
শেষ আপডেট: 18 November 2023 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বিশ্বকাপে ভারত অপরাজেয়! টানা ১০ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে তারা। অনেকেই এবারের ভারতীয় দলের সঙ্গে তুলনা টানছেন ২০০৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের। সেই বিশ্বকাপে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভারত দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছিল। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন হাতছাড়া হয়েছিল ভারতের। ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার। রবিবার মোদী স্টেডিয়ামে কী ফল হবে, তা এখনই আন্দাজ করার সময় আসেনি। ফাইনালে ভারতীয় শিবিরের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করা যাক!
প্রথমেই আসা যাক, শক্তির কথায়। ভারত এবারের বিশ্বকাপে যেভাবে একটার পর একটা ম্যাচে বিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে চলছে তাতে অনেকেই ফের ভারতের হাতে বিশ্বকাপ ওঠার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্নকে আরও জোরদার করছে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার, মহম্মদ শামি, জসপ্রীত বুমরাদের দুরন্ত ফর্ম!
রোহিত শর্মা, এবারের বিশ্বকাপের ভারতের বিজয়রথের রশি ধরা আছে তাঁর হাতে। রোহিতের অধিনায়কত্ব প্রশংসা কুড়াচ্ছে ভারতীয় ফ্যানদের থেকে শুরু করে লিজেন্ড সকলের। শুধু কি অধিনায়কত্ব, আলোচনায় রয়েছে রোহিত শর্মার ব্যাটিংও! যেভাবে প্রতি ম্যাচে তিনি ভারতীয় ইনিংস শুরু করছেন, তা এক কথায় অনবদ্য। ক্রিকেট বিশেজ্ঞদের মতে, রোহিত ব্যাট হাতে ক্রিজে নেমেই যেমন ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, তাতে পরের দিকে ভারতীয় ব্যাটারদের ওপর চাপ কমে যায়। মাঠে রোহিতের আগ্রাসী মনোভাব দলকে বাড়তি উৎসাহ জোগাচ্ছে।
রোহিতের পরেই যাঁর নাম আসবে, তিনি হলেন বিরাট কোহলি। এবারের বিশ্বকাপে তিনি ভেঙেছেন একাধিক রেকর্ড। তৈরি করেছেন নতুন মাইলস্টোন। চলতি বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে পর্যন্ত বিরাটের রান ৭১১। এই বিশ্বকাপে ৩ টে সেঞ্চুরি হয়ে গেছে তাঁর। প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান এসেছে কোহলির ব্যাট থেকে। বল হাতেও পেয়েছেন ১ উইকেট। রোহিত-শুভমন ব্যর্থ হলে ক্রিজে টিকে থেকে ম্যাচ বের করে দিচ্ছেন বিরাট। তাই ফাইনালে বিরাটের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।
রোহিত, বিরাট ছাড়াও দলের অন্যান্য ব্যাটাররা প্রায় সকলেই রান পাচ্ছেন বিশ্বকাপে। রোহিতের সঙ্গে শুভমনের শুরুটা প্রতি ম্যাচেই নজর কাড়ছে। শুভমনের ব্যাটেও রান আছে। সেমিফাইনালে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পেশির টানের কারণে মাঠের বাইরে যেতে হয়েছিল তাঁকে, না হলে ওই ম্যাচে তিনিও সেঞ্চুরি হাঁকাতেন। শুভমন ছাড়াও বলতে হয় শ্রেয়স আইয়ারের কথা।
আইয়ার এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম আবিষ্কার! চার নম্বরে নেমে প্রায় প্রতি ম্যাচেই রান করে যাচ্ছেন তিনি। তাই ফাইনালে ভারতীয় দলের অন্যতম শক্তির নাম অবশ্যই শ্রেয়স। তারপর কেএল রাহুল, যেমন ব্যাট হাতে শেষের দিকে নেমে ঝোড়ো ইনিংস খেলছেন, তেমন গ্লাভস উইকেটের পিছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিচ্ছেন। এমনকী ফিল্ডিংয়ের সময় রিভিউ নেওয়ার ব্যাপারে রাহুলের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
