
আইপিএল ২০২৫
শেষ আপডেট: 22 April 2025 07:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলের মহা নিলামে নজর কেড়েছিলেন তাঁরা। কেড়েছিলেন, তার কারণ, ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলি তাঁদের কিনেছিল চড়া দামে। মনে করা হয়েছিল, অর্থের সুবিচার করবেন। কিন্তু এই সমস্ত ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
ব্যর্থতার কারণ অবশ্য সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ভাল না খেলা নয়। কারণ সুযোগই না পাওয়া। কেউ চোট-আঘাতের জেরে, কেউ টিম কম্বিনেশনে ফিট না করার ফলে দলের বাইরে রয়েছেন। ‘প্রাইস ট্যাগে’র চাপ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ প্রত্যাবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে, কেউ জানেন না আদৌ কবে, কীভাবে দলে ফিরে আসবেন তাঁরা।
মায়াঙ্ক যাদব—লখনউ সুপার জায়ান্টস (১১ কোটি টাকা)
গত আইপিএলে বোলার হিসেবে মায়াঙ্ক শিরোনামে এসেছিলেন গতির জন্য। নিয়মিত দেড়শো কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় বল করে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চর্চায় আসেন। শুধু তাই নয়। আইপিএলের প্রথম দুই ম্যাচে পরপর ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচে’র বিরল নজিরও অর্জন করেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সৌজন্যে ভারতের হয়ে টি-২০-তে নামার ছাড়পত্রও জোগাড় করেন মায়াঙ্ক। মাত্র চারটি আইপিএল খেলে টিম ইন্ডিয়ার জার্সি গায়ে পরার সৌভাগ্য সত্যি বিরল।
সম্ভাবনা প্রভূত। তা পূরণও করেছিলেন মায়ঙ্ক। যে কারণে তাঁকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় লখনউ সুপার জায়ান্টস। যে কারণে তাদের খরচ করতে হয় ১১ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি মরশুমে ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। চোটের জেরে একটি ম্যাচেও মাঠে নামেননি মায়াঙ্ক। লখনউ সমর্থকদের কাছে আশার খবর একটাই—ইতিমধ্যে চোট থেকে সেরে উঠেছেন তিনি। খুব দ্রুত হয়তো ঋষভ পন্থদের পাশাপাশি প্রথম একাদশে ঠাঁই পেতে চলেছেন মায়াঙ্ক যাদব।
এন নটরাজন—দিল্লি ক্যাপিটালস (১০ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা)
মায়াঙ্কের অস্ত্র যেমন গতি, নটরাজনের আয়ুধ লক্ষ্যভেদী ইয়র্কার। পাশাপাশি চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে বল করার ক্ষমতা রয়েছে নটরাজনের। গত মরশুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তুলেছিলেন ১৯টি উইকেট। দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীও তিনিই ছিলেন। মহা নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস সুযোগ হাতছাড়া করেনি। কিনে নেয় ১০ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায়।
মজার বিষয়, এত দামে কিনেও নটরাজনকে দলে জায়গা দিতে পারছে না দিল্লির টিম ম্যানেজমেন্ট। তার কারণ চোট নয়, টিম কম্বিনেশন। মিচেল স্টার্ক, মুকেশ কুমার এবং মোহিত শর্মার ত্রিফলা আক্রমণ যেভাবে উইকেট তুলছে এবং ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে যে, সেই কম্বিনেশন ভাঙতেই চাইছে না দিল্লি ব্রিগেড!
জ্যাকব বেথেল—রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা)
গত বছর ইংল্যান্ডের তিন ফর্ম্যাটেই অভিষেক হয় জ্যাকবের। বাঁহাতি মারকুটে ব্যাটসম্যান, উইকেটশিকারী স্পিনার এবং দুর্দান্ত ফিল্ডার জ্যাকব শেষ মাঠে নেমেছিলেন ভারতের মাটিতে। নাগপুরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সময় চোট পান। তারপর থেকে বাইরেই রয়েছেন তিনি। আরসিবি জিতছে বলে জ্যাকবের অভাব বুঝতে পারছে না। তা ছাড়া লিয়াম লিভিংস্টোন ব্যর্থ হওয়ার পর রোমারিও শেফার্ড তাঁর জায়গা নিয়ে নেওয়ায় অলরাউন্ডারের অসুবিধা মোটের উপর ভুগতে হচ্ছে না বিরাটদের।
রহমানুল্লাহ গুরবাজ—কলকাতা নাইট রাইডার্স (২ কোটি টাকা)
আফগানিস্তানের মারকুটে ওপেনার গুরবাজ ২০২৩ সাল থেকে কেকেআরের সঙ্গে রয়েছেন। এবারের মহা নিলামে তাঁকে ২ কোটি টাকায় ধরে রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। দীর্ঘদিন ধরে দলে থাকা সত্ত্বেও চলতি সিজনে একটি ম্যাচেও বেগুনি জার্সিতে দেখা যায়নি আফগান ব্যাটারকে। এর কারণ অবশ্যই টিম কম্বিনেশন। কুইন্টন ডি কক দলকে দুর্দান্ত শুরুয়াত দিয়েছেন, দিচ্ছেন। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার হঠাৎ করে অফ ফর্মে চলে না গেলে রহমানুল্লাহর পক্ষে দলে জায়গা পাওয়া মুশকিল।