
ইস্টবেঙ্গল দলের হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ
শেষ আপডেট: 9 February 2025 00:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরের মাঠে কাঙ্খিত জয় ছিনিয়ে আনতে পারল না ইস্টবেঙ্গল এফসি। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন স্টেডিয়ামে শনিবার চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে নামে লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই ম্যাচের আগে টানা ৭ ম্যাচ জয় অধরা ছিল চেন্নাইনের। অ্যাওয়ে ম্যাচে তারা তিনটে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিল। আর সেইসঙ্গে সুপার সিক্সে যাওয়ার রাস্তাও ইস্টবেঙ্গলের সামনে কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এই পরাজয়ের পর লাল-হলুদ সমর্থকরা কার্যত চরম হতাশায় ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে, সমর্থকদের একাংশ আবার এই হারের জন্য অস্কারের রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। শনিবাসরীয় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ব্যর্থতাই যে তাদের ডুবিয়েছে, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন তিনি একজন ডিফেন্ডারের পরিবর্তে একজন স্ট্রাইকারকে এই দলে সই করালেন।
কথাটা কাকে নিয়ে হচ্ছে, সেটা আর আলাদা করে বলার দরকার নেই। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন - মেসি বাউলি। চোটের কারণে এই মরশুম থেকে ইতিমধ্যে ছিটকে গিয়েছেন হিজাজি মাহের। তাঁর জায়গায় মেসিকে সই করানো হয়। শনিবার তিনি ৫৯ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন বটে, কিন্তু একেবারে আগুন জ্বালাতে ব্যর্থ হন। লাল-হলুদ সমর্থকদের দাবি, দলের ডিফেন্সটা আরও মজবুত করতে পারলে এমন লজ্জার মুখ অন্তত দলটাকে দেখতে হত না।
ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের অবশ্যই দোষ রয়েছে। কিন্তু, বাকিদেরও এই দায় সমানভাবে গ্রহণ করতে হবে। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে গোল করার যে সুযোগটা সাউল ক্রেসপো হাতছাড়া করলেন, সেটার পর তিনি নিজেকে হয়ত কোনওদিন ক্ষমা করতে পারবেন না। বলটা একেবারে গোলের ঠিকানায় লেখা ছিল। কিন্তু, ক্রেসপো ভুল সময়ে পা বাড়িয়ে সেই গোল্ডেন চান্স মিস করলেন। আরও এসেছিল সুযোগ। ৫৮ মিনিটে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন রিচার্ড সেলিসও। কিন্তু, সেটাও অল্পের জন্য মিস করেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, লাল-হলুদ ফুটবলাররা আদৌ ম্যাচ ফিট তো? সবমিলিয়ে, লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে আগামী মরশুমের প্রত্যাশা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।
এর পরের ম্যাচটা ইস্টবেঙ্গলের সামনে মিনি ডার্বি। সামনে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এই মরশুমে মহমেডানের অবস্থাও একেবারে ভাল নয়। তার উপর দলে রয়েছে অন্দরমহলের সমস্যা। বেতন না পাওয়ার কারণে ফুটবলাররা হামেশাই অনুশীলনে আসতে চাইছেন না। এমনকী, দলের হেড কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েও সেটা প্রত্যাহার করেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল তাদের স্বান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে জিততে পারে কি না, সেটাই আপাতত দেখার।