দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের মুকুল ওয়াসনিকের পরে এত সফল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী এর আগে কেউ ছিল না। তাই কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে কিরেন রিজেজুকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। তিনি ছিলেন ক্রীড়াবিদদের স্পোর্টস মিনিস্টার। সবাই তাঁকে নিজের সমস্যা বলতে পারতেন।
কিরেন রিজেজু পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা হলেও তিনি প্রাদেশিকতায় মগ্ন থাকেননি, তিনি সারা দেশের ক্রীড়াবিদদের সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। তিনি নিজে টুইট করে দেশ-বিদেশে সফল ক্রীড়াবিদদের কথা জানাতেন। এটা একজন মন্ত্রী হিসেবে ভাবাই যায় না।
সেই কিরেন রিজেজুকে সরিয়ে মোদী সরকার ক্রীড়ামন্ত্রী করেছে প্রাক্তন বোর্ড প্রেসিডেন্ট তথা হিমাচল প্রদেশের সাংসদ ৪৬ বছরের অনুরাগ ঠাকুরকে। তিনি আবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও বটে। বিসিসিআই মহলে কান পাতলে শোনা যায়, বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে অমিত শাহকে সৌরভের বিষয়ে তদ্বির করেছিলেন এই অনুরাগই। তিনি জোর দিয়ে সৌরভের বিষয়টি বলেছিলেন মোদী-অমিত শাহকে।
সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোধা কমিটির সুপারিশ পাস হওয়ার পরে বোর্ডের মসনদ থেকে সরতে হয়েছিল অনুরাগকেই। তিনি সেইসময় একটা পদ পাওয়ার বিষয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলির কাছের পাত্র।
এমনকি তিনি নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহেরও কাছের নেতা, তিনি প্রাক্তন বিজেপি-র সর্বভারতীয় যুব মোর্চার প্রেসিডেন্টও ছিলেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে সাংসদও হন।
ক্রিকেট বোর্ড থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলেও তিনি হয়ে গেলেন ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের সর্বময় ব্যক্তি, তিনি নীতি নির্ধারণের অধিকারী। অনুরাগ ঠাকুরের ডেপুটি তথা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে।
অলিম্পিক গেমস শুরু হতে বাকি আর হাতে গোনা কয়েকদিন, তার আগেই ঝটিতি বদল করা হল এই মন্ত্রক। এই নিয়ে ক্রীড়ামহলে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, কারণ কিরেন রিজেজু ছিলেন প্রাদেশিকতার উর্ধ্বে থাকা এক সফল নেতা। যিনি বহু দুঃস্থ ক্রীড়াবিদদের কেন্দ্রের কোষাগার থেকে নিজ ক্ষমতা বলে অর্থ পাইয়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে, হিমাচলপ্রদেশের হামিরপুরের বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ থেকে সচিব এবং সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি, এমনকি হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট সংস্থারও শীর্ষ কর্তা ছিলেন।
২০১৯ সালে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোদীর মন্ত্রিসভায় আসেন। নির্মলা সীতারমনের মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। এবার উত্তর ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা অনুরাগ পেলেন পূর্ণ মন্ত্রিত্ব। কিন্তু এমন একজনের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি, প্রতিপদে চ্যালেঞ্জ অনুভব করবেন। রিজেজুর কাজকে টেক্কা দিতে গেলে অনুরাগকেও সবার মন্ত্রী হয়ে উঠতে হবে।