
শেষ আপডেট: 2 January 2024 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনের দিক থেকে দুই বান্ধবী দু’প্রান্তে। একজন ঐহিকা মুখোপাধ্যায় সদ্য অর্জুন হওয়ার পরে বর্ষবরণে উৎসব পালন করেছেন পার্ক স্ট্রিটে ছোট ছোট ভাইবোনদের সঙ্গে।
একই যাত্রায় পৃথক ফল হয়েছে সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। তিনি ও ঐহিকা ছোটবেলার বান্ধবী, নৈহাটিতে থাকেন প্রায় একই পাড়ায়। চিনের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে টেবল টেনিসের ডাবলসে দু’জনের হাত ধরে দেশ ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। দুই বঙ্গতনয়া গর্বিত করেছেন সমগ্র বাংলাকে।
সুতীর্থা ও ঐহিকা, দু’জনেই সাফল্য পেয়েছেন টেবল টেনিসে। বরং ঐহিকার আন্তর্জাতিক সাফল্য বেশি। সেটাই অর্জুন পাওয়ার মাপকাঠি। কারণ ঐহিকা অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, বিশ্বকাপ, কমনওয়েলথ টিটি ও গেমসে সফল। জুনিয়র ভারতীয় দলের হয়ে ঐহিকা বেশি সফলতা পেয়েছেন। অর্জুন পুরস্কার যাঁরা দেন, তাঁরা সেটাই দেখেছেন নামী তারকার ক্ষেত্রে।
আগামী ৯ জানুয়ারি সফল ক্রীড়াবিদদের হাতে কেন্দ্রের তরফ থেকে পুরস্কার দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মূ। দিল্লির ফ্লাইট ঐহিকা ধরলেও সুতীর্থা এখনও জবাব খুঁজে চলেছেন কেন তাঁর প্রতি অবিচার হল। তিনি একপ্রকার মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলাও ছেড়ে দিয়েছেন।
ঐহিকা ও সুতীর্থা দুই অভিন্নহৃদয় বান্ধবী আবার একই কোচের কাছে খেলা শেখেন। সৌম্যদীপ রায় ও পৌলমী ঘটকের অ্যাকাডেমিতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ঐহিকা। কিন্তু সুতীর্থা প্রায় ঘরবন্দি। প্রথম যখন ক্রীড়া মন্ত্রক থেকে অর্জুন পুরস্কারের জন্য নাম ঘোষণা হল, সেইসময় দু’জনই হরিয়ানার পাঁচকুলায় জাতীয় সিনিয়র আসরে খেলছিলেন।
অর্জুন স্বীকৃতির খবরে ঐহিকা আনন্দে ভেসে গেলেও, হতাশায় মুখ ঢেকেছেন ২৮ বছরের সুতীর্থা। তিনি প্রায় খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। বাড়ির বাইরেও যাননি এই দিনগুলিতে। বর্ষবরণে ঐহিকাকে দেখা গিয়েছে পার্কস্ট্রিটে ভাইবোনদের সঙ্গে আনন্দ করতে। সেইসময় সুতীর্থা ঘরের কোণে বসে শুধু উত্তর খুঁজে গিয়েছেন। সুতীর্থার কাছের বান্ধবী ঐহিকাও জানালেন, আমাদেরও সমানভাবে কষ্ট হচ্ছে ওঁর জন্য। আমরাও সমব্যথী।
সুতীর্থার মা এদিন বলছিলেন, মেয়ের মনের অবস্থা ভাল ছিল না। এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে ঘরের বাইরে বেরতেই চাইছিল না। খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে অবশ্য মেয়ে অনুশীলনে নামবে আগের মতোই সবকিছু ভুলে। প্রসঙ্গত, জাতীয় টিটিতে অতীতে খেতাব পেয়েছেন সুতীর্থা।
এর আগে বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে সুতীর্থার নির্বাসন হয়েছিল। সেই অভিযোগকে মিথ্যে প্রমাণ করে নামী এই তারকা ফের টিটি-তে এসে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ভারী চেহারার মধ্যেও যে এত রিফ্লেক্স থাকে, সুতীর্থার খেলা দেখলেই সেটা বোঝা যায়।
সুতীর্থার মা জানিয়েছেন, আমার মেয়ে লড়াই করে এগিয়েছে। এরও জবাব দেবে ভাল খেলে, দেশকে পদক জিতিয়ে।