Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

হনুমানকে চিরঞ্জীবী কেন বলা হয়, কীভাবে অমরত্ব পেলেন 'বজরংবলী' সঙ্কটমোচন?

হনুমানের বাবা বায়ু বা পবন। মায়ের নাম অঞ্জনা। যিনি স্বর্গের অপ্সরা পুঞ্জিকাস্তলা ছিলেন।

হনুমানকে চিরঞ্জীবী কেন বলা হয়, কীভাবে অমরত্ব পেলেন 'বজরংবলী' সঙ্কটমোচন?

পৌরাণিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মহাবলী হনুমানের কাহিনি সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়

শেষ আপডেট: 12 April 2025 12:28

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীরা যে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনিতে ভারত কাঁপাচ্ছেন, সেই ধ্বনির উদ্গাতা ছিলেন রামভক্ত হনুমান। ভারতে আর্য সভ্যতা ও বনবাসীদের বন্ধুত্বের প্রতীক। আর্য সভ্যতার উত্থানে যখন বহিঃশত্রুর আক্রমণে সীতা হরণ বা ধরিত্রী হরণের চেষ্টা হয়, তখন তাকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করে জমি (সীতা মাইয়া) অর্থাৎ মাতৃভূমির সম্মান উদ্ধারের যুদ্ধে নামেন আর্য রাম এবং বনবাসী সমাজের প্রতীক হনুমানের নেতৃত্বে বানর সেনা। হনুমান হলেন পৃথিবীর প্রাচীনতম গুপ্তচর। যিনি গোপনে, ছদ্মবেশে বিদেশে গিয়ে রাম ও সীতার বার্তা বিনিময় করেছিলেন এবং প্রয়োজনে 'আন্ডারকভার মিশন' হিসেবে লঙ্কাকে জ্বালিয়ে দিয়ে চলে এসেছিলেন।

সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য এবং পুরাণে, এমন অসংখ্য উপাখ্যান রয়েছে যা কেবল আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে না বরং মানব জীবনের মূল মূল্যবোধ এবং নীতিগুলিকেও তুলে ধরে। এই পৌরাণিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মহাবলী হনুমানের কাহিনি সবচেয়ে শ্রদ্ধেয়, শক্তিশালী এবং ভক্তিমূলক চরিত্রগুলির মধ্যে একটি হিসাবে দাঁড়িয়েছে। অবাঙালিদের মধ্যে বজরংবলী, সঙ্কটমোচনের পুজো যুগ যুগ ধরে চলে এলেও বাঙালিটোলায় হনুমানের আমদানির বয়স এক যুগেরও কম। রাজনীতির হাত ধরে এবং পশ্চিমবঙ্গে অ-বাঙালি সংস্কৃতির রমরমার আঁচলের তলায় বাঙালিরাও এখন মঙ্গলবার হলেই হনুমান মন্দিরে দৌড়ান এবং হনুমান চালিশা পাঠ করেন সমস্ত সঙ্কট থেকে উদ্ধারের আশায়।

হনুমানের জন্ম ও কে হনুমান?

হনুমানের বাবা বায়ু বা পবন। মায়ের নাম অঞ্জনা। যিনি স্বর্গের অপ্সরা পুঞ্জিকাস্তলা ছিলেন। এক মুনির অভিশাপে তিনি বানর রাজকন্যা হিসেবে মর্ত্যে জন্ম নেন। অঞ্জনার অভিশাপ মুক্তির একটাই রাস্তা ছিল যে, তিনি যদি এক মহান শক্তিশালী পুত্রের জন্ম দেন তাহলে ফের পুনর্জন্ম হবে। মেরু পর্বতের শাসক ব্রহস্পতি পুত্র কেসরী নামে একট বিশাল বানরের সঙ্গে বিয়ে হয় অঞ্জনার। অঞ্জনার ছেলে বলে হনুমানের আরেক নাম অঞ্জনেয়।

ভাবার্থ রামায়ণ অনুসারে পুত্র কামনার্থে অঞ্জনা ভগবান শিবের আরাধনা করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই অযোধ্যারাজ দশরথ পুত্রকামেষ্ঠি যজ্ঞ করছিলেন। সেই যজ্ঞের জন্য তিনি এক বাটি পায়েস পান যা খেয়ে চারপুত্রের জনক হন দশরথ। কিন্তু, পবনবাহিত সেই পায়েস যখন আকাশপথে আসছিল, তখন বায়ু সেই পায়েস থেকে একফোঁটা অঞ্জনার হাতে ফেলে দেন। অঞ্জনা সেই পায়েস খেয়ে পুত্রবতী হন। সে কারণে হনুমানকে বায়ু বা পবনপুত্রও বলা হয়।

