Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাকিস্তানের বিপর্যয় ও তার শিক্ষা

গত কয়েকমাস ধরে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Economy Crisis)। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের দেশ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহে শিয়ালকোটে এক বেসরকারি কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে

পাকিস্তানের বিপর্যয় ও তার শিক্ষা

শেষ আপডেট: 21 February 2023 10:00

গত কয়েকমাস ধরে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Economy Crisis)। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের দেশ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহে শিয়ালকোটে এক বেসরকারি কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সেখানে তিনি স্পষ্ট বলেন, অনেকের ধারণা, এভাবে অর্থনৈতিক সংকট চলতে থাকলে আমাদের দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। কিন্তু আমি বলছি, ইতিমধ্যে আমাদের দেশ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। আমরা এক দেউলিয়া দেশের নাগরিক।

মাসখানেক আগে জানা গিয়েছিল, পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সেখানে এক লিটার দুধের দাম পাকিস্তানের মুদ্রায় ২৫০ টাকা, এক কেজি মুরগির মাংসের দাম ৭৮০ টাকা। এক লিটার পেট্রলের আম ২৭২ টাকা, এক লিটার ডিজেলের দাম ২৮০ টাকা, এক লিটার কেরোসিনের দাম ২০২ টাকা ৭৩ পয়সা। গত কয়েকদিন ধরে সেখানে গম পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্মূল্যের বাজারে এক বস্তা গমের দাম হয়েছে ৩ হাজার পাকিস্তানি টাকা।

পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, সেদেশে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় কমে হয়েছে ৫০০ কোটি ডলারেরও কম। বিদেশ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১২১৭৫ হাজার কোটি ডলার। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এখন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলির কাছে যাচ্ছেন। অতীতে তারা কয়েকবার পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে। কিন্তু শুধু ভিক্ষার অর্থে কোনও দেশ চলতে পারে না। সরকার যদি আয় না বাড়াতে পারে, রাজকোষ যদি শূন্য হয়ে যায়, তাহলে দেউলিয়া হয়ে যাওয়াই সেই দেশের নিয়তি।

বেহাল পাকিস্তান

অনেকে এর জন্য সাম্প্রতিক বন্যাকে দায়ী করছেন। গত বছর জুন থেকে অক্টোবর অবধি অভূতপূর্ব বন্যার কবলে পড়েছিল পাকিস্তান। দেশের এক তৃতীয়াংশ জলমগ্ন হয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৭৩৯ জন। পাকিস্তানি মুদ্রায় ক্ষতির পরিমাণ ৩২০০ কোটি টাকা। পাকিস্তানের ইতিহাসে নাকি অত ভয়ংকর বন্যা আর কখনও হয়নি। এর পরেই সেদেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় ২৫ শতাংশ।

কিন্তু বন্যাকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ ভাবলে ভুল হবে। পাকিস্তানের অর্থনীতি আগে থেকেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল, বন্যার পরে একেবারে ধসে পড়েছে। একের পর এক সরকারের বিদেশনীতি দেশটিকে ধ্বংসের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

পাকিস্তানের বিদেশনীতির মূল বৈশিষ্ট্য দু'টি। প্রথমত ভারতবিরোধী জেহাদে মদত দেওয়া। দ্বিতীয়ত চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো। একনায়ক জিয়াউল হকের সময় থেকেই পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ শুরু করে। কাশ্মীরের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে মদত দিতে থাকে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের অন্যত্র জঙ্গিদের ঘাঁটি বানাতে দেওয়া হয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে আফগানিস্তানের জেহাদি গোষ্ঠীগুলিকেও পাকিস্তান মদত দেয়। তালিবানকে ক্ষমতা দখলে নানাভাবে সাহায্য করে। এর ফলে সরকারের বিপুল খরচ হতে থাকে। জঙ্গিদের মদত দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার দূরত্ব বাড়ে। পাকিস্তান ক্রমশ আরও বেশি বেশি করে চিনের ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বর্তমানে পাকিস্তানের বিদেশি ঋণের ৩০ শতাংশই চিন থেকে নেওয়া।

সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে, যে দেশগুলি চিনের থেকে ঋণ নিয়েছিল, তাদের অবস্থা শোচনীয়। এর একটা বড় উদাহরণ হল শ্রীলঙ্কা। গত বছরেই দেশটি দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। শ্রীলঙ্কা জুড়ে শুরু হয়েছে অশান্তি। নেপালও একসময় চিন থেকে ঋণ নিয়েছিল। এখন সেখানে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিতিশীলতা। ঘন ঘন সরকার বদল হচ্ছে। বাংলাদেশও কিছুদিন আগে চিনের দিকে ঝুঁকেছিল। এর ফলে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকে বলছেন, যে দেশটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করা হচ্ছে কেন? তাঁদের আশঙ্কা, চিন থেকে ঋণ নিলে আগামীদিনে বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো হতে পারে।

বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তানের শাসকদের কিঞ্চিৎ বোধোদয় হয়েছে। দুবাইয়ের আল আরবিয়া টিভিতে সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে তিনবার যুদ্ধ করে তাঁদের যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। এখন তিনি নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনা চান। কাশ্মীর সহ সব বিষয়েই তিনি ভারতের সঙ্গে ‘আন্তরিকভাবে’ কথা বলতে আগ্রহী।

শরিফের এই শুভবুদ্ধি কতদিন স্থায়ী হবে বলা মুশকিল। তাঁর দেশের পুরো বিদেশনীতি দাঁড়িয়ে আছে ভারত বিরোধিতার ওপরে ভিত্তি করে। তিনি কি এই নীতি আমূল বদলে ফেলতে পারবেন? মনে হয় না।

তবে পাকিস্তানের বিপর্যয় থেকে অন্যান্য দেশেরও শিক্ষা নেওয়ার আছে। নিজের দেশের অর্থনীতিকে মজবুত না করে যারা প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে শত্রুতা করতে যায়, ভবিষ্যতে তাদের অবস্থাও পাকিস্তানের মতোই হবে। যুদ্ধোন্মাদনা সৃষ্টি করে দেশের নাগরিকদের একাংশের সমর্থন পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু আখেরে তাতে দেশের মঙ্গল হয় না।

মোদী: সম্পদ ও বোঝা


```