
অম্বুবাচী।
শেষ আপডেট: 22 June 2024 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল ভারত ও প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই প্রত্যেকটা জায়গায় গড়ে উঠেছে সতী মায়ের পীঠ। কামরূপ কামাখ্যায় (অসমে) পড়েছিল দেবীর যোনি। তাই এর অন্য নাম যোনিপীঠ। এখানে তন্ত্রসাধনা করলে সিদ্ধিলাভ করা যায়-এমনটাই বিশ্বাস সাধকদের। বিশেষ করে অম্বুবাচীর তিনদিন তন্ত্রসাধনায় বসলে পরম সিদ্ধি আসবেই।
কথিত আছে, প্রতি বছর আষাঢ়ের সাত তারিখ থেকে কামাখ্যা মা ঋতুমতী হন। দেবীর মন্দিরের গর্ভগৃহে একটি ত্রিকোণাকার শিলাখণ্ড আছে। এই সময় সেই শিলাখণ্ডটি ভেদ করে গাঢ় গৈরিক রঙের জলস্রোত প্রবাহিত হতে থাকে। তিনদিন পর এই স্রোত ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। এই অলৌকিক ঘটনাটিকেই দেবীর রজঃস্বলা হওয়ার নিদর্শন বলে মনে করা হয়। এমনকী মন্দির সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্রের জলেও এই লালচে রঙের স্রোত এসে মেশে। প্রকৃতির কী অদ্ভুত লীলা!
কামাখ্যা মায়ের পুজো এই তিনদিন হয় না। মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকে। দ্বার বন্ধ হওয়ার আগে ওই ত্রিকোণাকার শিলার চারপাশে নতুন বস্ত্র বিছিয়ে রাখেন পুরোহিতরা। শিলাখণ্ড থেকে বেরিয়ে আসা রঙিন স্রোতে লাল হয়ে যায় সেই বস্ত্র। পরে তা টুকরো টুকরো করে ভক্তদের দেওয়া হয়। এই বস্ত্রখণ্ড ঘরে রাখলে শুভ হয়, এমনই বিশ্বাস মানুষের।
সনাতন ধর্ম মতে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা রজস্বলা হন। এই বিশেষ সময়কাল ধরে প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অম্বুবাচী পালন করেন। গ্রামবাংলার বৃদ্ধা খুড়ি জেঠিরা ছড়া কাটতেন ‘কীসের বার কীসের তিথি, আষাঢ়ের সাত তারিখ অম্বুবাচী।’ হ্যাঁ আষাঢ় মাসের সাত তারিখ থেকে শুরু হয় অম্বুবাচী। সুপ্রাচীন জ্যোতিষ শাস্ত্র বলছে, সূর্য যে বারের যে সময়ে মিথুন রাশিতে গমন করে, তার পরবর্তী সেই বারের সেই সময় থেকে অম্বুবাচী হয়। অর্থাৎ ধরিত্রী মা এই সময়ে ঋতুমতী হন।
অম্বুবাচী শুরুর পর তিন দিন চলে এই উৎসব। চলতি বছরে অম্বুবাচী শুরু হবে ২২ জুন অর্থাৎ ৭ আষাঢ় ভোর সাড়ে ৬টায়। সমাপ্তি হবে ২৫ জুন অর্থাৎ ১০ আষাঢ় রাত ১টার সময়।