লুধিয়ানার এক কাঠমিস্ত্রির ছেলে ওমানের হয়ে বিশ্বকাপ কাঁপাচ্ছেন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় রয়েছে, লক্ষ্মীলাভ কিসে হবে, কেউ জানে না। তেমনি ঘটনা ঘটেছে ওমানের ক্রিকেটার জ্যোতিন্দর সিং (Jatinder Singh)-এর ক্ষেত্রেও। তাঁর বাবা লুধিয়ানার (Ludhiana) কাঠমিস্ত্রি, সেই নিয়ে ফার্নিচারের বড় ব্যবসাও রয়েছে। বাবা চেয়েছিলেন
শেষ আপডেট: 19 October 2021 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় রয়েছে, লক্ষ্মীলাভ কিসে হবে, কেউ জানে না। তেমনি ঘটনা ঘটেছে ওমানের ক্রিকেটার জ্যোতিন্দর সিং (Jatinder Singh)-এর ক্ষেত্রেও। তাঁর বাবা লুধিয়ানার (Ludhiana) কাঠমিস্ত্রি, সেই নিয়ে ফার্নিচারের বড় ব্যবসাও রয়েছে। বাবা চেয়েছিলেন ছেলে তাঁর ব্যবসা দেখাশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু ছেলের কপালে যে অন্য কিছু লেখা রয়েছে, পরিবারের সদস্যরাও জানতে পারেননি। সেই জন্যই তিনি ওমান (Oman) জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের আসর মাতাচ্ছেন।
লুধিয়ানার গ্রামে জ্যোতিন্দরদের বাড়ি রয়েছে, সেখানে বাকি আত্মীয়স্বজনরা থাকলেও বাবা-মা তাঁর সঙ্গে ওমানেই থাকেন। ১৯৭৫ সালে লুধিয়ানা থেকে ওমান চলে যান জ্যোতির বাবা গুরমেল সিং।
কেন বিশ্বকাপে পাকিস্তান হারাতে পারে না ভারতকে, ব্যাখ্যা করলেন বীরু
ওমানের রয়্যাল পুলিশ ফোর্সে কাঠমিস্ত্রির কাজ নিয়েছিলেন। স্ত্রী পরমজিৎ কাউর ও তিন ছেলে-মেয়েকে ডেকে নেন ২০০৩ সাল নাগাদ। পরের বছরই ওমানের মাসকটের ক্রিকেট টিম অফ ইন্ডিয়ান স্কুলে যোগ দেন জ্যোতিন্দর। কয়েক বছরের মধ্যে ওমানের অনূর্ধ্ব ১৯ টিমে সুযোগও পেয়ে যান উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। ২০১২ সালে ওমানের হয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক হয় জ্যোতির।
সব থেকে বড় কথা, করোনা কালে লকডাউনের সময় লুধিয়ানার বাড়িতে এসেছিলেন জ্যোতিন্দর। তিন মাস ছিলেন, সেইসময় পাড়ার কলোনি কোয়ার্টাসে ক্রিকেট খেলেছিলেন। তারপর লডডাউন উঠলে ওমানে ফিরে গিয়ে সেই দেশের জাতীয় শিবিরে চলে যান। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেমে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন, পাপুয়া নিউ গিনির বিরুদ্ধে ৪২ বলে নট আউট ৭৩ রানের ইনিংস খেলে।
বিরাট কোহলিদের ফ্যান, পাঞ্জাবী তনয়ের বেশি ভাল লাগে শিখর ধাওয়ানের ব্যাটিং স্টাইল। সেই জন্যই শেষ ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করে শিখরের মতো উৎসব সেরেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ‘এটা আমার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে খেলা যে কোনও টিমের কাছে স্বপ্ন থাকে। আমার কাছেও ব্যাপারটা তা-ই। এর জন্য আমি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি।’’
ওই তারকা আরও বলেন, ‘‘কোভিডের কারণে লুধিয়ানায় আটকে যাওয়ার পর আমি সিপি ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও মালওয়া ক্রিকেট ক্লাবে ট্রেনিং করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে আমাকে শিখর পাজি সহায়তা করেছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চ রান করতে পেরেছি। তাই সেদিন শিখর ধাওয়ানের মতো উৎসব সেরেছি।’’
জ্যোতির কাছে সমস্যা হয় ভারত বনাম ওমানের খেলা চলার সময়। কারণ দুটি দেশের কাছেই তিনি দায়বদ্ধ। সেই জন্যই ওমানের অলরাউন্ডার বলেছেন, আমি পরিবারকে বলি দুটি দেশকেই সমর্থন করবে, তারপর যা হওয়ার তাই হবে!
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'