
প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে ভারতের হয়ে তৃতীয় সোনার পদক জয় করলেন সুমিত আন্তিল
শেষ আপডেট: 3 September 2024 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন দিদির একমাত্র ভাই। মাত্র সাত বছর বয়সেই হারিয়েছেন বাবাকে। ইচ্ছে ছিল কুস্তিগীর হবেন। কিন্তু, মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পা হারিয়ে সেই স্বপ্ন কার্যত চুরমার হয়ে যায়। তবে মনের জোর এতটাই বেশি ছিল যে কোনও প্রতিবন্ধকতাই কার্যত ধোপে টেকেনি। অবশেষে ২০২৪ প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে ইতিহাসের এক নয়া অধ্যায় লিখলেন ভারতের জ্যাভেলিন থ্রোয়ার সুমিত আন্তিল। সোনার পদক জয় করে দেশকে গর্বিত করলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ টোকিও প্যারালিম্পিক্সে ৬৮.৫৫ মিটার দুরত্বে জ্যাভেলিন থ্রো করেছিলেন সুমিত। এটা প্যারালিম্পিক্স ইতিহাসে এক নয়া রেকর্ড তৈরি করেছিল। আর এবার প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে তিনি নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙলেন এবং ৭০.৫৯ মিটার দুরত্বে জ্যাভেলিন থ্রো করেন। পাশাপাশি প্যারালিম্পিক্সে দ্বিতীয় সর্বাধিক দুরত্বে জ্যাভেলিন থ্রো করে তিনি রেকর্ড কায়েম করেছেন।
তবে সুমিতের এই যাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। প্রতিটা পদক্ষেপে তিনি প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের রাস্তা মসৃণ করতে হয়েছে।
১৯৮৮ সালের ৭ জুন সুমিত আন্তিল হরিয়ানার সোনপথ জেলার খেওরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা রাম কুমার আন্তিল ভারতীয় বায়ুসেনায় চাকরি করতেন। কিন্তু, মাত্র সাত বছর বয়সেই সুমিত তাঁর বাবাকে হারান। দীর্ঘদিন রোগাক্রান্ত থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিন দিদির মধ্যে সুমিতই একমাত্র ভাই। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মায়ের কাঁধে গোটা সংসারের দায়িত্ব চলে আসে। দিন-রাত কার্যত এক করে তিনি সুমিত এবং তিন মেয়েকে বড় করে তোলেন।
যেহেতু সুমিতের দৈহিক গড়ন যথেষ্ট ভালো ছিল, সেকারণে তিনি ছোটবেলা থেকেই কুস্তিগীর হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। একটা সময় তিনি বাবার দেখানো পথে ভারতীয় বায়ুসেনাতেও যোগ দিতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু, একটি দুর্ঘটনা তাঁর যাবতীয় স্বপ্ন চুরমার করে দেয়। ক্লাস টুয়েলভে পড়ার সময় তাঁর মোটরবাইক একটি ট্রলিতে ধাক্কা মারে। এই দুর্ঘটনায় তাঁর অর্ধেকটা পা কেটে বাদ দিতে হয়। এরপর তিনি কার্যত হতাশায় ভেঙে পড়েন।
একটা সময় সুমিতের যাবতীয় স্বপ্ন ক্রমশ শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সেইসময় সুমিতের মা তাঁর পাশে দাঁড়ান। ছেলের ইচ্ছেশক্তি তিনি বাঁচিয়ে রাখেন। কৃত্রিম পা লাগিয়ে তিনি সুমিতকে খেলাধুলোর প্রতি ক্রমাগত উৎসাহ দিতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের ওই দুর্ঘটনার পর সুমিতের সাধারণ জীবনে ফিরতে প্রায় ২ বছর সময় লেগেছিল। এরপর তিনি কৃত্রিম পা লাগিয়ে খেলাধুলোর দুনিয়ায় পা রাখেন।
২০১৭ সালে প্যারা অ্যাথলিট রাজকুমারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। তিনিই সুমিতকে পরামর্শ দেন যে জ্যাভেলিনকে কেরিয়ার হিসেবে দেখা যেতে পারে। এরপর নাভাল সিংয়ের কাছে কোচিং নিয়ে সুমিত জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস শুরু করেন।