হঠাৎ করে সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। পরিবারে মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা, কিংবা জীবনের কঠিন মানসিক ধাক্কা—এমন বহু অভিজ্ঞতার পর অনেকেই বলে ওঠেন, "মঙ্গলটা খারাপ চলছিল", বা "রাহু-কেতুর দশা পড়েছিল"।

জ্যোতিষ না বিজ্ঞান?
শেষ আপডেট: 30 July 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ করে সব কিছু ওলটপালট হয়ে গেল। পরিবারে মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা, কিংবা জীবনের কঠিন মানসিক ধাক্কা—এমন বহু অভিজ্ঞতার পর অনেকেই বলে ওঠেন, "মঙ্গলটা খারাপ চলছিল", বা "রাহু-কেতুর দশা পড়েছিল"। সত্যিটা কী (Astrology vs Science)?
২০২৫ সালের শুরু থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, ট্রেন দুর্ঘটনা, এমনকি আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যুর খবর মিলেছে একের পর এক। আর এসব ঘটনার পরেই সামনে আসে নানা জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা—কোন রাশির ওপর শনি চলছে, কার জন্মপত্রিকায় ‘মাঙ্গলিক দোষ’, কোথায় ‘কালসর্প যোগ’! কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা।
টানা ধাক্কার পরে কী হয় মনের ভিতর?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বড় কোনও দুর্ঘটনা বা প্রিয়জনকে হারানোর মতো ঘটনার পর মানুষের মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়ে। এই অবস্থাকে বলা হয় Post-Traumatic Stress Disorder (PTSD)। মানুষ তখন ঘুমোতে পারে না, বারবার ভয় পায়, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় আসে। এটা শরীরের নয়, মনের রোগ—আর এর চিকিৎসা একমাত্র বিজ্ঞানই দিতে পারে।
মনোবিদ দীপশিখা সেন বলেন, “ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য অনেক সময় লাগে। সঠিক থেরাপি, কাউন্সেলিং এবং পারিবারিক সমর্থন ছাড়া এটা অসম্ভব। রত্নপাথর পরা বা মন্ত্র জপে এর কোনও সমাধান হয় না।”
অনেকেই মনে করেন, শনি বা মঙ্গলের খারাপ প্রভাবেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটে। কন্ডাক্টরের ভুল, রাস্তার গর্ত, ট্রেন সিগন্যালের গাফিলতি—এসব বাস্তব কারণকে ঢেকে দেওয়া হয় ‘গ্রহ দোষ’-এর পিছনে। মনোচিকিৎসকরা বলছেন, এতে সমস্যার সমাধান তো হয়ই না, বরং রোগী চিকিৎসার পথ থেকে সরে যায়।
জ্যোতিষের আশ্বাসে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়?
মনোবিদেরা বলছেন, যেসব মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তাঁরা সহজেই আশ্রয় খোঁজেন বিশ্বাসের মধ্যে। এক্ষেত্রে জ্যোতিষশাস্ত্র অনেক সময় ‘ফাস্ট রিলিফ’-এর মতো কাজ করে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এতে উপকারের থেকে ক্ষতির পরিমাণই বেশি। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “রোগী যদি মনে করে তার সমস্যা রাহুর জন্য, সে কখনও নিজেকে দোষ দেবে না বা নিজের মানসিক পরিস্থিতি বুঝতে পারবে না। এতে উন্নতি তো হয়ই না, বরং অবনতি ঘটে।”
বিজ্ঞান কী বলছে?
আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্স বলছে, মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিকের ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দেয় উদ্বেগ, অবসাদ বা ট্রমার উপসর্গ। এর চিকিৎসা প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের, জ্যোতিষীর নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা ও থেরাপি পদ্ধতির মাধ্যমে PTSD বা অন্যান্য মানসিক সমস্যা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।
সতর্ক থাকুন, সচেতন হন
মনোবিজ্ঞানীরা এবং চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন—জ্যোতিষশাস্ত্রকে শ্রদ্ধা করতেই পারেন, কিন্তু মানসিক রোগের চিকিৎসার জায়গায় তার স্থান নেই। যত দ্রুত বিষয়টি বোঝা যাবে, ততটাই সুস্থতা ও সুরক্ষা সম্ভব।
('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়, এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)