
শেষ আপডেট: 16 December 2023 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দু ধর্মে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে মানা হয়। নিয়মিত গীতা পাঠ ও এর মাহাত্ম্য অনুধাবন রীতিমতো পুণ্যের কাজ বলে বিশ্বাস করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকেই গীতা পাঠকে নিত্যকর্মের অংশ মনে করেন।
তবে সাধারণ মানুষের মনে গীতাপাঠ নিয়ে অনেক প্রশ্ন। বাংলা অনুবাদ পড়ে কি গীতা পাঠের ফল মিলবে? কেউ কেউ আবার কোথা থেকে শুরু করবেন আর কোথায় শেষ করবেন তা ভেবে বিভ্রান্ত। কিন্তু গীতাতেই রয়েছে সেই দিশা। মনের একাগ্রতা আর ভক্তি ভরে শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী অধ্যয়নেই পুণ্য। গীতা পাঠ করতে মনের পবিত্রতা ছাড়া আর কোনও কিছুই দরকার নেই বলে মনে করেন শাস্ত্রজ্ঞরা।
কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও উপলক্ষকে সামনে রেখে গীতাপাঠ করতে হলে কিছু নিয়মাবলী মানতে হয়। যেমন গীতা পাঠ করার জন্য পবিত্র মনে পবিত্র বস্ত্র পরিধান করে উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে বসতে হবে। সনাতনী রীতি মেনে আচমন, বিষ্ণু-স্মরণ, আসন শুদ্ধি পর্যায়ক্রমে সেরে তারপর তিলক ধারণ। বৈষ্ণব সমাজে এটাই রীতি।
প্রথম ধাপে বলতে হবে, ওঁ তৎ সৎ
২য় ধাপে বলতে হবে গুরুকে স্মরণের মন্ত্র:
“ওঁ অখন্ডমন্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্।
তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ।।
অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানঞ্জনশলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।”
৩য় ধাপে নিজের পিতা মাতার প্রণাম মন্ত্র।
পিতার প্রণাম মন্ত্র
“পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরম তপঃ।
পিতোরি প্রিতিমা পন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতা ||”
মায়ের প্রণাম মন্ত্র:
“মাতা জননী ধরিত্রী, দয়াদ্র হৃদয়া সতী।
দেবীভ্যো রমণী শ্রেষ্ঠা নির্দ্দোশা সর্ব দুঃখ হরা।।”
ওঁ শান্তিরূপাং ক্ষমারূপাং স্নেহরূপাং শুভংকরীং।
সাক্ষাৎ ভগবতীদেবীং মাতরং ত্বাং নমাম্যহম্।।”
৪র্থ ধাপে পড়তে হবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকার প্রণাম মন্ত্র
শ্রীকৃষ্ণের প্রণাম মন্ত্র
“ওঁ কৃষ্ণায় বাসুদেবায় হরয়ে পরমাত্মণে।
প্রণত-ক্লেশনাশায় গোবিন্দায় নমো নমঃ
“হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু দীনবন্ধু জগৎপথে।
গোপেশ গোপীকা-কান্ত রাধাকান্ত নমোহস্তুতে।।
শ্রীরাধিকার প্রণাম মন্ত্র:
তপ্ত কাঞ্চন গৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানুসুতে দেবী প্রণমামি হরি প্রিয়ে।।”
৫ম ধাপে সরস্বতী প্রণাম মন্ত্র
“নারায়ণং নমস্কৃত্যং নরঞ্চৈব নরোত্তমম্ ।
দেবীং সরস্বতীং ব্যাসং ততো জয়মুদীরয়েৎ।”
৬ষ্ঠ ধাপে হাত জোড় করে “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় নমঃ”-মন্ত্রটি তিনবার পাঠ করে শ্রীশ্রীগীতাকে পুষ্পাঞ্জলি পর্ব
৭ম ধাপে গ্রন্থ পাঠ শুরু
“ওঁ অস্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতামালামন্ত্রস্য শ্রী
