দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনের বছর অনুষ্ঠিত চলা টোকিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণের ছাড়পত্র পেয়েছেন তিনি। এ নিয়ে দেশীয় বক্সারদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু সে সবে কানই দিচ্ছেন না ছ’বারের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মেরি কম। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মণিপুর-কন্যা স্পষ্ট বলেছেন, “আমি ছাড়া ভারতের হয়ে সোনা জেতার মতো আর কেউ নেই। তরুণ বক্সারদের আরও অনেক কিছু শিখতে হবে।”
ভারতের অন্য এক মহিলা বক্সার নিখাত জারিন সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছিলেন যা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়। জারিন বলেছিলেন, “আমরা এত পরিশ্রম করছি, আর কেউ কেউ ট্রায়াল না দিয়েই অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করার ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছেন!” এমনকি তিনি এও বলেন, “ভারতীয় বক্সিং ফেডারেশন নিয়ম লঙ্ঘন করে মেরি কমকে এই সুযোগ করে দিয়েছে।”
ওই সাক্ষাৎকারে একটিবারের জন্যও জারিনের নাম উচ্চারণ করেননি মেরি। গত মাসে বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতা বক্সার বলেন, “আমি আমার বিভাগ পাল্টে ফেলেছি। এটা অনেকেই পারেন না। তরুণদের অনেক শিখতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশে এখন আমি ছাড়া কেউ নেই, যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের জন্য সোনা জিততে পারেন।”
আগে মেরি কম ৪৫ কেজি ও ৪৮ কেজি বিভাগে অংশগ্রহণ করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের অলিম্পিকে মেরি রিং-এ নামবেন ৫১ কেজি বিভাগে। বক্সিং ফেডারেশনের এক কর্তা সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, “এই বয়সে ক্যাটেগরি পাল্টে ফেলার জন্য অদম্য সাহসের দরকার হয়। মেরি কম সেটা করে দেখিয়েছেন। এটা বিশ্ব বক্সিং-এও বিরল ঘটনা।” মেরি কম যখন টোকিও অলিম্পিকে নামবেন তখন তাঁর বয়স হবে ৩৬ বছর।
সম্প্রতি বিশ্ব অলিম্পিয়ান অ্যাসসিয়েশনের তরফে সম্মান পেয়েছেন মেরি কম। তিনি এখন থেকে তাঁর সমস্ত নতিপত্রে নামের পরে ‘ওলি’ শব্দটি লিখতে পারবেন। সারা দুনিয়ায় এটি একটি বিশেষ ডিগ্রি হিসেবে গণ্য হবে। তার মধ্যেই উঠেছিল জারিনের বিতর্ক। বেশ কয়েকদিন চুপ থাকার পর সেই বিতর্ককে কার্যত রিং-এর বাইরে পাঠালেন মেরি কম।