‘জনাওয়ার’ (Janaawar: The Beast Within) সেই পরিচিত থিমকেই নতুন মোড় দিয়েছে। এই গল্পে খুনি শুধু কুঠার চালিয়েই খুন করে না, জানিয়ে দেয় কেন সে মানুষ ‘জন্তু’ হয়ে উঠল।

‘জনাওয়ার’
শেষ আপডেট: 27 September 2025 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষ যখন জন্তুর রূপ নেয়, তখন তার নৃশংসতা যেন ভয়ঙ্কর বাস্তব হয়ে ওঠে। সিনেমায় বা ওয়েব সিরিজে এই থিম নতুন নয়—‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো ছবিতে আমরা তা দেখেছি। তবে জি-ফাইভের (ZEE5) নতুন ওয়েব সিরিজ ‘জনাওয়ার’ (Janaawar: The Beast Within) সেই পরিচিত থিমকেই নতুন মোড় দিয়েছে। এই গল্পে খুনি শুধু কুঠার চালিয়েই খুন করে না, জানিয়ে দেয় কেন সে মানুষ ‘জন্তু’ হয়ে উঠল।
ছত্তীসগড়ের এক বনসংলগ্ন গ্রাম দিয়ে শুরু হয় সিরিজ। প্রথমেই পাওয়া যায় এক দগ্ধ বিকৃতদেহ। সেই বিকৃতদেহের তদন্তে নেমে সামান্য চোখের আড়াল হতেই ধর থেকে উধাও হয়ে যায় মুণ্ডুটা। এর পর এক বিধায়কের ভাইয়ের খুন, তারপর একে একে আরও কয়েকজনের মৃত্যু। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই হেমন্ত কুমার (ভূবন অরোরা)।
এই ভূমিকায় ভূবন অরোরা নজরকাড়া। যে কথাটা এখানেই জানিয়ে রাখা দরকার, সিরিজটা দেখার পর মনে হতেই পারে এই চরিত্রের জন্য ভুবনের থেকে ভাল কেউ হতে পারত না। শুদ্ধ দেশি রোমান্স দিয়ে যাঁর সিনেমায় অভিনয় শুরু সেই ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ছাত্রটি পুলিশের ভূমিকায় একেবারে বিশুদ্ধ অভিনয়টি করেছেন। পুলিশ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব আর সংসারী মানুষ হিসেবে টানাপোড়েন—দুই দিকই তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছন্দে ফুটিয়ে তুলেছেন ভুবন। ভুবন তথা হেমন্তকে খুনির সন্ধান করতে করতেই সামলাতে হয় ব্যক্তিগত টানাপোড়েনও—গর্ভবতী স্ত্রী, পরিবারে দায়িত্ব আর কর্তব্যবোধ। তার উপর তাঁর নিচু জাত নিয়ে সমাজের সঙ্গে সমান্তরাল লড়াইটাও রয়েছে গল্পে। এই দ্বন্দ্বের মাঝেই ছুটতে থাকে কাহিনি, কে সেই ‘জনাওয়ার’—যে খুন করে যাচ্ছে নৃশংসভাবে?
‘জনওয়ার’ সাতটি এপিসোডে গাঁথা। প্রতিটি এপিসোডই কমবেশি ২০ মিনিটের। শেষটি ৩২ মিনিটের। ফলে টানটান ছন্দ বজায় থাকে। তৃতীয় এপিসোডে গতি খানিকটা মন্থর হলেও পঞ্চম ও ষষ্ঠ এপিসোডে কাহিনি ফের ছন্দ তোলে। লেখায় কোথাও কোথাও শাণিত হবার জায়গা ছিল, তবুও চমকপ্রদ মোড়গুলো দর্শককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখে। সবচেয়ে বড় বিষয়, সিরিজ শুধু খুন আর রহস্যের গল্প নয়। এর ভিতরে লুকিয়ে আছে এক শক্তিশালী বার্তা, যা দর্শককে ভাবতে বাধ্য করবে। তা হল হিন্দিবলয়ের অনগ্রসর এলাকায় এখনও জাতপাতের সমস্যা। যে সমস্যা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যেও ফল্গুর মতো বইছে তির তির করে।
হেমন্তের মতই এই সিরিজে অভিনয়গুণে একশোয় একশ পেতে পারেন বদরুল ইসলাম। তাঁর অভিব্যক্তি, চোখে মুখে বদলের ছাপ দর্শককে চমকে দেয়। বিনোদ সূর্যবংশী, ভগবান তিওয়ারি, অতুল কালের উপস্থিতিও বেশ শক্তিশালী। ইশিকা দে-ও ছোট ভূমিকায় গভীর প্রভাব ফেলেছেন। লেখক শ্রেয়স লোলেকার ও সোনালী গুপ্তের চিত্রনাট্য এই সিরিজকে একটা গা ছমছমে আবহ দিয়েছে। যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান। মাঝখানের এপিসোডে সামান্য দুর্বলতা চোখে পড়ে ঠিকই, তবে শেষের পর্বগুলি তা পূরণ করে দিয়েছেন পরিচালক।
এখন শেষ প্রশ্ন। জনাওয়ার কেন দেখবেন?
টানটান রহস্য, নৃশংস হত্যাকাণ্ড, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর—সব মিলিয়ে ‘জনাওয়ার’ ছোট হলেও গা ছমছমে এক ওয়েব সিরিজ। বিঞ্জ-ওয়াচ করার মতোই।