চারটি পুরসভার (Municipal Corporation) ভোটে তৃণমূলের (TMC) জয় (Victory) একপ্রকার প্রত্যাশিতই ছিল। সোমবার ফল প্রকাশ হলে দেখা গেল, মানুষ দু'হাত ভরে ভোট দিয়েছেন শাসক দলকে। বিরোধীরা একেবারেই কোণঠাসা। তারা তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে নিজেদের তুলে ধরতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ।
বস্তুত, ভোটে কে দ্বিতীয় স্থান পাবে, তা নিয়েই বাম ও বিজেপির মধ্যে হয়েছে লড়াই। ভোটের আগে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু ফলাফলে তার প্রভাব পড়েনি।
মানুষ আরও ভাল পুর পরিষেবা পাওয়ার আশায় তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। ভোটের আগে তৃণমূলও এব্যাপারে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এরপরে জেলায় জেলায় শিল্প হবে। শিল্প তথা কর্মসংস্থানের আশা নিয়েও শাসক দলকে ভোট দিয়েছেন অনেকে।
ভোট শেষ হওয়ার পরে এবার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার সময় এসেছে।
আর এখানেই একটা গুরুতর প্রশ্ন আছে। পুর পরিষেবার উন্নয়ন যে হবে, তার জন্য টাকা কই? রাজ্যের অনেক শহরে এখন মৌলিক পরিষেবাগুলি পাওয়া যায় না। নর্দমা উপচে পড়ছে, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র জঞ্জাল পড়ে আছে, এমনকি কলকাতা পুরসভায় অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন দিতে না পারার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বীকার করেছেন, পুরসভার আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। অন্যান্য পুরসভার কর্তাব্যক্তিরাও মেনে নিয়েছেন, ভাঁড়ারে যথেষ্ট টাকা নেই। রাজ্য সরকার এই সংকটের দায় বহন করতে রাজি নয়। কারণ অভাব রয়েছে তাদেরও।
এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়?
কলকাতা পুরসভা চাইছে ঋণ নেওয়া হোক। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্কের থেকে স্বল্প সুদে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য নবান্নের অনুমোদন চেয়েছেন কলকাতার মেয়র। কিন্তু ঋণ নিয়ে কী সমস্যার সমাধান হয়? এডিবি-র ঋণ নিয়ে এখনকার মতো কিছু উন্নয়নের কাজ চালু করা যেতে পারে। কিন্তু পরে সেই টাকা যখন শোধ দিতে হবে, তখন কী হবে?
পুরসভা যদি যথেষ্ট অর্থের সংস্থান না করতে পারে, তাহলে যাবতীয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিছক কাগজে-কলমে থেকে যাবে। এরকম আগে বহুবার হয়েছে। ভোটের আগে নানা জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেতারা। ভোট ফুরোতেই সব ভুলে গিয়েছেন।
এবারও যেন তেমন না হয়।
আসলে পুরসভাগুলির নিজেদেরও রোজগারের চেষ্টা করা উচিত। তবে অভাব মিটবে। কীভাবে রোজগার করা যাবে, তার রাস্তা বার করতে হবে পুরসভাগুলিকেই। প্রাথমিকভাবে মনে হয়, স্বছল মানুষজনকে পরিষেবা দেওয়ার বিনিময়ে পুরসভা কিছু অর্থ নিতেই পারে। যিনি বাজার থেকে পরিস্রুত জল কিনে খান, তাকে পুরসভা বিপুল খরচ করে তৈরি বিশুদ্ধ জল বিনা পয়সায় দেবে কেন?