
শেষ আপডেট: 3 December 2023 23:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালবাসায় সব হয়। ভালবাসায় তারকাদের মন জেতা যায়। ভালবাসায় স্বপ্নের নায়কদের কাছে যাওয়া যায়, তাঁদের হৃদয় স্পর্শ করা যায়।
ইমামি ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে ঠিক তাই ঘটেছে রবিবার। সোমবার আইএসএলে লাল হলুদ দল খেলতে নামবে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। তার আগে এদিনের অনুশীলনে এমন একজন ব্যক্তি হাজির ছিলেন, তিনি সকলের নজর কেড়ে নিয়েছেন। তাঁর নাম গণেশ দাস। তিনি একজন বিশেষভাবে সক্ষম এক ব্যক্তি।
রবিবারই ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। সেই কারণে লাল হলুদ কর্তা ও বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামির আধিকারিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হাজির করানো হয় এই লাল হলুদ সমর্থককে। যাঁর ধমণীতেও হয়তো বইছে লাল হলুদ রক্ত। যিনি দল হারলে বাড়িতে উপোস করে থাকেন। জিতলে বন্ধুবান্ধবদের সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও মিষ্টি মুখ করান।
গণেশের কলকাতায় বাড়ি বাঘাযতীন এলাকায়। ১৯৯০ সাল থেকে ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখছেন। গণেশের পেশা বলতে ধূপকাঠি বিক্রি করেন কলকাতার রাজপথে। চলতে পারেন না, হাতেও শক্তি নেই। তাই ক্লাব থেকে তাঁকে উপহার দেওয়া হয়েছে লাল হলুদ একটা স্কুটার। সেটি চেপেই প্রতিদিন সকালে পেটের সন্ধানে বাইরে গিয়ে ধূপকাঠি বিক্রি করেন।
গণেশের দলের হয়ে সেরা মুহূর্ত ১৯৯৭ সালে ফেড কাপ সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের ৪-১ ব্যবধানে মোহনবাগানকে হারানো। সেই ম্যাচে সবুজ মেরুন কোচ অমল দত্তের ডায়মন্ড ছক গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন বাইচুং ভুটিয়া, তিনি হ্যাট্রিক করেছিলেন। একটি গোল ছিল নাজিমুল হকের।
গণেশকে এদিন লাল হলুদের কোচ কার্লোস কুয়াদ্রাত ও দলের ফুটবলাররা স্বাগত জানান অনুশীলনে। তাঁকে বিশেষ অতিথির আসনে বসানো হয়। তিনি ছিলেন শিবিরের মধ্যমণি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন কোচ কার্লোস ও সকল ফুটবলাররা। তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উচ্ছ্বসিত বিশেষভাবে সক্ষম এই অন্তপ্রাণ লাল হলুদ সমর্থক। গণেশের সঙ্গে সবাই গ্রুপ ছবি তোলেন। মাঠ ছাড়ার সময় তিনি বলে যান, তাঁর এতদিনের স্বপ্ন সফল হল। কত লড়াই করে বেঁচে রয়েছেন এই কঠিন সমাজে। তার মধ্যেও একঝলক টাটকা রোদ্দুরের দেখা মিলল ছুটির দিন। এই দিনটি তিনি নিজের মনের ডায়েরিতে লিখে রাখবেন নিঃসন্দেহে।