
লিভারপুল বনাম প্লেমাউথ
শেষ আপডেট: 10 February 2025 11:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক নম্বর টিম। যারা চলতি সপ্তাহে ক্যারাবাও কাপের ফাইনালেও উঠেছে। সামনে ছিল এফ কাপেও জয়ের ধারা অব্যহত রেখে চতুর্মুকুট জয়ের হাতছানি। সামনে এমন এক প্রতিপক্ষ, যারা দ্বিতীয় ডিভিশনের লাস্ট বয়। মাথার উপর অবনমনের খাঁড়া ঝুলছে। তিন মাসে একটিও ম্যাচ জেতেনি তারা। ছাঁটাই হয়েছেন কোচ। আর খানকতক ম্যাচ হারলে তৃতীয় ডিভিশনে নামা নিশ্চিত।
এমন দুর্বল প্রতিপক্ষ, প্লেমাউথকে সামনে পেয়েও, লজ্জার হার স্বীকার করল লিভারপুল। ছিটকে গেল এফএ কাপ থেকে। ১৯৮৪ সালের পর এই প্রথম লিগটেবিলের শীর্ষে থাকা অবস্থায় লিভারপুল দ্বিতীয় বা তার নীচের কোনও ডিভিশনের একটি ক্লাবের কাছে হারল। ২০১৮ সালে ম্যাচ সিটির পর প্রিমিয়ার লিগের প্রথমে থাকা কোনও ক্লাব এতটা দুর্বল প্রতিপক্ষের হাতে নাস্তানাবুদ হল। সব মিলিয়ে রবিবারের বিকেলে হোম পার্কের পারফরম্যান্সকে যে কোনও ভুলতে চাইবেন লিভারপুল ম্যানেজার আর্নে স্লট।
কয়েক দিন আগেই টটেনহ্যামকে ৪ গোলে হারিয়ে এফএ কাপের ফাইনালে উঠেছে দল। এই সপ্তাহেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এভার্টনের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ। সেই লড়াইয়ে হারলে ব্যবধান আরও কমিয়ে ফেলবে আর্সেনাল। এমন পরিস্থিতিতে গতকালের ম্যাচে দশ জন ফুটবলার বদলের সিদ্ধান্ত নেন স্লট। শুধু তাই নয়। মহম্মদ সালাহ, ভ্যান ডাইকের মতো তারকাদের নিয়েও আসেননি তিনি।
তবু প্রথম একাদশ ধারেভারে দুর্বল ছিল না। আপ ফ্রন্টে ত্রিফলা শক্তি লুইজ দিয়াজ, দিয়েগো জটা ও ফ্রেড্রিক কিয়েজা। তিন জনের কেউই ছন্দে ছিলেন না। তা সত্ত্বেও প্রথমার্ধে সুযোগ আসে। কিন্তু প্লেমাউথের গোলরক্ষক হ্যাজার্ড গোল হজম করেননি। উলটে দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ায় তারা। অধিনায়ক জো গোমেজ চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর নড়বড় করতে শুরু করে লিভারপুল ডিফেন্স। ঘরের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে কাজে লাগাতে ভুল করেননি প্লেমাউথের খেলোয়াড়রা। কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকা লিভারপুলের মিডফিল্ডার হার্ভি এলিয়ট হ্যান্ডবল করে বসেন। পেনাল্টি পায় প্লেমাউথ। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রায়ান হার্ডি।
আচমকা পিছিয়ে পড়ে খোঁচা-খাওয়া বাঘের মতো তেড়েফুঁড়ে ওঠেন লুইজ দিয়াজরা। কিন্তু তারুণ্যে ভরপুর টিমে অভিজ্ঞতার অভাব থাকার মাশুল গুনতে হয় লিভারপুলকে। প্লেমাউথের লং বলে খেলার কৌশলের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে স্লটের বাহিনী। লোয়ার ব্লকে ডিফেন্স করে নিজেদের লিড ধরে রাখে দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাবটি।
এই হারের পর যদিও ত্রিমুকুট জয়ের সম্ভাবনা বেঁচে আছে লিভারপুলের সামনে। কিন্তু আচমকা ছন্দ হারানোর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের রেসে পিছিয়ে পড়লে স্লটের উপর চাপ বাড়বে। ক্লপ দায়িত্ব ছাড়ার পর অ্যানফিল্ডের কুর্সিতে বসে গতকালের আগে কোনও ভুল চাল দেননি ডাচ ম্যানেজার। এবার এভার্টনের কাছে হারলে তাঁর ট্যাকটিক্স ও টিম বাছাই নিয়ে উঠতে শুরু করবে প্রশ্ন।