
শেষ আপডেট: 27 September 2022 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহালয়ার পরের দিন, অর্থাৎ প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত ৯ রাত্রি ধরে দেবী দুর্গার নয়টি রূপ ও শক্তির যে আরাধনা করা হয়। একেই বলে নবরাত্রি ব্রত। আজ নবরাত্রির দ্বিতীয় দিন। আজ পুজো পান দেবী ব্রহ্মচারিণী। (Goddess Brahmacharini)

শরৎকালে সূর্যের দক্ষিণায়ন চলে। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী সেটা দেবদেবীদের ঘুমের সময়। রাবণ বধের জন্য বাধ্য হয়েই অসময়ে দেবী দুর্গাত তপস্যা শুরু করেছিলেন রামচন্দ্র। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বলে যান, বিল্বমূলে দুর্গার বোধন করতে। দেবীর আদেশ যথানিয়মে পালন করলেন রামচন্দ্র। অকালবোধনে জেগে উঠলেন শক্তিস্বরূপা মহামায়া।
অভিধান মতে 'ব্রহ্ম' শব্দের অর্থ হল বেদ, তত্ত্ব আর তপস্যা। মহাদেব তখন গিরিরাজ হিমালয়ের আতিথ্য নিয়েছেন। হিমালয়-কন্যা পার্বতী প্রেমে পড়লেন শিবের। দেবর্ষি নারদের পরামর্শে শিবকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার আশায় কঠোর আর নির্মম তপস্যা শুরু করলেন হৈমবতী। কখনও একগলা বরফজলে ডুবে থেকে, কখনও বা দারুণ রোদের দিনে আগুনের বৃত্ত বানিয়ে তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তপস্যা করলেন দেবী। অন্ন-জল ত্যাগ করলেন। তিন হাজার বছর জীবন কাটালেন শুধুমাত্র মাটিতে গাছ থেকে ঝরে পড়া বেলপাতা আহার করে। একসময় বেলপাতাটুকুও আর মুখে তুললেন না। নির্জলা, নিরাহারে কঠিন তপস্যার শুকিয়ে গেল দেবীর শরীর। কিন্তু অপরূপ মুখশ্রী যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল ব্রহ্মতেজে। এই দেবীই তপশ্চারিণী বা ব্রহ্মচারিণী। (Goddess Brahmacharini)
দেবী ব্রহ্মচারিণীর পরনে থাকে সাদা শাড়ি। দেবীর এক হাতে থাকে জপমালা আর অন্য হাতে কমণ্ডুল (Goddess Brahmacharini)। সুগন্ধি জুঁই ফুল দেবীর পছন্দ। সাদা রঙের এই ফুল তাঁকে অর্পণ করলে তুষ্ট হন ব্রহ্মচারিণী।
দেবীর প্রণাম মন্ত্র
দধানা করপদ্মাভ্যামক্ষমালা কমণ্ডলু।
দেবী প্রসীদতু ময়ি ব্রহ্মচারিণ্যনুত্তমা।।
দেবী ব্রহ্মচারিণী ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেন। তাঁর পূজা করলে শুধু সংযম ও মানসিক শক্তিই বৃদ্ধি পায় না, সাধক অনন্ত পুণ্যফলও লাভ করেন এবং তিনি সর্বদা সিদ্ধি ও বিজয়ও লাভ করেন।