
শেষ আপডেট: 16 November 2023 22:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডেন গার্ডেন্সে সেইসময় সবেমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ইনিংস শেষ করেছে ২১২ রানে। আলোচনায় চলে আসছিল ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের কথা। সেই ম্যাচেও টার্গেট ছিল ২১৩ রানের। ওই ম্যাচ ‘টাই’ হয়েছিল। সেবার হার মানে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারও ১৬ বল বাকি থাকতে তাদের হারতে হল।
ইডেনে যেন ফিরল সেই সন্ধিক্ষণ। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে? আবার বাজির দরে এগিয়ে ছিল অজিরাই। ৮৫ শতাংশ এগিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রোটিয়াদের তরফে ১৫ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন তারাই জিতবে। কিন্তু সেটি হল না। ইডেনেও বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অজিদের কাছে হার মানল তারা তিন উইকেটে। রবিবার আমদাবাদে ভারতের সামনে অস্ট্রেলিয়াই। মোট ৮বার ফাইনালে উঠল ডনের দেশ। আর এবারও ট্র্যাজিক বিদায় দক্ষিণ আফ্রিকার। তারা সেমিতে চারবার উঠেও ফাইনাল খেলতে পারল না।
ইডেনের উইকেট স্পিন সহায়ক হবে। আগে থেকেই পূর্বাভাস ছিল। সেইমতোই দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রক হবেন, ভাবা হয়েছিল। মিলেও দিয়েছিলেন কেশব মহারাজ, তাবরিজ সামসিদের মতো অভিজ্ঞ স্পিনাররা। এমনকী রাতের ইডেনে জেরাল্ড কোয়েতজির দুরন্ত পেস বোলিংও ঘুম কেড়ে নিয়েছিল অজিদের। কিন্তু ওস্তাদের মার শেষরাতের মতোই কামিন্স আসল নেতা হিসেবে ১৪ রান করলেন। সঙ্গী স্টার্কের ১৬ রানও মহা গুরুত্বপূর্ণ।
সেইসময় অজি ব্যাটারদের হাল ভাল ছিল না। ১৩৭ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে গিয়েছে। ম্যাক্সওয়েলকে তুলে নিয়ে সারা ইডেন আনন্দে চক্কর খাচ্ছেন সামসি। ইডেনে তখন চড়কির মতো স্পিনারদের বল ঘুরছে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার (২৯)। তিনি ফেরেন মাকরামের বলে বোল্ড হয়ে। পাশাপাশি ট্রেভিস হেড ৪৮ বলে ৬২ রান করেন। ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও দুটি ছক্কা। মিচেল মার্শ ফেরেন ভ্যান ডার দুসেনের দুরন্ত ক্যাচে। বাজপাখীর মতো ক্যাচ নেন প্রোটিয়া ফিল্ডার। বোলার ছিলেন রাবাদা।
অজিদের ব্যাটিং লাইনআপে লিউকোপ্লাস্টের মতো আটকে ছিলেন স্টিভ স্মিথ। লাবুশানে (১৮) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (১) ফেরার পরে মনেই হয়েছিল প্রোটিয়ারাই রাতকে স্মরণীয় করে রাখবেন।
তার মধ্যে যশ ইংলিশের রানআউট মিস করেন দক্ষিণ আফ্রিকা ফিল্ডাররা। সেইসময় কিছু হলে আরও চাপে পড়ে যেত প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন দল।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে এই লড়াইয়ের জমিটা দিয়েছেন অবশ্য নামী ব্যাটার ডেভিড মিলার। ২১২ রানের মধ্যে তিনিই করেছেন ১০১ রান। মিলারই পিলার হয়ে গিয়েছিলেন অজি বোলারদের সামনে। মিলারের ইনিংসে ছিল ৮ট চার ও পাঁচটি ছক্কা।