আজ মহাশিবরাত্রি। কোন সময়ে পুজো করলে সবচেয়ে বেশি ফল মিলবে? কী কী উপকরণ লাগবে? চার প্রহরের সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট ও মহাদেবকে প্রসন্ন করার বিশেষ উপায় জেনে নিন এখানে।

আজ মহাশিবরাত্রি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাশিবরাত্রি (Maha Shivratri 2026) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং পবিত্র উৎসব। এই দিনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও ভক্তিভাব লক্ষ্য করা যায়। কারণ, বিশ্বাস করা হয়—এই তিথিতেই দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। আবার অনেকের মতে, এই দিনেই মহাদেব রুদ্ররূপে আবির্ভূত হয়ে বিশ্বকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাই মহাশিবরাত্রি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং আত্মিক জাগরণ এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
মহাশিবরাত্রি ২০২৬: কবে এবং কখন পালন করা হবে
২০২৬ সালে মহাশিবরাত্রি পালিত হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভোর ০৫:৪২ মিনিটে
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ০৩:৫১ মিনিটে
নিশীথ কাল পুজোর সময়: ১৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১১:৪৫ মিনিট থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:৩৫ মিনিট পর্যন্ত
নিশীথ কালকে শিবপুজোর জন্য সবচেয়ে পবিত্র এবং ফলদায়ক সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময় ভক্তিভরে শিবের আরাধনা করলে বিশেষ আশীর্বাদ লাভ করা যায় বলে বিশ্বাস।
চার প্রহরের পুজোর বিশেষ মাহাত্ম্য
মহাশিবরাত্রিতে চার প্রহরে শিবলিঙ্গের অভিষেক করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি প্রহরে আলাদা উপকরণ দিয়ে পুজো করা হয়।
প্রথম প্রহর: সন্ধ্যা ০৬:১১ মিনিট থেকে রাত ০৯:২৪ মিনিট — দুধ দিয়ে অভিষেক
দ্বিতীয় প্রহর: রাত ০৯:২৪ মিনিট থেকে ১২:৩৭ মিনিট — দই দিয়ে অভিষেক
তৃতীয় প্রহর: রাত ১২:৩৭ মিনিট থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ০৩:৪৯ মিনিট — ঘি দিয়ে অভিষেক
চতুর্থ প্রহর: ভোর ০৩:৪৯ মিনিট থেকে সকাল ০৭:০২ মিনিট — মধু দিয়ে অভিষেক
এই চার প্রহরে পুজো করলে মহাদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
মহাশিবরাত্রির পুজোর বিধি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ
এই পুজোয় শুদ্ধতা এবং নিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মধ্যে থাকবে—গঙ্গাজল, পঞ্চামৃত, বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, সাদা চন্দন, ভস্ম, ভাঙ, ধূপ এবং প্রদীপ।
পুজোর নিয়ম অনুযায়ী—
সকালে স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরে শিবলিঙ্গের সামনে বসে সঙ্কল্প গ্রহণ করতে হয়।
এরপর ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করতে করতে শিবলিঙ্গে জল ও বেলপাতা অর্পণ করতে হয়।
পুজো শেষে শিব চালিশা পাঠ এবং শিবের আরতি করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
জ্যোতিষ মতে বিশেষ উপায় ও উপকারিতা
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রির দিন কিছু বিশেষ উপাচার পালন করলে জীবনের নানা সমস্যা দূর হতে পারে।
ঋণমুক্তি পেতে: শিবলিঙ্গে আখের রস দিয়ে অভিষেক করলে আর্থিক বাধা কমে।
মানসিক শান্তির জন্য: কাঁচা দুধের সঙ্গে সামান্য কালো তিল মিশিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করলে শনি ও চন্দ্রের অশুভ প্রভাব হ্রাস পায়।
দাম্পত্য জীবনে সুখের জন্য: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি থাকলে শিব-পার্বতীকে একসঙ্গে হলুদ ও সিঁদুর অর্পণ করলে সম্পর্কের উন্নতি হয় বলে বিশ্বাস।