
ইন্টার মিলান বনাম বার্সেলোনা
শেষ আপডেট: 1 May 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইস্কোরিং ফুটবল ম্যাচ অপ্রতুল নয়, আকছার হয়। কিন্তু ছ'গোলের ছ'খানাই বিশ্বমানের আর সেটাও চ্যাম্পিয়নস লিগের (Champions League) সেমিফাইনালের মঞ্চে—এ দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না।
এমনই রুদ্ধশ্বাস নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকলেন বার্সেলোনার (Barcelona) এস্তাদি অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আগত ৫০ হাজার দর্শক। শুরুটা ব্যাকহিল ফ্লিক দিয়ে। খতম হল দূরপাল্লার জোরালো শটে। ঠিক যেন টানটান থ্রিলার। পরতে পরতে উত্তেজনা। বার্সেলোনা বনাম ইন্টার মিলানের প্রথম লেগের লড়াই শেষ হল ৩-৩ ফলাফলে৷ চূড়ান্ত ভাগ্যনির্ধারণ তোলা রইল পরের সপ্তাহের জন্য।
২০১০ সালে শেষবার দুই টিম মুখোমুখি হয়েছিল। সেটাও ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল। শেষ হাসি হেসেছিলেন জোসে মোরিনহো। পেপ গোয়ার্দিওলার অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনাকে রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজিতে আটকে ফাইনালে উঠেছিল ইন্টার (Inter Milan)। জিতেছিল ট্রফিও।
সিমনে ইনজাঘির (Simone Inzaghi) ইন্টার মিলান যদিও সাবেকি ইতালীয় ঘরানার ফুটবল খেলে না। ৩-৫-২ নকশায় দল সাজান ইনজাঘি। কেন সাজান, তার প্রমাণ গতকালের ম্যাচের প্রথম তিরিশ সেকেন্ড। রাইট উইং ব্যাক ডামফ্রিজ নীচ থেকে উঠে আসেন উপরে। তারপর মাটিঘেঁষা ক্রস বাড়িয়ে দেন মার্কাস থুরামকে লক্ষ্য করে। নিখুঁত ব্যালহিলে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ফরাসি স্ট্রাইকার।
পয়লা মিনিটেই গোল খেয়ে চমকে যায় বার্সা। চমক বাড়ে খানিক বাদে। ফ্রাঞ্চেসকো আচের্বির কর্নার থেকে আসে দ্বিতীয় গোল৷ ভাসানো বল হেডে জালে জড়ান প্রথম গোলের মাস্টারমাইন্ড ডামফ্রিজ৷
যখন মনে হচ্ছে প্রথমার্ধেই কাউন্টার অ্যাটাকে আরেক গোল করে লড়াই খতম করে দেবে ইন্টার, ঠিক তখনই প্রত্যাঘাত। মাঠের ডান প্রান্তে মার্কারকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে ঠিকানা-লেখা শট নেন তরুণ উইংগার লামিন ইয়ামাল৷ ঠিক যেন কবিতা। স্মৃতিতে ধাক্কা মারে একটি নাম: লিওনেল মেসি। বার্সার জার্সিতে ঠিক এভাবেই আউটস্টেপে গোলের পর গোল করে গেছেন মেসি। ইয়ামালকে কেন তাঁর উত্তরসূরী বলা হচ্ছে, তার নমুনা মেলে ধরেন স্পেনের নবাগত তারকা।
৩৮ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। পেদ্রির ভাসানো বল হেডে ফেরান টরেসের পায়ে বাড়িয়ে দেন ব্রাজিলীয় রাফিনহা। দুর্দান্ত ফিনিশিং। ম্যাচ ২-২।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ে। দুই দলই সুযোগ পায়। কিন্তু ফের এগিয়ে গিয়ে চাপ বাড়ায় ইন্টার। গোলদাতা সেই ডেমফ্রিজ। দু'মিনিট পর রাফিনহা দূরপাল্লার শটে ফের লড়াইয়ে সমতা আনেন৷
আগামী মঙ্গলবার লড়াই সান সিরোয়৷ সেদিনই জানা যাবে দ্বৈরথের চূড়ান্ত ফল। জয়ী টিম যাবে মিউনিখ। ফাইনাল ৩১ মে।