
শেষ আপডেট: 15 June 2018 14:38
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল [/caption]
একদিকে আছেন বিশ্ব ফুটবলের বাঁ পায়ের জাদুকর লিওনেল মেসি। অন্যদিকে নিজেদের যোগ্যতাকে ছাপিয়ে যাওয়া একটা দল। একদিকে আছে দু'বার বিশ্বকাপ জেতা ও পাঁচবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে এ বারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার সুযোগ পাওয়া ছোট্ট দেশ আইসল্যান্ড।
অসম লড়াই হয়ে যাচ্ছে না?
কিন্তু বিগত কয়েক বছরের ফুটবলের রেকর্ড বলছে অন্য কথা। ২০১০ বিশ্বকাপের পর রিকেলমে, পাবলো আইমাররা চলে যাওয়ার পর 'লা আলবিসেলেস্তে'রা হয়ে উঠেছেন প্রবল ভাবে লিও নির্ভর এক দল। এই অতিরিক্ত লিও নির্ভরতার খেসারত দিতে হয়েছে ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে। একা কাঁধে করে দলকে ফাইনালে তুললেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি মেসি। হারের যন্ত্রণায় অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের ডাকে আবার ফিরে এসেছেন আকাশি-সাদা জার্সিতে।
অন্যদিকে ফুটবল মানচিত্রে আইসল্যান্ডের উত্থান ইউরো কাপ ২০১৬ তে। একদম ধর্তব্যের বাইরে থাকা একটা দল থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। পর্তুগালের সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডকে হারানো। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হারলেও মন জয় করে নিয়েছিলেন মাত্র ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট এই দেশটি। খেলা চলাকালীন তাঁদের সমর্থকদের হুঙ্কার কাঁপন ধরিয়েছিল বেশ কিছু দেশের বুকে।
[caption id="attachment_12062" align="alignright" width="300"]
আইসল্যান্ড জাতীয় দল [/caption]
শনিবারের খেলাতেও তাই বরফের দেশের এই খেলোয়াড়রা নিজেদের সবটা দিয়েই ঝাঁপাবেন অ্যারন গুনারসনের নেতৃত্বে। মূল লক্ষ্য থাকবে মেসিকে চুপ করিয়ে রাখা। নিজেদের ডিফেন্স জমাট রেখে তারপর আক্রমণে ওঠা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দলে মেসি ছাড়াও আছেন মাসচেরানো, ডি মারিয়া, আগুয়েরো, হিগুয়েনের মতো পোড় খাওয়া খেলোয়াড়। সঙ্গে মেসি এ বার পাশে পাবেন তরুণ ডিবালাকে। তাই বলা যেতেই পারে, লড়াই হবে মূলত আইসল্যান্ডের ডিফেন্স বনাম আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভাগের।
মেসিও জানেন এই বিশ্বকাপই নিজের গৌরব ফিরে পাওয়ার শেষ সুযোগ তাঁর কাছে। ক্লাব ফুটবলে সব সাফল্য পাওয়ার পরেও দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জেতার আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি আর্জেন্টিনা ভক্ত তাকিয়ে আছেন তাঁর দিকেই। জানেন ব্যর্থ হলেই বিদ্ধ হতে হবে সমালোচনার বাণে। প্রশ্ন উঠবে তাঁর ফুটবল প্রতিভার উপরেই। এও জানেন যে প্রত্যেকটা ম্যাচে বিপক্ষের টার্গেট তিনিই। তাঁকে আটকানোর জন্য সব চেষ্টা করবেন বিপক্ষের ডিফেন্ডাররা।
কিন্তু তাও বারবার মাঠে নামেন মেসিরা। বাধা টপকে, যন্ত্রণা সহ্য করে লড়াই চালিয়ে যান শেষ পর্যন্ত। সফল হওয়ার আশায়। কারণ চ্যাম্পিয়নরা কোনোওদিন হারেন না, তাঁরা হার মানেন না। শনিবারের লড়াই দেখিয়ে দেবে কার জয় হয়? তারুণ্য না অভিজ্ঞতার।
https://www.youtube.com/watch?v=QqS0T16mm_8