মহা শিবরাত্রিতে মহাদেবকে তুষ্ট করতে পাঁচটি বিশেষ উপাদান অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। বেলপাতা থেকে ধুতুরা, শাস্ত্র অনুযায়ী কোন উপাচার না থাকলে অপূর্ণ থাকে শিবপুজো।

শিবরাত্রি (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 13 February 2026 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মহা শিবরাত্রি (Mahashivratri)। দেশে বহু মানুষ এই দিন মহাদেবের আরাধনা করে থাকেন। উপবাস, প্রার্থনা আর নিয়মমাফিক শিবপুজো - সব মিলিয়ে ভক্তরা চেষ্টা করেন আরাধ্য দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে। শাস্ত্রে স্পষ্ট লেখা, নিষ্ঠা আর আন্তরিকতা থাকলে শিবঠাকুর ভক্তের মনোবাসনা পূরণ করেন। কিন্তু একই সঙ্গে আরও একটি কড়া নিয়মও বলা আছে, কিছু নির্দিষ্ট উপচার ছাড়া মহাশিবরাত্রির পুজো নাকি সম্পূর্ণই হয় না।
কথায় আছে সকল দেবতার মধ্যে মহাদেবকে একমাত্র সবচেয়ে সহজে তুষ্ট করা যায়, এ বিশ্বাস বহু পুরনো। শুধু শুদ্ধ মন আর শিবলিঙ্গে জল ঢেলে দিলেই তিনি খুশি। তবু পুজোয় যদি বিশেষ কিছু উপাদান যোগ করা যায়, তার ফল নাকি বহু গুণ বেড়ে যায়। শাস্ত্র আর পুরাণে সেগুলোর উল্লেখ রয়েছে।
ধর্মগ্রন্থে বেলপাতাকে শিবের অতি প্রিয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করলে ভগবান শিব প্রসন্ন হন এবং ভক্তের জীবনে সুখ-শান্তি আসবে, এমনই বিশ্বাস। মহাশিবরাত্রির আগে বেলপাতা সংগ্রহ করে রাখার প্রচলন রয়েছে। অনেকের মতে, বেলপাতাকেই শিব, দেবী পার্বতী (Parvati-Goddess Parvati) এবং মা লক্ষ্মীর আবাস বলে মানা হয়।
ধুতুরা ফুল আর ধুতুরা ফল দুটোই মহাদেবের বিশেষ প্রিয় উপাচার। তাই মহাশিবরাত্রির রাতে পুজোয় ধুতুরা অর্পণ করতেই হবে। ধুতুরা ভক্তের ইচ্ছাপূরণে শিবের আশীর্বাদ টেনে আনে, বিশ্বাস এমনটাই।
শাস্ত্র বলছে, শিব কেশরের গন্ধ ভীষণ ভালবাসেন। তাই এই তিথিতে লাল কেশর শিবলিঙ্গে অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ। কেশর দেওয়ার বিশেষ মাহাত্ম্য— ভক্তের বড় থেকে বড় ইচ্ছে পূরণ হয়।
মহাশিবরাত্রির পুজোয় শমী গাছের গুরুত্ব আলাদা। শিবলিঙ্গে শমী পাতা আর শমী ফুল অর্পণ করলে নাকি ইচ্ছাপূরণ নিশ্চিত হয়। আটকে থাকা কাজও দ্রুত সম্পন্ন হয়- এমন প্রচলিত আস্থা রয়েছে।
মধুর মিষ্টতায় ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার রীতি বহুদিনের। মহাশিবরাত্রির পুজোয় মধু অর্পণ করলে জীবনে সুখ বাড়ে, সমৃদ্ধি আসে, শাস্ত্রের ভাষ্য এমনটাই।
সুতরাং মহাশিবরাত্রির পুজোয় এই পাঁচ উপাদান, বেলপাতা, ধুতুরা, কেশর, শমী ফুল আর মধু- থাকতেই হবে। উপাচার সম্পূর্ণ হলে শিবের (Shiva) বিশেষ আশীর্বাদ পাওয়ার পথ নাকি খুলে যায়।