দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেলালেন দিদি মেলালেন।
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে বসলেন ইস্টবেঙ্গল ও শ্রী সিমেন্ট কর্তারা। কাটল জটিলতা। মমতার সামনে বসে শ্রী সিমেন্ট জানিয়ে দিল, আপনার অনুরোধ আমরা ফেলতে পারব না। ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলবে।
শ্রী সিমেন্ট কর্তা আরও জানিয়েছেন, গত এক বছর ধরে আমরা চেষ্টা করছিলাম চুক্তিতে সইয়ের জন্য। কিন্তু তা হচ্ছিল না।
অবশেষে লাল হলুদ সদস্য-সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটল। যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে সন্ধি হল। নবান্ন সভাঘরে বসে বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তারা কথা দিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই রাজি হয়েছেন। শুধু তাই নয়, চুক্তি নিয়ে এত যে জটিলতা ছিল, তা নিমেষে কেটে গেল কী করে সেই নিয়েও সকলে সন্দিহান। তবে এও মনে করা হচ্ছে, শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পুরুলিয়া রঘুনাথপুরে বিরাট বিনিয়োগ করবে, তারা কোম্পানি গড়বে। তাতে রাজ্যের লাভ হবে, অনেক কর্মসংস্থান হবে।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই কথা বলে জানিয়েছেন, শ্রী সিমেন্ট কোম্পানি আমাদের রাজ্যেও বিনিয়োগ করবে। তাতে আমাদের সকলের ভাল হবে। তবে ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি নিয়ে যে সমস্যা ছিল, তার সমাধান হয়েছে কিনা, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
গতবার এই নবান্ন সভাঘরে প্রাথমিক চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, নানা সমস্যা হয়েছে তা নিয়ে। এমনকি এমন এক পরিস্থিতি হয় যে ইস্টবেঙ্গলের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
বুধবার নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি প্রেস কনফারেন্সের মধ্যে অ্যান্টি চেম্বারে বসে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। সেখানেই চুক্তিতে সই করেছেন লাল হলুদ কর্তারা, তেমনই খবর। সব থেকে বড় কথা, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শাসক গোষ্ঠীর কর্তারা বিরোধী কর্তাদেরও নিয়ে আসেন এদিন। ছিলেন সদানন্দ মুখোপাধ্যায়, শাসক গোষ্ঠীর পক্ষে ছিলেন দেবব্রত সরকার। এমনকি বিরোধী পক্ষের নামী কর্তা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী পার্থসারথী সেনগুপ্তের সহায়তাও নেওয়া হয়েছে।
এদিক থেকেই বোঝা গিয়েছে, এই জটিল সমস্যা পরিত্রানের জন্য লাল হলুদের সব পক্ষই সামিল ছিলেন। মোট ৪১টি শর্ত ছিল শ্রী সিমেন্টের। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল মোট ৫টি, সেটিও এদিন মিটিয়ে নেওয়া হয়, বলে খবর। মোট ৫২ কোটি টাকা গতবার তারা বিনিয়োগ করেছিল। সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, এত বিপুল পরিমান অর্থ যখন বিনিয়োগ করছে কোম্পানি, সেইসময় তাদেরও কিছু ছাড়তে হবে। সেটাই ঘটল সভার পরে। এবার দলগঠন সম্পূর্ণ করতে হবে আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে, সেদিনই দলবদলের উইন্ডো বন্ধ হবে।
এদিন বিকেলে নবান্ন সভাঘরে প্রেস কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সব ভাল যার শেষ ভাল। ইস্টবেঙ্গল সর্মথকরা নিশ্চয়ই খুশি হবেন। মোহনবাগান সমর্থকরাও নিশ্চয়ই খুশি। তারাও নিশ্চয়ই চায় যে ইস্টবেঙ্গল খেলুক, এবার খেলা হবে। আজ বাংলা ফুটবলের জয় হল।’’