
শেষ আপডেট: 27 September 2021 14:32
অনাদরে, অবহেলায় পড়ে রয়েছে বিশ্ব বাংলা ক্রীড়াঙ্গন। যা জলপাইগুড়ি সাইয়ের অন্তর্ভূক্ত।
তারপর পাঁচবছর কেটে গিয়েছে, জলপাইগুড়ি সাইতে ওই বিশ্ব বাংলা ক্রীড়াঙ্গনটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বনজঙ্গলে ভরে গিয়েছে, হয়ে উঠেছে সাপের আঁতুড়ঘর। সোমবার নব মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, ‘‘সাই-এর কার্যকলাপে আমরা একেবারেই সন্তষ্ট নয়, তারা অ্যাথলিট তুলে আনার কারখানা। কিন্তু তারা সদর্থকভাবে কাজ করেনি আমাদের দেওয়া জমিতে। এই দায় কে নেবে?’’ রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ‘‘গত ৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরকে চিঠি দিয়েছি। আমরা তিন মাস অপেক্ষা করব। কেন্দ্রীয় সরকার তার মধ্যে কোনও পদক্ষেপ না নিলে ওই স্টেডিয়াম আমরা ফিরিয়ে নিতে চাই। ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন প্রতিভা তুলে আমরা সাইকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’’ সাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা ভিনিথ কুমার আবার বলেছেন, এর আগে যিনি ডিরেক্টর ছিলেন, সেই মনপ্রিৎ সিং গোন্ডীই আমাদের এই বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি, তাঁর কাছে কাগজপত্তর থাকলেও সেই সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিবহাল করেননি, যারফলে আমি দায়িত্বে এসে কাজ বুঝতেই বুঝতেই সময় চলে গিয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এই নিয়ে দু’বার বিশদে জানিয়েছি কর্ণেল জি এস রাঠোরকে। একমাত্র কেন্দ্রের পূর্বতন ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজেজু আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন, বাকিরা সেই চিঠির জবাব দেননি, তাই আবারও দ্বারস্থ হলাম কেন্দ্র সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের। এমনকি সাই-তে যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্বই দেয়নি।’’ উপরন্তু জলপাইগুড়ি সাইতে নানা অবৈধ কার্যকলাপ হয়ে থাকে। অ্যাথলিটরাও নেই আবাসিক ঘরগুলিতে। তার মধ্যে সাপের উপদ্রব রয়েছে, ভয়ে যেতে চায় না সাধারণ মানুষও। কলকাতা সাই-ও টিমটিম করে চলছে। কেন্দ্র সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হয়ে আসার পরে তাঁদের প্রেরণা বলে উল্লেখ করেন। অথচ কিভাবে অ্যাথলিট উঠবে, সেই দিকে তাদের মন নেই। বরং ওড়িশা সরকার তারা নিজস্বভাবে পরিকাঠামো তৈরি করেছে আধুনিকতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। অথচ বাংলা পড়ে রয়েছে মান্ধাতা আমলে। সেই কারণেই প্রতিবার অলিম্পিকে বাংলার প্রতিযোগী থাকে হাতেগোনা, একদিন হয়তো কেউ থাকবেও না। তার দায় কি নেবে রাজ্য সরকার? পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'