'শক্তিশালী' বোলিং ব্রিগেড অনেক কম রানের পুঁজিতেও ভারতকে ম্যাচ জিতিয়েছে। বোলিং বিভাগের কথা বলতে গেলে সবার আগে আসে মহম্মদ শামির নাম। বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু সুযোগ মিলতেই নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন শামি। তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখলে যে রোহিত শর্মা সবচেয়ে বড় ভুল করতেন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন সাহসপুর এক্সপ্রেস। ফাইনালের আগেই তাঁর ঝুলিতে ২৩ উইকেট আছে। সেমিফাইনাল ম্যাচে তিনি একাই নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।
এছাড়াও আছেন জসপ্রীত বুমরা। যেকোনও স্পেলেই তিনি বল হাতে সোনা ঝরাচ্ছেন। নিয়মিত উইকেট নেওয়া থেকে শুরু করে বিপক্ষকে রান করার থেকে আটকে দেওয়া, গুরুদায়িত্ব পালন করছে বুমরা। ডেথ ওভার হোক, স্লগ ওভার যখনই বুমরার হাতে রোহিত বল তুলে দিয়েছেন, কখনই নিরাশ করেননি তিনি। পাশাপাশি ভারতের দুই স্পিনার তো আছেই। রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ যাদব। দুই স্পিনারের ভেল্কিতে কুপোকাত হচ্ছেন বিপক্ষের ব্যাটাররা। ফাইনালেও তাই ডুয়োর ওপর নজর থাকবে সবার।
পাশাপাশি ক্রিকেট মাঠে ভারতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের চোখে মুখে যে আগ্রাসন দেখা যাচ্ছে তা অবশ্যই প্লাস পয়েন্ট। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড ম্যাচে যে চাপের মুখে পড়েছিল ভারত, সেখান থেকে ম্যাচ জিতে রোহিতরা বুঝিয়ে দিয়েছেন বড় ম্যাচে চাপ নেওয়ার ক্ষমতা আছে তাঁদের।
এ তো গেল ভারতীয় দলের শক্তির কথা। কিন্তু গভীরের গেলেই ভারতের কিছু দুর্বলতা চোখে পড়বে। ধরা যাক, মহম্মদ সিরাজে ধারাবাহিকতার অভাবের কথা। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সিরাজ দাগ কাটলেও বিশ্বকাপে তাঁর বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না। রান দিচ্ছেন অনেক। সেইসঙ্গে চাপে পড়ে গুলিয়ে ফেলছেন বলের লাইন লেন্থ। তাই ফাইনালে সিরাজকে নিয়ে একটু চিন্তাতেই আছে ভারতীয় শিবির।
ভারতীয় দলের টপ ও মিডল অর্ডার ভাল ব্যাট করছে। রোহিত, শুভমন ব্যর্থ হলে বিরাট, নয়তো শ্রেয়স বা কেএল রাহুল কেউ না কেউ ব্যাট হাতে রান করেই দিচ্ছেন। তাই চলতি বিশ্বকাপে সেভাবে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি ভারতীয় ক্রিকেট দলের লোয়ার অর্ডারকে। ফাইনালে যদি কোনও অঘটন ঘটে তবে লোয়ার অর্ডার কতটা সামলাতে পারবে, তা একটা বড় প্রশ্ন। সেইসঙ্গে থাকবে অবশ্যই বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচের চাপ।
হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতি, ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের ক্ষেত্রে একটা বড় ক্ষতি। শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও ভারতের ভরসার নাম ছিলেন তিনি। তাঁর না থাকায়, দলে ৬ নম্বর বোলারকে নিয়ে ভাবনায় আছে ভারতীয় শিবির। বুমরা, শামি, সিরাজ, কুলদীপ ও জাদেজা--- এই পাঁচ বোলারদের মধ্যে কেউ যদি ব্যর্থ হন তো অন্য তেমন কেউ নেই সামাল দেওয়ার জন্য!