
এম এস ধোনি
শেষ আপডেট: 7 April 2025 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর সমস্ত বন্ধু যখন পাড়ার এর বাড়ি-তার বাড়ির পাঁচিলে হুটোপুটি করে বেড়াচ্ছে, তখন সেই ভিড়ে সামিল হওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। কারণ ধরা পড়লে বাবার হাতের মার অবধারিত।
কথাগুলো বলছেন যিনি, তিনি ব্যাট হাতে তাবড় বোলার আর অধিনায়ক হিসেবে একের পর এক দুর্দান্ত দলকে শাসন করে এসেছেন। অথচ সেই মহেন্দ্র সিং ধোনি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই ভাষাতেই ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করেছেন। জানিয়েছেন বাবা-মায়ের অনুশাসনের কথা। কীভাবে পান সিং ও দেবকী দেবীর স্নেহচ্ছায় বেড়ে উঠেছিলেন, বিখ্যাত ইউটিউবার রাজ শিমানির পডকাস্টে সেই ঘটনাই ভাগ করে নিয়েছেন মাহি।
বাবার বিষয়ে বলতে গিয়ে ধোনির অকপট মন্তব্য, ‘আমরা যখন বেড়ে উঠছি তখন উনি খুবই রাগি ছিলেন। ছিলেন কড়া ধাঁচের মানুষ। পাশাপাশি নিয়মানুবর্তীও। যে কোনও জায়গায় ঠিক সময়ে হাজির হতেন। আর এই কারণে সব মিলিয়ে আমিও কিছুটা কড়া হয়ে উঠেছি।’
যদিও শক্ত মনের হয়েও কখনওই নির্যাতন চালাননি পান সিং। স্রেফ উপস্থিতটুকুই ছিল যথেষ্ট। বাবা বাড়িতে আছেন জানলেই বন্ধুদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় থেকে বিরত থাকতেন তিনি। নইলে মার খেতে হত। অকপট ধোনি। বলেছেন, ‘আমার বন্ধুরা হয়তো কোনওদিন কলোনির পাঁচিলে উঠে বসল, তখন আমি ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারতাম না। সাহসে কুলোত না। বাবা দেখলেই খতম! জানতাম এর ফল কী হতে পারে।’
পাশাপাশি রাঁচির সহজ, নিরুপদ্রব জীবনকেও ফিরে দেখেছেন ধোনি৷ তাঁর কথায়, ‘তখন জীবনে কোনও অনিশ্চয়তা ছিল না৷ সবকিছু একই রকম ছিল—একই রুটিন, কোনও মোবাইল নেই, কেউ দেখনদারি করে না৷ সেই একঘেয়েমির মধ্যেও একটা স্বস্তি ছিল।’
প্রসঙ্গত, এই একই পডকাস্টে অবসর-জল্পনা নিয়েও মুখ খুলেছেন ধোনি। সাফ বলেছেন, ‘আমি এক বছরের হিসেব মেপে আইপিএল খেলছি। এখন আমার বয়স তেতল্লিশ বছর। আইপিএল শেষ হতে না হতেই চলতি বছরের জুলাইয়ে চুয়াল্লিশ ছোঁব। তাই আমার হাতে আর দশ মাস সময় রয়েছে৷ এরমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমি কি আরও এক বছর খেলব? সত্যি বলতে, এটা আর আমার সিদ্ধান্তও নয়। আমার শরীরই ঠিক করবে, আমি আর খেলা চালিয়ে যেতে পারব না পারব না।’
চলতি আইপিএলে নাগাড়ে ব্যর্থ হচ্ছেন। উইকেটকিপার হিসেবে পুরনো অবতারে দেখা দিলেও ব্যাট হাতে রান পাননি ধোনি৷ ৪ ম্যাচে মাত্র একবার আউট হয়ে মাঠ ছাড়লেও একদা সুবিদিত ‘ফিনিশার’ তকমাও ধীরে ধীরে আবছায়া হতে শুরু করেছে। অনেক পরে নেমেও টিমকে জেতাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যে কারণে প্রতিদিন জমে উঠছে অবসরের জল্পনা।