
শেষ আপডেট: 23 February 2024 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসাধারণ প্রত্যাবর্তন বললেও কম বলা হবে। বিহার থেকে উঠে এসে কলকাতায় ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। কলকাতায় আকাশদীপের স্থায়ী কোনও ঠিকানা ছিল না। তিনি থাকতেন সিএবি-র ডর্মিটরিতে, আবার কখনও বা বাগুইআটি কেষ্টপুরে। সেই আস্তানায় থেকে ময়দানের ইউনাইটেড স্পোর্টসে খেলেছেনও।
আকাশের কাছে বড় সম্পদ হল তাঁর মনের জোর। তিনি দু’মাসের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন পরিবারের দুই কাছের মানুষকে, বাবা ও দাদাকে। আকাশের মাথা থেকে সরে যায় এক আস্ত আকাশ, তিনি অভিভাবকহীন হয়ে যান। খেলা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।
আকাশকে যিনি আবিষ্কার করেছিলেন, ময়দানের নামী কোচ সৌতম মিত্র বলছিলেন, আকাশের মনের জোর খুব। প্রথমে ওর মধ্যে যা জেদ দেখেছিলাম, সেটি দেখেই ভাল লেগেছিল।
দুর্গাপুর থেকে এসে ভিডিওকন ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে যোগদান। তারপর ইউনাইটেড ক্লাবে আসা। বর্তমানে ময়দানের বড়িশা স্পোর্টিংয়ে খেললেও বেশি খেলেছেন মোহনবাগানে। হাওড়া ময়দান নিবাসী কোচ সৌতম বলছিলেন, আকাশের বড় একটা হৃদয় রয়েছে। অতীত ভোলেনি। সেই কারণেই গত পরশু দিনও ভারতীয় দলে সুযোগের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। জবাবে আমাকে লিখল, ধন্যবাদ স্যার।
আকাশের জীবনে বড় দুর্যোগ নেমে আসে যখন দু’মাসের মধ্যে বাবা ও দাদাকে হারান। সেইসময় নিজেই পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন। কাজের সন্ধানে বিহার থেকে চলে আসেন দুর্গাপুরে। সেখানে কাজের পাশে সারাদিন খেপ খেলে বেড়াতেন। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক, দাদাও এক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। তাঁদের আচমকা চলে যাওয়া আরও পরিণত করে আকাশকে। তবে ক্রিকেট থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন। মা তাঁর জীবনের সবকিছু। তাই শুক্রবার কোচ রাহুল দ্রাবিড় যখন আকাশকে টুপি তুলে দিচ্ছিলেন, সেইসময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মা ও বোনেরা।
মায়ের চোখে জল, বোনদেরও। আকাশের চোখও চিকচিক করছিল। ইস্টবেঙ্গল কোচ আব্দুল মুনায়েম জানালেন, ‘আকাশের বলের গতি দারুণ, উচ্চতাও অনেক বেশি। তাই বিপক্ষ ব্যাটারদের রিড করতে পারে আরও বেশি করে। যে পেসারের বল হার্ড লেংথে পিচ করে, তাদের বোলিং বেশি কার্যকরী।’