
শেষ আপডেট: 24 January 2024 21:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের ঝড়কে থামানো যাচ্ছে না। সুপার কাপের গত ম্যাচে মোহনবাগানকে হারানোর পরে বুধবার সেমিফাইনালে জামশেদপুর এফসি-কে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লাল হলুদ দল। ইমামি ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে দুটি গোল করেছেন হিজাজি মাহের ও সিভেরিও। ডুরান্ড কাপের পরে এবার কলিঙ্গ সুপার কাপেরও ফাইনালে উঠল ইমামি ইস্টবেঙ্গল।
লাল হলুদের হয়ে খেলার ১৯ মিনিটে সেটপিস থেকে গোল করেন মাহের। সাউলের কর্নার থেকে জর্ডনের এই তারকা বক্সের ভিড়ের মধ্যে গোল করেছেন।
ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় গোলটি হয়েছে ম্যাচের ৪৭ মিনিটের মাথায়। এক্ষেত্রে আসল কাজ সারেন বিদেশি সিভেরিও। তাঁকে বাতিলের পরিকল্পনা নিচ্ছিলেন কোচ। এবার হয়তো সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন স্প্যানিশ কোচ কার্লোস কুয়াদ্রাত।
এদিন শুরু থেকেই ম্যাচে আক্রমণ গড়ে লাল হলুদ বাহিনী। তারা শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল। কোচ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বারবার গোল করেও সেটি রাখা যাচ্ছিল না বলে। এই নিয়ে প্রস্তুতিতে দলের রক্ষণকে নিয়ে খেটেছিলেন কোচ। সেই কাজে তিনি অনেকটাই সফল।
ইস্টবেঙ্গলের গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে লাল হলুদের অধিনায়ক ক্লেটন সিলভা পেনাল্টি মিস করেন। তবে লাল হলুদ দল যেভাবে এই টুর্নামেন্টে খেলছে, তাতে করে চ্যাম্পিয়ন তারা হতেই পারে। এই দলটিকে বদলে দিয়েছেন কোচ কার্লোস।
লাল হলুদের হয়ে এ ম্যাচে অসাধারণ খেলেছেন দলের গোলরক্ষক প্রভুসুখন সিং গিল। তিনি কয়েকটি ক্ষেত্রে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন। বিরতির আগে একটা সময় দেখা গিয়েছিল খালিদ জামিলের কোচিংয়ে থাকা দল জামশেদপুর আক্রমণ গড়ে তোলে। সেইসময় লাল হলুদ রক্ষণ কেঁপে গেলেও প্রভু নিজের সেরা কিপিং করে দলকে বাঁচিয়েছেন।
ইস্টবেঙ্গল টানা নয়টি ম্যাচে জিতল। পাঁচবছর পরে তারা আবারও সুপার কাপের ফাইনালে উঠল। এদিন ম্যাচে কোচ দলের কৌশলে বদল এনে সফল হয়েছেন। তিনি নন্দকুমার ও নিশুকুমারদের দারুণভাবে ম্যাচে ব্যবহার করেন। বিরতির পরে দলের গোলটি সেই পরিকল্পনারই ফসল বলা যেতে পারে। কারণ নন্দকুমারের বাড়ানো বল নিশুর ছোট্ট পাস থেকে সিভেরিও যেভাবে জালে জড়িয়েছেন, তাতে বোঝাই গিয়েছে দলের প্ল্যান সাজানোই ছিল। এই ম্যাচে লাল হলুদের সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলেটিও নজর কেড়েছেন। আসানসোলের এই ফুটবলার বারবার বিব্রত করে গিয়েছেন বিপক্ষ রক্ষণভাগকে।
এদিন বোরহার মতো স্প্যানিশ মিডিও খেলতে পারেননি, তাও বোঝা যায়নি লাল হলুদের খেলায়। কোচ কার্লোস দলের ফুটবলারদের দেহের ভাষা বদলে দিয়েছেন। তিনি ধীরে ধীরে দলটিকে তৈরি করেছেন।