
শেষ আপডেট: 2 October 2022 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ মহাসপ্তমী। নবরাত্রির সপ্তম দিন। এই দিনে পুজো পান দেবী পার্বতীর রৌদ্ররূপ, ভয়ালদর্শনা দেবী কালরাত্রি। (Devi Kalratri)

পুরাণে বলে, রাক্ষসকুলধিপতি রুরুকে বধ করার জন্য দেবী দুর্গাকে কালরাত্রির রূপ ধারণ করতে হয়েছিল। অসুররাজ রুরুর নজর পড়েছিল দেবী পার্বতীর উপর। সেই দুরাশা নিয়ে পিতামহ ব্রহ্মার তপস্যা শুরু করে রুরু। প্রজাপতি ব্রহ্মা তার ডাকে সাড়া না দেওয়ায় আরও কঠোর তপস্যা শুরু করে সে। তপোবলে আগুন লাগিয়ে দেয় ত্রিভুবনে। মারা যেতে থাকে পশু পাখি মানুষ। রুরুর অত্যাচারে দেবতারা রেগে ছিল অনেক আগে থেকেই। তার উপর জীবজগতের এই নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে পারেন না দেবী পার্বতী। ক্রোধে কালো হয়ে আসে তাঁর শরীর। চাঁদের মতো সুন্দর মুখ বদলে হয়ে যায় ভয়ংকর। খোলা চুলে, রক্তলাল চোখে খড়্গ হাতে ছুটে যান রুরুকে উচিত শিক্ষা দিতে। দেবীর ওই প্রলয়ঙ্করী রূপের কাছে বেশিক্ষণ তিষ্ঠোতে পারেনি রুরু। নখ দিয়ে তার ধর মুণ্ড আলাদা করে দেন দেবী। লোলজিহ্বায় পান করেন অসুররক্ত।

ভয়ঙ্করদর্শনা হলেও অসুর বিনাশ করে ত্রিজগতে শান্তি এনেছিল দেবী কালরাত্রি। তাঁর আরাধনা করলে শুভফল মেলে ভক্তদের। কালো রূপেও আলো করে আছে দেবীর এই করুণাঘন মূর্তি (Devi Kalratri)।
ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবী কালরাত্রির পুজো করেন ভক্তেরা। লাল ফুল দেবীর প্রিয়, তাই দেবীর পূজায় জবা ফুল আবশ্যিক। পাঁচ রকম মিষ্টি, পাঁচ ধরনের ফল, আলো চাল, ধূপ , ফুল আর গুড়ের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয় দেবী কালরাত্রিকে। দেবীর শুভদৃষ্টি পেতে সপ্তমী তিথিতে নীল বা কালো রঙের পোশাক পরেন ভক্তেরা। (Devi Kalratri)
পূজার মন্ত্র:
ওঁ দেবী কালরাত্রৈ নমঃ।।
হ্রীং কালরাত্রি শ্রীং করালী চ ক্রীং কল্যাণী কলাবতী।
কমলা কলিদর্পঘ্নী কপর্দীশকৃপান্বিতা ||
কামবীজজপানন্দা কামবীজস্বরূপিণী |
কুমতিঘ্নী কুলীনার্তিনাশিনী কুলকামিনী ||
ক্রীং হ্রীং শ্রীং মন্ত্রবর্ণেন কালকণ্টকঘাতিনী |
কৃপাময়ী কৃপাধারা কৃপাপারা কৃপাগমা |।
নবরাত্রির সপ্তমী পুজোয় গুড়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মা কালরাত্রির প্রিয় প্রসাদ গুড়। তাই দেবীর আশীর্বাদ পেতে তাঁর উদ্দেশ্যে গুড়ের তৈরি নানা মিষ্টি ও নাড়ু নিবেদন করেন ভক্তেরা। সন্তানের কাছে রাজভোগের দাবি নেই, সামান্য গুড়েই তুষ্ট হন জগজ্জননী।