
অম্বাতি রায়ডু ও করুণ নায়ার
শেষ আপডেট: 15 April 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমশ হারিয়ে যেতে যেতে মিলিয়ে যাওয়ার আগে ফিনিক্সের কায়দায় প্রত্যাবর্তন করেছেন করুণ নায়ার।
এমনিতে ভারতীয় ক্রিকেটে রূপকথাসম ফিরে আসার গল্পের অভাব নেই। তিনি হতে পারেন মনসুর আলি খান পাতৌদি। যিনি গাড়ি দুর্ঘটনায় একটি চোখ হারানোর পরেও ফের ময়দানে পা রাখেন। তুলে নেন দলের দায়িত্ব। একইভাবে দৃষ্টান্ত মেলে ধরেছেন ঋষভ পন্থও। অবিশ্বাস্য সেই প্রত্যাবর্তন। ২০২২ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম ক্রিকেটার দু'বছর বাদে দলকে টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট জেতানোর কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন।
চোট আঘাত, অন্তর্দ্বন্দ্ব, কুটিল রাজনীতি পেরিয়ে দল থেকে বাদ পড়েও কামব্যাক করেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে আশিস নেহেরা। ভিভিএস লক্ষ্মণ থেকে জাহির খান।
এমনিতে জাতীয় ক্রিকেটে ফিরে আসার রাস্তাটা বেশ সাফ৷ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যাও৷ নেমে পড়ো মুস্তাক আলি ট্রফি, রঞ্জির মতো টুর্নামেন্টে। লাল বল, সাদা বল—সমস্ত ধরনের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করো। তারপরই জুটবে টিম ইন্ডয়ায় প্রত্যাবর্তনের টিকিট।
এই সরণিই বেছে নেন করুণ নায়ার। ২০১৬ সালে জাতীয় দলের হয়ে ত্রিশতরান। চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ভারয়ীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই নজির গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর সবকিছু সহজ ছিল না। আচমকাই বাদ পড়েন। আর সুযোগও মেলেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নেমেছেন। বিস্তর রান তুলেছেন। সদ্য শেষ হওয়া মরশুমেই গড় ছিল তিনশোর উপর। তবু না টেস্ট, না ওয়ান ডে—কোথাও জায়গা জোটেনি। তিন বছর বাদে আইপিএলে ফিরেছেন ঠিকই। কিন্তু কোটি টাকার চুক্তি যখন জলভাত, সেখানে মাত্র ৫০ লক্ষ টাকায় করুণ নায়ারকে দলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। তারপরেও সিজনের ছ'নম্বর ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
এতেই উঠেছে একগুচ্ছ প্রশ্ন: কেন নিজেকে প্রমাণ করেও ব্রাত্য থাকতে হয় করুণ নায়ারদের? তবে কি ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স একমাত্র মানদণ্ড নয়? আর কী করলে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া যায়?
উত্তর খুঁজছেন অনেকে। আপাতত এর উত্তর দিয়েছেন অম্বাতি রায়ডু। যিনি নিজেও জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলেও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সুযোগ পাননি৷ একদা প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটার কীভাবে সুযোগের অভাবে হারিয়ে যান—রায়ডুর অন্তর্ধানে এই বিতর্ক ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
করুণের যাতে এই পরিণতি না হয়, সেই নিয়ে তাঁকে সতর্ক করেছেন রায়ডু। বলেছেন, ‘দল থেকে বাদ পড়ার পর খুব কম ক্রিকেটারই জমকালো কায়দায় কামব্যাক করেন। করুণ তাঁদেরই একজন৷ ভারতে ঘরোয়া ক্রিকেটের সিস্টেমে একবার হারিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসাটা খুবই সমস্যার৷ বিশেষ করে, যখন তুমি মানসিকভাবে নুয়ে পড়েছ, চারপাশের হাজারো ঘটনা তোমার কাঁধ ঝুঁকিয়ে দিয়েছে, বহু মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে শুরু করে।’
করুণ কোথায় আলাদা? এর কারণ ব্যাখ্যায় রায়ডুর বক্তব্য, ‘ক্রিকেট দ্রুত বদলে যায়, এগিয়ে চলে। কিন্তু এত বছর বাদেও করুণ এতটুকু বদলায়নি৷ ও কোথাও যায়নি। ভুল করেছে। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। আরও পরিশ্রম করেছে৷ আর কখনও এই বিশ্বাসটা হারায়নি যে, ও কামব্যাক করতে পারে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আমি সত্যি চাই, করুণ যেন ইংল্যান্ডে যেতে পারে৷’