
শেষ আপডেট: 20 June 2018 11:23
মাঠে রিপ্লে দেখছেন রেফারি [/caption]
ফিফার নিয়ম বলছে, ভারে'র সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাঠের মধ্যে থাকে ৩৩ টি ক্যামেরা। তার মধ্যে ৮ টি স্লো মোশন ও ৪ টি আল্ট্রা স্লো মোশন ক্যামেরা। সেই ক্যামেরায় সারাক্ষণ ভিডিও ফুটেজ দেখেন ভার টিম। মূলত, বক্সের মধ্যে ফাউল, অফসাইডের ফলে বাতিল গোল, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া, এইসব ক্ষেত্রেই ভারে'র টিম খবর পাঠান রেফারিকে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবেন কি না সেটা নির্ভর করছে রেফারির উপর।
মানে মাঠে উপস্থিত রেফারি সিদ্ধান্ত নেবেন যে তিনি ভারে'র টিমের তরফে আসা মেসেজে আমল দেবেন কি দেবেন না। যদি তাঁর মনে হয় আবেদনে সাড়া দেওয়া উচিত তখনই তিনি রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি তাঁর মনে হয় নিজের সিদ্ধান্তই ঠিক, তবে তিনি আমল দেবেন না সেই আবেদনে।
তাহলে, কী ক্ষমতা ভারে'র? সেই রেফারির উপরেই তো থাকল আসল সিদ্ধান্ত। আর তারই মাসুল দিতে হচ্ছে বিভিন্ন দলকে। কোনও কোনও দল হয়তো সুফল পাচ্ছেন এই টেকনোলজির, যেমন ফ্রান্স বা পেরু। কিন্তু ব্রাজিল, ইংল্যান্ড বা ইজিপ্টের মতো দল থাকছেন বঞ্চিত, যা প্রভাব ফেলছে খেলার ফলেই। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠছে প্রশ্ন।
এই প্রসঙ্গে জাতীয় স্তরের রেফারি গুপিনাথ পাইন বলেন, "রেফারির পক্ষে বলের গতি অতিক্রম করে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই রেফারিকে সাহায্য করার জন্য এখন ভারে'র মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এটা ফিফার নিয়মেই আছে। তাই ভারে'র আবেদনে সাড়া দেবেন কি দেবেন না সেটা সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট রেফারির উপর। যদি তিনি মনে করেন তাঁর সিদ্ধান্ত সঠিক তাহলে তিনি প্রযুক্তিকে উপেক্ষা করতেই পারেন। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েও কোনও লাভ হবে না কারও।"
কিন্তু সাধারণ ফুটবল প্রেমী সমর্থকদের মনে প্রশ্ন উঠছে। ৮৬'র বিশ্বকাপে এরকম প্রযুক্তি থাকলে হয়তো বিশ্বকাপ জেতা হতো না আর্জেন্টিনার। পরবর্তীকালে মারাদোনাও এ কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু যখন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আছে, তখনও অনেক ক্ষেত্রে রেফারির গোঁয়ার্তুমির খেসারত দিতে হচ্ছে বিভিন্ন দলকে।
তবে কি শুধুমাত্রই লোক দেখানোর জন্য ব্যবহার করা এই প্রযুক্তি। কারণ শেষ অবধি তো সেই রেফারির সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত। তাই বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই উঠেছে প্রশ্ন, ভার নিয়ে এমন ভাঁড়ামো করার কোনও দরকার ছিল কি?