
শেষ আপডেট: 4 April 2020 16:22
বইটির কিছু বাছাই করা প্রশ্নোত্তর এখানে তুলে দিচ্ছি--
প্রঃ বিবাহ কী এবং কেন?
উঃ বিবাহ হইল সমাজকে কলুষমুক্ত রাখিবার উপায়। ইহার দ্বারা পুরুষগণ নিজেদের চরিত্রবান রাখিতে পারে। বংশবিস্তারের জন্যই বিবাহ করা হইয়া থাকে।
প্রঃ পাত্রী নির্বাচনে কী কী বিষয় লক্ষ্য রাখিবেন?
উঃ সৌন্দর্য্য ও স্বাস্থ্য (পণ নেওয়া মহা অপরাধ। সে অপরাধে নিজেকে জড়াইবেন কিনা তাহা পিতার উপরে ছাড়িয়া দিবেন। বিদ্রোহ করিলে এ জীবনে বিবাহ নাও হইতে পারে)। এছাড়া পাত্রীপক্ষের ঘরদোর, আসবাবপত্রাদি দেখিতে থাকিবেন। পারিলে গোয়ালঘরে যাইয়া গরুটাকেও দেখিয়া লইবেন।
প্রঃ কীরূপ পরিবার আদর্শ শ্বশুরবাড়ি হইতে পারে?
উঃ বড় পরিবার। যাহাদের হাঁড়ি ভাগ হয় নাই, এরকম পরিবার পাইলে আপনি ভাগ্যবান। হাঁড়ি ভাগ না হওয়ার অর্থ আভ্যন্তরীণ মন কষাকষির তীব্রতা কম। হেঁশেল ভাগ হওয়া পরিবারে বিবাহ হইলে প্রথমদিন হইতেই পদে পদে আপনাকে অন্যান্য জামাতাবৃন্দের সহিত তুলনা করা হইবে এবং পক্ষপাতদুষ্ট বিচারের সম্মুখীন হইতে হইবে।
প্রঃ শ্বশুরালয়ের সহিত কীরূপ সম্পর্ক রাখা উচিত?
উঃ বৎসরে একটিবার, জামাইষষ্ঠীর তিথিতে দুই দিন অতিবাহিত করা সবচেয়ে শ্রেয়। এছাড়া পূজাপার্বণ ও অন্যান্য সময়ে পত্রে কর্ত্তব্য সারিবেন। শ্যালিকার বিবাহে অতিরিক্ত উৎসাহ না দেখানোই উত্তম।
প্রঃ শ্যালকবৃন্দের সহিত সম্পর্ক কীরকম হওয়া উচিত?
উঃ বড় পরিবারে অনেক পিতৃতুল্য শ্যালক পাইবেন। তাহাদের মাত্রাতিরিক্ত সম্ভ্রম প্রদর্শন করিবেন। মনে রাখিবেন ইহারা সমগ্র পরিবারে আপনার গুণকীর্ত্তন করিবেন। যদি না করেন, অর্থাৎ উল্টা ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উল্টা ফল অবশ্যম্ভাবী। তবে সাবধান, শ্যালকজায়াদের কখনওই মাতৃরূপে দেখিবেন না। তাহাতে তাহারা রুষ্ট হইতে পারেন। বয়স যাহাই হউক শ্যালকজায়াগণ লঘু হইতে আকাঙ্ক্ষা করিবেন। এবং আপনি নিজ উদ্যোগে বারে বারে তাহাদের ঠাট্টাতামাশায় পরাজয় স্বীকার করিয়া লইবেন। বয়সে সামান্য ছোট শ্যালকদের নিজ বুদ্ধিমতো হাতে রাখিবেন। স্ত্রীর নিকট হইতে কিছু আদায়ের ব্যাপারে ইহারা ভীষণ কার্যকরী।
প্রঃ পিস শ্বশুর, মাস শ্বশুর, মামা শ্বশুরের সহিত কীরূপ ব্যবহার করিবেন?
উঃ আগের প্রশ্নের অনুরূপ। মনে রাখিবেন এই শাশুড়িবৃন্দ আপনার খুঁত ধরিবার জন্য সচেষ্ট ও সদাজাগ্রত থাকিবেন। তাই ইহাদের সহিত আপন শাশুড়িতুল্য ব্যবহারই কাম্য।
প্রঃ শ্যালিকাদের সহিত ব্যবহার কেমন হইবে?
উঃ সর্বাপেক্ষা জটিল প্রশ্ন। ‘কীসে কী হইবে’ কেহ বলিতে পারে না। তবে কয়েকটি সাবধানতা অবলম্বন করা যাইতে পারে। যেমন--
১) সবচেয়ে দূরবর্তী সম্পর্কের শ্যালিকার সহিত সবচাইতে তরল হইবেন।
২) স্ত্রীর আপন ভগিনীদিগের মধ্যে যাহারা বড়, তাহাদের নিকট পোষ্যের মতো থাকিবেন। যেন আপনি জন্মিয়াছেন কেবল তাহাদের দ্বারা বশীভূত হইতেই।
৩) যাহারা ছোট ও বিবাহযোগ্যা তাহাদের দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাইবেন। এই দৃষ্টি স্ত্রীর সম্মুখে একরূপ ও একান্তে অন্যরকম হওয়াই কাম্য।
৪) যাহারা শিশু ও বাড়ন্ত, তাহাদিগকে লইয়া হুল্লোড়ে মাতিবেন। তবে ইহারা আপনার অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হইতে পারে, সেদিকে সজাগ থাকিবেন।
প্রঃ শ্বশুর ও শাশুড়িমাতার সহিত কীরূপ ব্যবহার করিবেন?
