
আশুতোষ শর্মা
শেষ আপডেট: 25 March 2025 19:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপাতত আইপিএল আশুতোষ-ময়! লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ৩১ বলে ৬৬ রানের ইনিংসের ঘোর কাটিয়ে বেরোতে পারেননি কেভিন পিটারসনের মতো ক্রিকেট তারকা। অথচ আশ্চর্যের হলেও সত্যি, বছর ছাব্বিশের এই ক্রিকেটারকে গোড়ায় দলে নিতে নারাজ ছিলেন রেলওয়েজ টিমের নির্বাচকরা। তাঁদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, আশুতোষ স্রেফ বড় শট খেলতে পারেন, সেভাবে ব্যাট করতে জানেন না। গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন রেলওয়েজ টিমের কোচ নিখিল ডোরু।
মাথার উপর ২১০ রানের টার্গেট। সেটা তাড়া করতে নেমে ৭ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট খুইয়ে ফেলে দিল্লি ক্যাপিটালস। স্কোরবোর্ডে তখন ৬৫ রান। এই অবস্থা থেকে ঝোড় ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনারা থেকে জয়ের রাস্তায় ফিরিয়ে আনেন আশুতোষ।
এই নিয়ে আপাতত দেশজুড়ে চর্চা চললেও নিখিল ডুব দিয়েছেন অতীতে। জানিয়েছেন কীভাবে নির্বাচকদের মন গলাতে নাগাড়ে চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। বলেছেন, ‘সকলেই ওকে দলে জায়গা দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। সবাই বলছিল, আশুতোষ ব্যাট করতেই জানে না। স্রেফ বড় শট খেলতে পারে। আমি কিন্তু লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলাম। এর কারণ আমি জানতাম, ও গেম-চেঞ্জার। আশুতোষকে প্রথম চারটি ম্যাচের তিনটিতে বেছে নেওয়া হয়নি। যদিও তারপর চতুর্থ ম্যাচ, গুজরাতের বিরুদ্ধে, জায়গা পায়। আশুতোষ জানত, এই ম্যাচে ব্যর্থ হলে ওকে বাদ পড়তে হবে।‘
এরপর কীভাবে প্রতিকূলতার সঙ্গে যুঝে রঞ্জিতে স্মরণীয় অভিষেক উপহার দিলেন? নিখিল বলেন, ‘পরিস্থিতি আশুতোষের অনুকূলে ছিল না। তার কারণ খেলা হচ্ছিল গুজরাতের ঘরের মাঠে। আবহাওয়া ছিল বোলার-বান্ধব। রেলওয়েজের টিম লিস্ট নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধে। দুটো তালিকা পেশ করা হয়। যার মধ্যে একটিতে আশুতোষের নাম ছিল, অন্যটিতে ছিল না। এই ধোঁয়াশার কারণে আমি বোলার কর্ণ শর্মাকে আগে ব্যাট করতে পাঠাই। এরপর স্কোর দাঁড়ায় ১৩৫ রান। আর ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলি আমরা।‘
অর্ধেক দল যখন ড্রেসিং রুমে ফিরে গিয়েছে তখন মাঠে নামেন আশুতোষ। এরপর কী হল? নিখিল জানান, ওই সময় তিনি গুজরাতের স্পিনার রবি বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাঁকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিং এবার শুরু হল মাত্র’। রবি অবাক হয়ে এ কথার অর্থ জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেন আশুতোষ। নিজে করেন ১২৩ রান। মাত্র ৮৪ বলে। ১২টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। যার জেরে টিমের স্কোর ৩১৩ রানে পৌঁছয় এবং শেষমেশ ম্যাচ জিতে নেয় রেলওয়েজ।