নিজের আবেগ প্রকাশ আর প্রতিপক্ষের মনোযোগে হস্তক্ষেপ—এই দুইয়ের সীমারেখা টেনিসে বরাবরই স্পষ্ট। নাভ্রাতিলোভা–ড্যাভেনপোর্টের মতো কিংবদন্তিরা সেই সীমারেখাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।

বিতর্কে ওসাকা
শেষ আপডেট: 23 January 2026 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এল নাওমি ওসাকার (Naomi Osaka) আচরণ। ম্যাচ শেষে কোর্টের ঘটনাকে ঘিরে এবার প্রকাশ্য সমালোচনায় মুখ খুললেন টেনিস দুনিয়ার দুই কিংবদন্তি—মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা (Martina Navratilova) এবং লিন্ডসে ড্যাভেনপোর্ট (Lindsay Davenport)। তাঁদের সাফ বক্তব্য—ওসাকা ‘সাধারণ টেনিস শিষ্টাচার’ মানেননি।
কী হয়েছিল মেলবোর্ন পার্কে?
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে সোরানা সিস্তেয়াকে (Sorana Cirstea) হারান ওসাকা। কিন্তু ম্যাচের ফলাফলের থেকেও বেশি নজর কাড়ে একটি বিশেষ মুহূর্ত। সিস্তেয়ার প্রথম সার্ভ মিস হওয়ার পর, দ্বিতীয় সার্ভ দেওয়ার ঠিক আগেই ওসাকার ‘কাম অন’ চিৎকারে বিরক্ত হন রোমানিয়ান তারকা। ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকেও সেই অস্বস্তি স্পষ্ট।
এরপর অন-কোর্ট ইন্টারভিউতে ওসাকার মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে। যদিও পরে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর আচরণ ‘অসম্মানজনক’ ছিল এবং তার জন্য ক্ষমাও চান তিনি। কিন্তু ততক্ষণে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
‘প্রতিপক্ষের সার্ভের মধ্যে কথা বলা যায় না’
এই ঘটনায় সরাসরি আপত্তি তুলেছেন মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা (Martina Navratilova)। টেনিস চ্যানেলে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের শেষে ওসাকা যা বলেছে, সেটা হয়তো মুহূর্তের উত্তেজনা থেকে এসেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সার্ভের মাঝখানে জোরে কথা বলা—এটা একেবারেই ঠিক নয়।’ তাঁর কথায়, ‘সিস্তেয়া তখন দ্বিতীয় সার্ভের জন্য প্রস্তুত। ঠিক সেই সময় ওসাকা “কাম অন” বলেছে। এটা করা যায় না। আমি বিশ্বাস করি না, ওসাকা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। কিন্তু এটুকু বোঝা দরকার—নিজেকে উজ্জীবিত করতে চাইলে মনে মনে করো, জোরে বলো না।’
একই সুর ড্যাভেনপোর্টের
একই সুরে কথা বলেছেন লিন্ডসে ড্যাভেনপোর্ট (Lindsay Davenport)। তাঁর মতে, বয়স বা অভিজ্ঞতার অভাবের প্রশ্নই নেই। বলেছেন, ‘ওসাকার বয়স ২৮। বহু বছর ধরে সে ট্যুরে খেলছে। এটা এমন একটা বিষয়, যেটা তুমি করো না—এতটাই সহজ।’ ড্যাভেনপোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, ওসাকার মধ্যে কোনও খারাপ মনোভাব নেই। তাই আমি অবাক হব, যদি সে পরের ম্যাচে এমন কিছু আবার করে। নিজের মধ্যে উত্তেজনা রাখার অনেক উপায় আছে—উরুতে চাপড় মারা যায়। কিন্তু প্রতিপক্ষের সার্ভের মাঝখানে চিৎকার? এটা বেসিক টেনিস এটিকেট ১০১।’
সিস্তেয়ার সংযত প্রতিক্রিয়া
যদিও দুই কিংবদন্তির মন্তব্যে বিতর্ক তুঙ্গে, সোরানা সিস্তেয়া (Sorana Cirstea) নিজে বিষয়টা হালকা রাখতেই চেয়েছেন। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কোনও নাটক নেই। দু’জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মধ্যে পাঁচ সেকেন্ডের একটা কথাবার্তা। ওখানেই শেষ।’
বড় ছবিটা কী?
নিজের আবেগ প্রকাশ আর প্রতিপক্ষের মনোযোগে হস্তক্ষেপ—এই দুইয়ের সীমারেখা টেনিসে বরাবরই স্পষ্ট। নাভ্রাতিলোভা–ড্যাভেনপোর্টের মতো কিংবদন্তিরা সেই সীমারেখাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। ওসাকা ক্ষমা চেয়েছেন। বিতর্ক আপাতত থামতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই ঘটনাটা টেনিস দুনিয়ায় আরও একবার মনে করিয়ে দিল—গ্র্যান্ড স্ল্যামে শুধু শট নয়, শালীনতাও জরুরি।