দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁরা প্রত্যেকেই খেলার মাঠের ব্যক্তিত্ব। কেউ ক্রিকেটার, কেউ টেবল টেনিস খেলেন, কিন্তু তাঁরা যদি খেলোয়াড় না হতেন, তা হলে অব্যর্থভাবে নিজেদের পেশায় চলে যেতেন। কারণ তাঁরা প্রত্যেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন। কেউ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বা কমপিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন।
আজ মঙ্গলবার ভারতে ইঞ্জিনিয়ার ডে হিসেবে পালন করা হয়। সেই বিশেষ দিনে ওই ছয় ক্রীড়াবিদকে বিশেষ সম্মানজ্ঞাপন। যাঁরা খেলার মাঠে জাতীয় দলের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স তো করেইছেন, পাশাপাশি তাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিংকে পেশা করেছেন খেলা ছাড়া পরেই। যেমন অনিল কুম্বলে, তাঁর আইটি ফার্ম রয়েছে বেঙ্গালুরুতে, এমনকি ভারতের নামী প্রাক্তন পেসার জাভাগল শ্রীনাথও। তাঁর আইটি কোম্পানি ‘হক আই’ আইসিসি-র স্টাম্প ভিশন ক্যামেরায় প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
এমনই ভারতের মহিলা দলের দুই সদস্যা স্মৃতি মান্ধানা ও শিখা পান্ডেও ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। এমনকি ভারতীয় টেবল টেনিস দলের নামী সদস্য চেন্নাইয়ের গনেশেখরণ সাথিয়ানও কমপিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি নিয়েছেন।
অনিল কুম্বলে
ভারতীয় দলের সর্বকালের সেরা স্পিনারদের তালিকায় ৪৯ বছর বয়সী অনিল কুম্বলেও থাকবেন। তিনি বরাবরই মেধাবী ছাত্র, পড়াশুনো করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। ভারতের অধিনায়ক তো ছিলেই, তাঁর অসামান্য কীর্তির মধ্যে দিল্লিতে এক ইনিংসে দশ উইকেট থাকবে। এমনকি স্টিভ ওয়ার শেষ ম্যাচে সিডনিতে তাঁর ম্যাচ জেতানো বোলিং ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা থাকবে।
জাভাগল শ্রীনাথ
ভারতের এই নামী প্রাক্তন পেসারও থাকেন বেঙ্গালুরুতে। খেলা ছাড়ার পরে তিনি আইটি ফার্ম যেমন খুলেছেন, তেমনি আবার মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিও খুলে তার দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর সাংবাদিক স্ত্রী মাধবীকে।
দেশের হয়ে ৬৭টি টেস্ট খেলে ২৩৬টি উইকেট নিয়েছেন। বহু ম্যাচ তিনি জিতিয়েছেন, সৌরভের সেই সোনার দলের সদস্য ছিলেন। শ্রীনাথও নামী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে তিনি আইসিসি-র ম্যাচ রেফারি হিসেবে দুবাইতে রয়েছেন আইপিএলের মঞ্চে।
রবিচন্দ্রন অশ্বিন
ভারতের আরও এক নামী স্পিনার, তিনি চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। অশ্বিনও রীতিমতো মেধাবী ছাত্রই শুধু নন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভাল মার্কস পেয়ে পাশ করেছেন। অশ্বিন ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছেন ৭০টি টেস্ট খেলে ৩৬২টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি আইপিএলে এবার দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলবেন। গতবার জস বাটলারকে মাঁকড়ীয় স্টাইলে রানআউট করে তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন।
স্মৃতি মান্ধানা
ভারতীয় দলের নামী সদস্যা, ২৪ বছরের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং স্টাইল বেশ নজরকাড়া। ২০১৪ সালে তাঁর দেশের হয়ে ইংল্যান্ডের মাঠে অভিষেক হয়েছিল। তারপর টানা খেলে যাচ্ছেন জাতীয় দলে। স্মৃতি কমপিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনো করেছেন। তাঁর মা-ও স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন, বর্তমানে অবসর নিয়েছেন।
শিখা পান্ডে
ক্রিকেট খেলেও তিনি নামী স্কুলে পড়েছেন, এবং ভাল মার্কস পেয়ে পাশ করেছেন। ১৫ বছর বয়সে গোয়ার এক ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে খেলা শেখা শুরু। গোয়া কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনো করে তিনি জাতীয় দলে স্থান পেয়ে যান। ভারতের এই ৩১ বছরের নামী ডানহাতি মিডিয়াম পেসার বহু স্মরণীয় ম্যাচ খেলেছেন।
গনেশেখরন সাথিয়ান
ভারতের নামী টেবল টেনিস তারকা। তাঁর নামের পাশে বহু আন্তর্জাতিক পদক। মোট তিনটি কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি দেশকে সোনা এনে দিয়েছেন। এই অর্জুন পুরস্কারজয়ী টিটি তারকা চেন্নাইয়ের সেন্ট জোসেফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি টেক ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। এমনকি সাথিয়ানের এই মুহূর্তে বিশ্ব ক্রম তালিকায় ২৪ নম্বর স্থান। তিনিও ভারতের গর্ব।