
টিম ইন্ডিয়ার স্টাফ
শেষ আপডেট: 17 April 2025 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির বিতর্ক মিটেও মিটছে না। ট্রফি হেরে ফিরেছে টিম ইন্ডিয়া। সেটাও প্রথম টেস্ট জিতে। কিন্তু ড্রেসিংরুমের বিতর্ককে কেন্দ্র করে গোটা সফর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সিরিজ চলাকালীন আচমকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন রবিচন্দ্র অশ্বিন। বাদ পড়েন রোহিত শর্মা। বিবাদে জড়িয়ে পড়েন খেলোয়াড়-অধিনায়ক। আর সমস্ত বিষয় সামনে বেরিয়ে আসে দলেরই এক ক্রিকেটারের ‘সৌজন্যে’।
সেই সময় টিমের সদস্য সরফরাজ খানের দিকে আঙুল তুলেছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। জানিয়েছিলেন, সরফরাজই আসল কালপ্রিট। তিনিই সাজঘরের অন্দরমহলের সমস্ত গোপন খবর, ঘটনা বাইরে মিডিয়ার হাতে চালান করছেন।
গতকাল এই ইস্যু আচমকা পর্দা সরিয়ে ফের সামনে টেনে আনেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্ট মিলিয়ে সাকুল্যে ৩১ রান তোলা রোহিতের দলে থাকা-না থাকা নিয়ে প্রবল বাদানুবাদ শুরু হয়েছিল। কেন টানা অফ ফর্মে থাকা সত্ত্বেও রোহিতকে খেলানো হচ্ছে—উঠেছিল প্রশ্ন। যার জেরে অন্তিম টেস্টে নামানো হয়নি তাঁকে। এটা নেহাতই স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো নাকি কোচের হস্তক্ষেপে বাদ দেওয়া—অনেকেই তর্ক তোলেন। এই সূত্রে মাইকেল ক্লার্কের একটি পডকাস্টে হাজির হয়ে অতিসম্প্রতি রোহিতের দাবি, তাঁর অন্তিম টেস্টে না নামা নিয়ে নির্বাচক-কোচ সংঘাতে জড়ান। এক জন তাঁর পক্ষে ভোট দিলেও অন্যজন বাদ দিতে চেয়েছিলেন। যার নিট ফল তাঁকে বাইরে রেখে শুভমান গিলকে খেলানো।
এই নিয়ে নতুন করে তর্কের তুফান ওঠার আগে জানা গেল, ড্রেসিংরুমের খবরাখবর বাইরে চালান করার অপরাধেই টিম ইন্ডিয়ার কোচিং টিম থেকে তিন পুরনো সদস্যকে ছাঁটাই করেছে বিসিসিআই। তাঁরা হলেন: অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ অভিষেক নায়ার, ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ এবং ট্রেনার সোহম দেশাই। এই বহিষ্কার নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু সূত্রের খবর, তিনজনকেই আলাদা করে চাকরি যাওয়ার খবর জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে কে বা কারা তাঁদের জায়গায় স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হবেন, হলে সেটা কবে—সেই বিষয়েও নিরুত্তর বিসিসিআই।
এমনিতে সহকারী কোচ অভিষেক নায়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। আট মাস আগে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে নায়ার ও দিলীপ তিন বছর ধরে টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সূত্রের খবর, ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি বোর্ড একটি ফরমানও জারি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, এবার থেকে তিন বছরের বেশি সময় ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত কোনও সহকারী কোচ ও সদস্যকে প্রয়োজনে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তিন বহিষ্কৃত সাপোর্ট স্টাফের জায়গায় অস্থায়ীভাবে যাঁদের রাখা হয়েছে তাঁরা হলেন: রায়ান টেন দুশখতে, আদ্রিয়ান লি রাক্স ও শীতাংশু কোটাক। তাঁরা কতদিন দায়িত্বে থাকবেন, এই নিয়েও মুখে কুলুপ এঁটেছে বিসিসিআই।