উঃ শাশুড়িমাতাকে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ‘মা’ ‘মা’ বলিয়া ডাকিবেন। তাহাতে তিনি বিশেষ প্রীত হইবেন। তবে এই ডাক যেন কেবল বাগাড়ম্বর হয়, অন্তরাত্মার আকুতি না হয়। না হইলে তিনি পাইয়া বসিবেন এবং আপন মাতা ক্ষুন্ন হইবেন।
শ্বশুর মহাশয়কে মনে করিবেন অদ্যাবধি ফলাফল না বের হওয়া একখানি লটারীর টিকেট। যত্নে রাখিবেন।
প্রথম পরিচ্ছদ সমাপ্ত
প্রঃ স্ত্রী রাগিয়া গেলে কর্ত্তব্য কী?
উঃ কোনও কর্ত্তব্য নাই। চুপ করিয়া থাকাই শ্রেয়। রাগের কারণ জানিতে চাহিবেন না, তাহা ঘৃতাহুতির কাজ করিবে।
প্রঃ স্ত্রী যদি ক্রোধে উন্মত্ত হইয়া থালাবাটি ছুড়িতে থাকে, কী করিবেন?
উঃ এক্ষেত্রেও কিছুই করিবেন না। লক্ষ্য করিবেন, স্ত্রী যদি ভাঙাচোরা প্রায় বাতিল বাসনাদি নিক্ষেপ করিতেছে, বুঝিবেন এ ক্রোধ তাহার পূর্বপরিকল্পিত। নিজ হইতে যাচিয়া সেই পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিবেন না। কিন্তু যদি দামি জিনিসপত্রের দিকে হাত বাড়াইতে থাকে, অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করিয়া সটান তাহার পায়ে পড়িবেন।
প্রঃ স্ত্রীকে খুশি করিতে কি সাংসারিক কাজে সাহায্য করিবেন?
উঃ কখনওই নহে। মনে রাখিবেন, পৃথিবীর কোনও স্ত্রী এ যাবৎ কোনও স্বামীর সাংসারিক ক্রিয়াকর্মে সন্তুষ্ট হয় নাই। তাহারা উদয়াস্ত পরিশ্রম করিয়া যাইবেন এবং দু’বেলা বিলাপ করিবেন, ‘এ আমার কোথায় বিবাহ হইল...।’ ইহাই তাহাদের সর্ব্বোৎকৃষ্ট বিনোদন।
প্রঃ বাহিরের কথা স্ত্রীদের কী বলা উচিত?
উঃ সাজাইয়া বলিবেন। যাহা ঘটিয়াছে তাহাই বলিলে সংসারে অশান্তি অবশ্যম্ভাবী। এবং নিজ সম্পর্কে সাতকাহন করিয়া, আস্ফালন করিয়া কিছু না বলাই শ্রেয়। মনে রাখিবেন স্ত্রীজাতির মগজে একটি ভগবানপ্রদত্ত ছাঁকনি রহিয়াছে। আপনার আস্ফালন সেই ছাঁকনিতে আটকাইয়া যাইবে। মাত্র ছ’মাস সংসার করিলেই যেকোনও স্ত্রী আপনাকে আপনার চেয়েও ভাল বুঝিবে।
প্রঃ শয্যায় স্ত্রীকে দিয়া পদযুগল সেবা করানো উচিত?
উঃ উচিত অনুচিতের প্রশ্ন নহে। ইহা যুগ যুগ ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে। বাধা দেওয়া মূর্খামির লক্ষণ। স্ত্রীগণের ইহা অধিকার এবং শৃঙ্গারের প্রথম ধাপ। বাধা দিলে ফল ভাল হইবে না। তবে আজকাল উল্টাও হইতেছে।
প্রঃ চুম্বন ও আনুষঙ্গিক ক্রিয়াকর্মের আদর্শ সময় কখন?
উঃ একান্নবর্তী পরিবার হইলে রাত দুইটা। তাহার আগে পর্যন্ত কেহ না কেহ আপনার দরজায় আড়ি পাতিবেই। এবং তাহারা সবাই বয়স্য। সামান্যতম ইশারা পাইলে ইহারা সারারাত দরজার বাহিরে কাটাইয়া দিতে প্রস্তুত।
প্রঃ দাম্পত্যে পুরুষদিগের স্বাধীনতা কতখানি?
উঃ একেবারেই নাই। যত তাড়াতাড়ি কথাখানা হৃদয়ঙ্গম করিবেন, ততই আপনি সফল স্বামী হইতে পারিবেন। মনে রাখিবেন, স্ত্রী গৃহকোণে স্থির, আপনি তাহাকে কেন্দ্র করিয়া পৃথিবীর মতো ঘুরিতেছেন আপন হিতে। ‘স্ত্রীজাতি পরাধীন এবং আপনি স্বাধীন’-- ইহা আপনাকে খাটাইয়া লইবার জন্য একটি লবেনচুস ভিন্ন কিছু নহে।
তবে একথাও সত্য, স্ত্রী সুখী না হইলে আপন পৌরুষত্ব ফলাইবেন কোথায়!
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই হ্যান্ডবুকটি পঁচাশি বছরের পুরনো। তাই এখন কার্যকরী নয়। তবে একটু ঝাঁকিয়ে নিয়ে সারসত্যটুকু বের করে আনতে পারলে তা দম্পতিদের ইমিউন বাড়াতে হয়তো সাহায্য করবে।
এবং দাম্পত্য বিষয়ে এর চেয়ে অতিরিক্ত, অযাচিত, জটিল ও কুটিল প্রশ্ন মানসাকাশে উদিত হতে দেওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর বলে জানবেন।
আরও পড়ুন...
বিজ্ঞাপন লাইভ
সিনিয়র সিটিজেন
প্রেমপত্র
স্বাস্থ্যবিধি