হনুমানের সবচেয়ে সুপরিচিত গল্পগুলির একটি হল- হনুমান সূর্যকে একটি হলুদ বল বা পাকা ফল মনে করে সূর্যোদয়ের সময় আকাশে লাফিয়ে পড়েন। বাল্মীকির রামায়ণে কথিত, দেবরাজ ইন্দ্র হনুমানের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বজ্রপাত দিয়ে হনুমানকে আকাশ থেকে ছুড়ে ফেলে দেন। বজ্রপাতটি হনুমানের চোয়ালে আঘাত করে এবং তিনি মৃত অবস্থায় পৃথিবীতে পড়ে যান। ইন্দ্র যা করেছিলেন তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে বায়ু পৃথিবী থেকে সমস্ত বায়ু কেড়ে নেন, সমস্ত জীবকে কষ্ট ভোগ করতে ছেড়ে দেন।

এই সময় শিব হনুমানকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলেন এবং বায়ু পৃথিবীতে বাতাস ফিরিয়ে দেন। ইন্দ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে হনুমানকে একটি ইচ্ছা প্রদান করেন যে, তাঁর শরীর বজ্রের মতো শক্তিশালী হোক এবং হনুমানকে বজ্রপাতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাও প্রদান করেন। অন্যান্য দেবতারাও হনুমানের ইচ্ছা পূরণ করেন। যার মধ্যে রয়েছে আগুন, বাতাস এবং জলের ক্ষতি থেকে অতিরিক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাঁকে অমরত্বও দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তিনি একজন শক্তিশালী, দক্ষ যোদ্ধা হয়ে ওঠেন।

হনুমানকে চিরঞ্জীবী কেন বলা হয়?

ভারতীয় পুরাণ, রামায়ণ ও মহাভারতে সাত চিরঞ্জীবী বা অমর-এর কথা রয়েছে। মতান্তরে ১২ জন। তাঁরা হলেন, অশ্বথামা। কৌরব-পাণ্ডবদের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্যের একমাত্র যোদ্ধাপুত্র। অশ্বথামাকে একাদশ রুদ্রের একটি রূপ বলে মনে করা হয়। মহাভারতের যুদ্ধের সময় শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে অমরত্বের বর দিয়েছিলেন। মহাবলী হলেন অসুররাজ। যিনি ইন্দ্রকে পরাস্ত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে ত্রিলোক জয় করেছিলেন। বিষ্ণুর বামনাবতার তাঁকে তাড়া করলে তিনি পাতালে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। শেষে বিষ্ণুই তাঁকে অমরত্বের বর দেন। মহাভারত রচয়িতা ব্যাস, হনুমান, বিভীষণ, কৃপাচার্য, পরশুরাম। এছাড়াও অনেকে মনে করেন, মার্কণ্ডেয়, কাকভুষুণ্ডী, জাম্ববান, অগস্ত্য এবং নারদও চিরঞ্জীবী ছিলেন।

হনুমান কীভাবে রামের কাছ থেকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর পেয়েছিলেন?

যখন রাম পৃথিবীতে তাঁর যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করলেন এবং বৈকুণ্ঠে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি তাঁর সমস্ত অনুসারী এবং সঙ্গীদের আশীর্বাদ করলেন। সেই মুহূর্তে, তিনি হনুমানকে ডেকে বলেন, হনুমান, তুমি কেবল আমার দাস বা বন্ধু নও, বরং আমার হৃদয়ের অত্যন্ত প্রিয়। তোমার সেবা, ভক্তি এবং আনুগত্য অসীম। অতএব, আমি তোমাকে এই বর দিচ্ছি- যতক্ষণ পৃথিবীতে আমার নাম থাকবে, যতক্ষণ রামকথা পাঠ করা হবে, ততক্ষণ তুমি চিরঞ্জীবী হিসেবে এই পৃথিবীতে থাকবে। যেখানেই আমার নাম স্মরণ করা হবে সেখানেই তুমি উপস্থিত থাকবে। এই বর কেবল আশীর্বাদই ছিল না, বরং হনুমানের জন্য একটি উত্তর-দায়িত্বও ছিল। যা হল, মানবতার সেবা করা, ভক্তদের রক্ষা করা এবং ধার্মিকতা বজায় রাখা।


```