ভগবান্ বেদব্যাসঃ ঋষিঃ অনুষ্টুপ্ ছন্দঃ শ্রীকৃষ্ণঃ পরমাত্মা
দেবতা অশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাষসে ইতি বীজং,
সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরনং ব্রজ ইতি শক্তি”
সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজেতি শক্তিঃ,
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ইতি কীলকম্৷”
৮ম ধাপে মঙ্গলাচরণ
“ওঁ হরি ওঁ তৎ সৎ,
ওঁ নমো ভাগবতে বাসুদেবায় ওঁ,
অথঃ শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতার মঙ্গলাচরণম্ প্রারম্ভম্…
পার্থায় প্রতিবোধিতাং ভগবতা নারায়ণেন স্বয়ম্
ব্যাসেন গ্রথিতাং পুরাণমুনিনা মধ্যে মহাভারতম্৷
অদ্বৈতামৃতবর্ষিণীং ভগবতীমষ্টাদশাধ্যায়িনীম্
অম্ব ত্বামনুসন্দধামি ভগবদ্ গীতে ভবদ্বেষিণীম্ ॥”
মোট ৯টি শ্লোক নিয়ে শ্রী শ্রী গীতার মঙ্গলাচারণ। সম্ভব হলে সব শ্লোক পাঠ করা দরকার। পাঠ শেষে বলতে হবে
“ওঁ ইতি শ্রীমদ্ভাগবত গীতার মঙ্গলাচরণম্ সমাপ্তম্।।”
নবম ধাপে গ্রন্থ পাঠ করা শুরু করুন।
যদি ৪র্থ অধ্যায়ের ৭ম ও ৮ম শ্লোক দু’টি পাঠ করেন, তাহলে হাত জোড় করে বলুন
অথ শ্রীমদভগবদ্গীতা ৪র্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগ, ৭ম ও ৮ম শ্লোক
এবার সংস্কৃত শ্লোক শুরু করুন
“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।”
সরলার্থঃ হে ভারত ! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যূত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই। সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
১০ম ধাপঃ এই পর্যন্ত পাঠ করে আপনি যদি গীতাপাঠ শেষ করতে চান তাহলে বলুন-
“ওঁ তৎ সৎ ইতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসু উপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুন সংবাদে জ্ঞানযোগ নামকং ৪র্থ অধ্যায় একাংশেনঃ সমাপ্তম্।”
যদি সম্পূর্ণ অধ্যায় পাঠ করে থাকেন তাহলে একাংশেনঃ শব্দটি উচ্চারণের প্রয়োজন নেই।
১১তম ধাপে শ্রীশ্রী গীতার মাহাত্ম্য পাঠ
১২তম ধাপে শ্রীকৃষ্ণের কাছে ক্ষমাভিক্ষা
ক্ষমাভিক্ষা মন্ত্রটি হল-
“ওঁ যদক্ষরং পরিভ্রষ্টং মাত্রাহীনঞ্চ যৎ ভবেৎ
পূর্ণং ভবতু ত্বৎ সর্ব্বং ত্বৎ প্রসাদাৎ জানার্দন ।।
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে ।
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ।।
“জয় গীতা,জয় গীতা,জয় গীতা”
১৩ তম ধাপে শ্রী শ্রী গীতার ১৮টি গুহ্যনাম কীর্তন
“ওঁ গঙ্গা গীতা চ সাবিত্রী সীতা সত্যা পতিব্রতা।
ব্রহ্মাবলি ব্রহ্মবিদ্যা ত্রিসন্ধ্যা মুক্তিগেহিনী।।
অর্ধমাত্রা চিদানন্দা ভবঘ্নী ভ্রান্তিনাশিনী।
বেদত্রয়ী পরানন্দা ত্বত্তার্থ জ্ঞানমঞ্জুরী।।”
১৪তম ধাপে পঞ্চতত্ত্বসহ তারকব্রহ্ম মহানাম জপ
“জয় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে।।”
১৫তম তথা শেষ ধাপে শান্তিমন্ত্র পাঠ
“সর্বে সুখিনঃ ভবন্ত, সর্বে সন্ত নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণী পশ্যন্ত, মা কশ্চিদ্ দুঃখ ভাগ ভবেৎ।।”
সকলে সুখী হোন, নিরোগ হোন এবং প্রশান্তি লাভ করুন, কেউ যেন দুঃখ ভোগ না করে।।
ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি , ওঁ শান্তি