
শেষ আপডেট: 28 September 2022 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ দেবীপক্ষের তৃতীয়া, নবরাত্রির তৃতীয় দিন। আজ পুজো করা হয় দেবী পার্বতীর তৃতীয় রূপ দেবী চন্দ্রঘণ্টার (Devi Chandraghanta)। দেবতাদের পুঞ্জিভূত তেজে সেজে উঠেছিলেন এই দেবী।
পুরাণকথা অনুসারে, রম্ভাসুরের ছেলে মহিষাসুরের অত্যচারে যখন ত্রিভুবন কম্পিত তখন দেবতারা ছুটে গেলেন ত্রিদেব, মানে ব্রহ্মা, বিষ্ণু মহেশ্বরের কাছে। তাদের শরীরের তেজ থেকে জন্ম নিলেন দশবাহু বিশিষ্ট এক অপরূপা দেবী। ইনিই আদ্যাশক্তি মহামায়া। দেবীকে যুদ্ধের সাজে সাজিয়ে তুললেন দেবতারা। কেউ দিলেন বস্ত্র, কেউ দিলেন অলংকার, কেউ দিলেন অস্ত্র, আবার কেউ দিলেন বাহন। দেবতাদের রাজা ইন্দ্র তাঁর হাতে তুলে দিলেন ঐরাবতের ঘ্ণটা। যুদ্ধের প্রাকমুহূর্তে দেবীর হাতে ভীষণ শব্দে বেজে উঠল সেই ঘণ্টা। প্রলয়ের আহ্বানের মতো সেই ঘণ্টাধ্বনি শুনে রক্ত জল হয়ে গেল অসুরকুলের। অত্যাচারী দানব দল ভয়ে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালাতে লাগল। দুর্গার এই বিশেষ রূপই পূজিতা হন দেবী চন্দ্রঘণ্টা নামে। (Devi Chandraghanta)

দেবী চন্দ্রঘণ্টা সিংহবাহিনী (মতান্তরে ব্যাঘ্রবাহিনী), দশভুজা, দশপ্রহরণধারিনী। তাঁর গায়ের রং সোনার মতো উজ্জ্বল; পরনে লাল শাড়ি, গায়ে নানাবিধ অলংকার। যুদ্ধপ্রিয়া ও শত্রুবিনাশকারিণী দেবী চন্দ্রঘণ্টা (Devi Chandraghanta)। তিনি জ্ঞান জ্ঞান প্রদায়িনীও বটে, তাঁর হাতের অক্ষমালা ও কমণ্ডলু সেই জ্ঞানের প্রতীক। শত্রুর বিনাশ করে শান্তি আনেন তিনি, তাই দেবী চন্দ্রঘণ্টা পরমশান্তিময়ী কল্যাণকারিণী।
দেবীর প্রণাম মন্ত্র:
পিণ্ডজপ্রবরারূঢ়া চণ্ডকোপাস্ত্রকৈর্যুতা।
প্রসাদং তনুতে মহ্যং চন্দ্রঘণ্টেতি বিশ্রুতা।।
চন্দ্রঘণ্টা পূজার ফল অনেক। তাঁর পূজায় সাধকের বাধাবিঘ্ন ও পাপ বিনষ্ট হয়। ভক্তের কষ্ট দূর করেন দেবী চন্দ্রঘণ্টা। তাঁর ঘণ্টাধ্বনি ভক্তদের সবরকম বিপদ থেকে রক্ষা করে। দেবীর পূজায় পূজকের মন পবিত্র হয়। দেবীর বাহন সিংহের মতো পরাক্রমী হয়ে ওঠে সে।
কাশীর প্রচলিত প্রবাদ অনুযায়ী, দেবী চণ্ডঘণ্টার পূজা করে তাঁকে প্রসন্ন করতে পারলে যমঘণ্টার ধ্বনি পূজককে আর ভয় দেখাতে পারে না। মানে, তাঁর মৃত্যভয় দূর হয়। দেবীর কৃপায় ঘোর পাপীও তার পাপের বোঝা থেকে উদ্ধার পায়।