
শেষ আপডেট: 24 February 2024 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ক্রীড়ামহলে শোকের ছায়া। উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। টেবল টেনিস টুর্নামেন্ট হচ্ছিল ইছাপুর গান অ্যান্ড শেল অডিটোরিয়ামে। অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের একটি টুর্নামেন্ট হচ্ছিল। সেখানে খেলছিলেন জেলার এক নামী খেলোয়াড় অর্পিতা নন্দী। তিনি রাজ্য স্তরের পরিচিত তারকা। যদিও জাতীয় স্তরে কোনও সাফল্য নেই।
গত শুক্রবার অর্ডিন্যান্স বোর্ডের টুর্নামেন্টে জেতে অর্পিতার দল লখনউ। সেইসময় দলের বাকিরা উৎসব করতে ব্যস্ত। তখনই অসুস্থবোধ করতে থাকেন তিনি। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
অর্পিতাকে নিয়ে যাওয়া হয় কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেছিলেন সুস্থ করে তোলার, কিন্তু বাঁচানো যায়নি অর্পিতাকে। ছোটবেলায় একবার হৃদযন্ত্রের সমস্যাও দেখা যায়। সেইসময় দেখানো ছিল ডাঃ দেবী শেঠীকে।
সবথেকে বড় কথা, অর্পিতার দাদা অনির্বাণ নন্দী বাংলা টেবল টেনিসে পরিচিত মুখ। অনির্বাণ থাকেন হাওড়া ব্যাঁটরা অঞ্চলে। তিনিও কিছু বলার ভাষা হারিয়েছেন। শনিবার ময়নাতদন্ত হবে অর্পিতার। তারপর রিপোর্ট প্রকাশ করবে পুলিশ। অর্পিতার মৃত্যুতে বাংলা টেবল টেনিসমহল একপ্রকার বাকরুদ্ধ। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে দেখে বলেছেন, অর্পিতার মৃত্যু হয়েছে বড় রকমের হার্ট অ্যাটাকে।
অর্পিতা নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন টিটি কোচ দেবাশিস চক্রবর্তী। তিনি জানান, ‘‘২০০৫ সালে অর্পিতা স্কুল গেমসে রুপো জিতেছিল। সেবার আমি কোচ ছিলাম। আবার কাকতালীয়ভাবে যখন অর্পিতার দাদা অনির্বাণ স্কুল গেমসে সোনা পেল, সেবারও আমি কোচ। আমি এগুলো নিয়ে ভাবছি না। আমি শুধু ভাবছি এত চনমনে এক মেয়ে কী করে রাতারাতি না ফেরার দেশে চলে গেল! ওদের বাড়ির সঙ্গে আমার নিত্য যোগাযোগ ছিল। সব কিছু মনে পড়ছে।’’
সম্প্রতি অর্পিতার বিয়ে হয়েছিল। ডিফেন্সে কাজের সূত্রে লখনউতে থাকতেন। খেলতে এসেছিলেন অফিসের হয়েই। কিন্তু দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পরে সবাই মিলে যখন উৎসব সারছে, সেইসময় দেখা যায়, অসুস্থ হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েন অর্পিতা। তারপর আর জ্ঞান ফেরেনি তাঁর।