
শেষ আপডেট: 19 October 2023 23:04
প্রতিবছর তাকিয়ে থাকি দুর্গাপুজো কবে আসবে। মহালয়ার দিন সকালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্তোত্রপাঠ শোনার পর থেকে এখনও সমান রোমাঞ্চ অনুভব করে থাকি। তারপর বাকি সাতদিনের অপেক্ষা।
অস্বীকার করে লাভ নেই এখন অনেক আগে থেকেই পুজোর আনন্দ শুরু হয়ে যায়। আমরা যখন ছোট ছিলাম, সেইসময় পুজোর কেনাকাটা শুরু হতো মহালয়ার পর থেকেই। এখন বাঙালি ভাল করেই জানে কী করে আনন্দ করতে হয়।
প্রতিটি মানুষের জীবনে এখন নিরন্তর এত চাপ থাকে যে তারা আনন্দ করার ফুরসত পেলেই সেটি চেটেপুটে নিতে জানে। বর্তমান সময়ে চাকুরিজীবি থেকে শুরু করে যারা পড়াশুনো করছে, তারাও সমানভাবে চাপের স্বীকার। স্কুলগুলোতে পড়ার খুব চাপ। অল্প সময়ে অনেক সিলেবাস শেষ করার চাপ থাকে। আধুনিক সময়ে উন্নততর শিক্ষা না দিলেও হবে না। বাবা-মায়েদেরও ঝক্কির শেষ নেই। তবে আমি একটাই কথা বলব, নিজের বাচ্চাকে নিজের আনন্দে মানুষ হওয়ার সুযোগ দিন। আগে জেনে নিন সে কী চাইছে, তার ভাবনা ও মতকে গুরুত্ব দিন যদি সেটি যুক্তিসঙ্গত হয়।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজো। কসবায় আমি যে ফ্ল্যাটে থাকি তার সামনে দেদার আনন্দ। কসবাতে বড় বড় পুজো হয়। আমি দেখে এসেছি কিছু ঠাকুর। তবে এখন আর প্যান্ডেলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন করা হয় না। সবাই এসে ঘিরে ধরে সই চায়, কেউ সেলফি তুলতে চায়। নিরাপত্তার কারণে সব আবদার মেটানো যায় না।
এবার অবশ্য কলকাতায় ভাল কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন করেছি। চোরবাগানের প্যাণ্ডেল সজ্জা দেখার মতো। সবটাই দারুণ পরিকল্পনামাফিক করেছে আয়োজকরা।
ভাল লেগেছে কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে-র বৌবাজারের পুজো। ইডেনের মতো করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুজোর আঙিনা। বিষয়টি অভিনব সন্দেহ নেই। পুজোতে এখনও সুযোগ পেলে রাত পর্যন্ত আড্ডা মারি। কারণ সারা বছর নিয়মের মধ্যে চলতে হয় আমাদের মতো খেলোয়াড়দের। অবসর নিলেও কোচ হওয়ার কারণে ফিটনেস বজায় রাখতে হয়।
পুজোর সময় মনে আসে চাকদহের বাড়িতে ছেলেবেলার কথা। বাবা-মার সঙ্গে হাত ধরে ঠাকুর দেখতে বেরনো। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, বন্দুকে ক্যাপ পুরে ফাটানো। মেলায় গিয়ে ফুচকা, আলুকাবলি খাওয়া, ইলেকট্রিক নাগরদোলা চাপা, পুতুল নাচ দেখা, আরও কতকিছু।
মনে হয় সেই দিনটা ফিরে যাই, তখনকার পুজোর সঙ্গে বর্তমান সময়ের পুজোর অনেক আবেগের ফারাক থাকলেও বাচ্চাদের কাছে আনন্দটা এখনও সমানই আছে।
(সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখন)।