
শেষ আপডেট: 15 July 2018 19:16
গ্ৰুপ পর্বেই বলা হচ্ছিল 'গ্ৰুপ অফ ডেথে'র দল। একদিকে মেসির আর্জেন্টিনা, সঙ্গে 'সুপার ঈগলস' নাইজিরিয়া। অন্য দলটিও কম নয়। ২০১৬ ইউরোতে পর্তুগাল, ইংল্যান্ডকে আটকে দেওয়া আইসল্যান্ড। কিন্তু গ্ৰুপের তিনটে ম্যাচেই কর্তৃত্ব নিয়ে জিতল ক্রোয়েশিয়া। পদার্পণেই বুঝিয়ে দিলেন খালি হাতে ফিরে যেতে আসেননি মড্রিচ, রাকিতিচরা।
https://youtu.be/-4_GIyOudcw
নক আউটে উঠে পরপর দু'ম্যাচে টাইব্রেকারে জয়। গোলকিপার সুবাসিচের নায়ক হয়ে ওঠা। সেমি ফাইনালে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড। ৫ মিনিটের মাথায় গোল খাওয়ার পরেও হল ছাড়েননি মড্রিচরা। লড়াই করলেন। ফিরে এলেন। জিতলেন। প্রথমবারের জন্য পৌঁছলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল তরুণ ফরাসী দল, যাদের গতিময় খেলা ছিটকে দিয়েছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, বেলজিয়ামের মতো দলকে। ফাইনালে ডিফেন্সিভ থার্ডে করা কিছু ভুলের খেসারত দিতে হলো ক্রোয়েশিয়াকে। নক আউটে পরপর তিন ম্যাচের ধকলও তাঁদের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো। ৪-২ গোলে হারল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু হারলেও যে খেলাটা তাঁরা ফাইনালে খেললেন মনে রাখার মতো। বলতে গেলে প্রথম ৬০ মিনিট আধিপত্য ছিল ক্রোয়েশিয়ারই।
ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া প্রতি মুহূর্তে বুঝিয়েছে তাঁদের ফাইনালে পৌঁছানো ফ্লুক নয়। যোগ্য দল হিসেবেই লুঝনিকিতে পা দিয়েছেন মড্রিচরা। গোল খাওয়ার পরেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁদের আক্রমণ মন ভরাল গোটা বিশ্বের। পেলেন গ্যালারির সমর্থনও। নিরপেক্ষ সমর্থকদের সিংহভাগ আজ সমর্থন করেছিল ক্রোটদের।
তাঁদের লড়াই মনে করিয়ে দিল ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাস। স্বাধীনতার লড়াই, রিফিউজি ক্যাম্পে জীবনের যুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস। সেই আবেগ থেকেই তো গ্যালারি, এমনকী ড্রেসিংরুম অবদি ছুটে যান প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট কলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। তাই তো হারের পরেও সারা দুনিয়া কুর্নিশ জানায় মড্রিচ, রাকিতিচ, পেরিসিচদের। সেকেন্ড বয় হয়েও তাই গোটা বিশ্বের ফুটবল সমর্থকদের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিল মাত্র ৪১ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দেশ, 'ক্রোয়েশিয়া'।