দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএবি-তে (CAB) মুস্তাক আলি (Mushtaq Ali) টোয়েন্টি ২০ দলগঠন নিয়ে প্রবল বিতর্ক। ২৭ অক্টোবর থেকে গুয়াহাটিতে টুর্নামেন্ট শুরু। তার আগে সোমবার সিএবি-তে ২০জনের বাংলা সিনিয়র দল বেছে নেন নির্বাচকরা। সেই দল নিয়ে সন্ধ্যা থেকেই দারুণ সমালোচনা হচ্ছে বঙ্গ ক্রিকেটে।
বাংলা সিনিয়র দলে রাখা হয়নি গতবারের অধিনায়ক অনুষ্টুপ মজুমদারকে। দলে নেই সিনিয়র উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শ্রীবৎস গোস্বামীকে, আবার নামী স্পিনার হুগলি চন্দননগরের অর্ণব নন্দীকেও দলের বাইরে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিখরের ব্যাটিং স্টাইল নকল করে আসর জমালেন বিরাট, ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল
অনুষ্টুপ গত মরসুমে একাই প্রায় দলকে রঞ্জির ফাইনালে তুলেছিলেন। সেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বয়সজনিত কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। শ্রীবৎসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে তিনি ধারাবাহিক নন। অর্ণবকে নেওয়া হয়নি চোটের জন্য। অর্ণব অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ ফিট।
সব থেকে বড় কথা, নির্বাচকরা জানিয়েছেন, দল গড়া হয়েছে গতবারের পারফরম্যান্সের হিসেবে। সেই হিসেবে এই দলের অধিনায়ক সুদীপ চট্টোপাধ্যায় কী করে হন, সেই নিয়েও জোর বিতর্ক চলছে।
কেননা সুদীপকে গতবার দলের সঙ্গে বয়ে বেড়ানো হয়েছে। তাঁকে খেলানো হয়নি। তিনি কী করে আচমকা দলের নেতা হয়ে যান, এটাই সকলের অবাক লাগছে। সুদীপের ওপর গতবার ভরসাই করা হয়নি। অথচ তিনি দলের অধিনায়ক হয়ে গেলেন, অথচ অনুষ্টুপ বাদ, সেটাই কেউ মানতে পারছেন না।
এমনিতেই বাংলার সিনিয়র নির্বাচকমন্ডলীতে রয়েছেন চেয়ারম্যান শুভময় দাস। তিনি বাংলার হয়ে কত রান করেছেন, সেটি রেকর্ড বুক খুললেই জানা যাবে। বাকিরা হলেন, প্রবাল দত্ত, জিতেন সিং, অজয় দাস। এই প্রাক্তনদের সম্মিলিত রান ও উইকেট কোচ অরুণলালের এক তৃতীয়াংশ নয়। তাই বৈঠকে তাঁরা কোচ অরুণলালকে যুক্তি সহকারে বিশ্লেষণ করতে পারবেন, সেটি কেউ মনে করছেন না।
অবাক করার মতো দলে রয়েছেন কাইফ আমেদ, ঋত্বিক রায় চৌধুরী, সায়ন ঘোষদের মতো ক্রিকেটাররা। তাঁদের বলার মতো পারফরম্যান্স নেই, তারা দলে এসেছেন কোটার ভিত্তিতে, সেটি প্রায় পরিষ্কার। প্রতিপদে মনে হয়েছে নির্বাচকদের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে, তাঁরা চিন্তাভাবনা না করেই দলগঠন সেরেছেন। অথচ তাঁরা যে ক্রিকেটার বাছাই করেছেন, ব্যর্থ হলে সেই দায়ভার নির্বাচকরা নেবেন না। তাঁরা দেখিয়ে দেবেন ওই ক্রিকেটারদের দিকে। সেটাই আসল মজা বাংলা ক্রিকেটে।
সব থেকে তাৎপর্যের বিষয় হচ্ছে, এবারের বাংলা দলটি দেখে মনেই হচ্ছে তারা বড় মঞ্চে সফল হতে পারবে না। সিনিয়র বলতে সুদীপ, ঋদ্ধিমান, ঈশ্বরণের মতো নামীরা রয়েছেন, না হলে বাকি দল একেবারেই আনকোরা। বড় মঞ্চে খেলার মতো অভিজ্ঞতা নেই, সিনিয়র জুনিয়র মিলে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে প্রতিপদে। এই দল কতটা চ্যালেঞ্জ দিতে পারবে, সংশয় থেকেই যায়।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'