছে হেরেছিল বেলজিয়াম। তারপর তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরে চতুর্থ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।
বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সবথেকে ভালো ফল ওই চতুর্থ স্থান। তাই এ বার বিশ্বকাপ না পান, তৃতীয় স্থান পেতে মরিয়া তারা। অন্যদিকে ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট নিজের খেলোয়াড়দের নির্দেশ দিয়েছেন এই ম্যাচেও পূর্ণ ফোকাস নিয়ে খেলতে। বোঝা যাচ্ছে এই খেলাকেও কোনও মতেই হালকা ভাবে নিচ্ছে না দুই দল।
এখন দেখার সম্মান রক্ষার এই খেলায় শেষ পর্যন্ত ‘থার্ড বয়’ কারা হন। গ্যারেথ সাউথগেটের তরুণ তুর্কীরা। না কি বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশনের’ সেনানীরা।